বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) টাকা পয়সা নিয়ে বিতর্ক শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ানোর পরিস্থিতিই তৈরি হয়ে গেল। না, খেলোয়াড়রা কেউ টাকার দাবিতে আদালতে যাচ্ছেন না। বরং দূরন্ত রাজশাহী দলের মালিক মুশফিকুর রহমান মোহন ঘোষণা দিয়েছেন, তার বিপক্ষে টাকা পাওনার ‘অসত্য দাবি’ প্রত্যাহার না করলে জাতীয় দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের বিপক্ষে মানহানির মামলা করবেন তিনি!
বিপিএলে পাওনা টাকা না পাওয়ার অভিযোগ নানা পক্ষ থেকে নানাভাবে চলছেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠন নানা ভাষায় নানা সময় বলেছে, বিদেশি ক্রিকেটাররা প্রথম আসরের টাকা এখনও সব পাননি। দেশি ক্রিকেটাররা শুরুতে মুখ না খুললেও একে একে দাবির কথা জানাচ্ছেন। তামিম ইকবাল, নাসির হোসেন জানিয়েছেন, তারা এখনও যার যার দলের কাছে বিপুল টাকা পান। সেই ধারাবাহিকতায় গত পরশু সাংবাদিকদের কাছে মুশফিকুর বেশ উত্তেজিত ভাবেই জানান, তিনি এখনও তার আগের দল দূরন্ত রাজশাহীর কাছে এক লাখ ডলার পান। মুশফিকুরকে একটি ইংরেজি দৈনিক এভাবে উদ্ধৃত করেছে, ‘আমার ২ লাখ ১০ হাজার ডলার পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমি পেয়েছি এক লাখ ১০ হাজার ডলার। আপনারা ওনাকে (মুশফিকুর রহমান মোহন) একটু জিজ্ঞেস করতে পারেন, ঠিক কিভাবে আমি টাকাটা চাইতে পারি?’
এই কথায় স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এই প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে মোহন কাল কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমকে ডেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, এই দাবির কোনো সত্যতা নেই। মোহনের ব্যাখ্যা হল, আইকন খেলোয়াড়দের প্রাথমিক পাওনা ২ লাখ ১০ হাজার ছিল ঠিকই; পরে সেটা বিসিবি কমিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার ডলার করে। ফলে তাদের পক্ষ থেকে পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি বলছিলেন, ‘আমি বস্তায় করে টাকা দেইনি। বৈধ টাকা চেকের মাধ্যমে শোধ করেছি। চাইলে আপনাকে প্রমাণ দেখাতে পারব। আর ওর যে এটাই পাওনা, তাও বিসিবিই ঠিক করে দিয়েছে।’
এ ব্যাপারে বিপিএলের কমিটি অবশ্য শুরু থেকেই নানারকম বিভ্রান্তি তৈরি করে আসছে। প্রথম বলা হয়েছিল, আইকন খেলোয়াড়রা দেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা পাওয়া খেলোয়াড়ের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি পারিশ্রমিক পাবেন। পরে এ আইন থেকে সরে আসে বিপিএল। পরে আইকন খেলোয়াড়দের পাওনা এক লাখ ১০ হাজার ডলার নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। আর এই তথ্য নাকি আইকন খেলোয়াড়দের বিপিএলের তত্কালীন গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন লিপু নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন। এ হিসেবে মুশফিকের আসলেই রাজশাহীর কাছে কোনো পাওনা থাকে না।
তাই এখন দফায় দফায় পাওনা থাকার কথা বলায় মানহানির মামলা করার উদ্যোগ নিচ্ছেন মোহন। তিনি বলছিলেন, ‘আমি ক্রিকেটারদের সবার ওপরে রাখি। ক্রিকেটকে ভালো বেসেই কোটি কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছি প্রতি বছর। সে এর আগেও একবার এরকম দাবির কথা বলেছে। আমি কিছু বলিনি। কারণ, ক্রিকেটারদের আমি প্রচণ্ড শ্রদ্ধা করি। আমি তাদের সঙ্গে বিতর্কে জড়াতে চাই না। আবার সে এই দাবিটা করছে। আর তার দাবিতে মানুষের কাছে আমি প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছি। আমি ঘরের টাকা খরচ করে এভাবে প্রতারক কেন সাজব? আমি পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, ও দাবিটা নিশর্তভাবে তুলে না নিলে আমি ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করবো।’
মুশফিকুর এই মামলার হুমকির প্রতিক্রিয়ায় কি বলছেন, সেটা জানা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াল। সারাদিন তার ব্যক্তিগত সবগুলো ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেল। তবে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে নিজের দাবির প্রতি অটল থাকার কথা জানিয়ে দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। সে ক্ষেত্রে আদালতেই সমাধান হবে!
