চ্যানেল আই
দেখতে দেখতে চ্যানেল আই চৌদ্দ বছরে পা রেখেছে। বাংলা ভাষার প্রথম ডিজিটাল বাংলা চ্যানেল হিসেবে চ্যানেল আই শুধু টেলিভিশন কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। পেছনের তেরটি বছরে খবর, বিনোদন, শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে বিভিন্নমুখি তত্পরতার মধ্য দিয়ে চ্যানেল আই এ দেশের তথ্য, সংবাদ ও সার্বিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একটি বড় প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে। চ্যানেল আই এখন বিশ্বময় বাঙালির দেশাত্ববোধ ও চেতনার এক বাতিঘর। একের পর এক উদ্ভাবনী তত্পরতা, নতুনত্ব, অভিনবত্ব ও জনকল্যাণমুখি কার্যক্রম দিয়ে চ্যানেল আই ছুঁয়েছে কোটি বাঙালির অন্তর। আজ যেখানে বাংলা সংস্কৃতি, যেখানে বাংলা ভাষা, সেখানেই চ্যানেল আইয়ের সরব উপস্থিতি। গত ১ অক্টোবর চ্যানেল আই চৌদ্দ বছরে পদার্পণ করে। ‘হূদয়ে বাংলাদেশ’ চেতনা নিয়ে পথচলার বারো বছরে সৃজনশীলতা ও গৌরবের প্রশ্নে অনন্য পরিচয় নিয়ে দাঁড়িয়েছে চ্যানেল আই। তাই পথচলার প্রথম উচ্চারণ ‘হূদয়ে বাংলাদেশ’ অনেক আগেই ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর সবক’টি মহাদেশে বিশ্বভরা বাঙালির মাঝে। মানসম্মত নাটক ও অনুষ্ঠানমালা দিয়ে এ চ্যানেলটি বরাবরই দর্শকহূদয় জয় করেছে। এ বছর তাদের প্রচারিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো—রাবেয়া খাতুনের ‘বায়ান্ন গলির এক গলি’, ‘নূরজাহান’, ‘কোমল বিবির অতিথিশালা ও কানা সিরাজুদ্দৌলা’, ‘অবগুণ্ঠন’, ‘আজ কিছু হতে চলেছে’, ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ ‘ছুটির দিন এবং একটি নীল নকশা’ প্রভৃতি। এরমধ্যে খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ধারাবাহিক নাটক ‘বায়ান্ন গলির এক গলি’ ছিল অনন্য। যার নাট্যরূপ দিয়েছেন বৃন্দাবন দাস ও গিয়াস উদ্দিন সেলিম। ধারাবাহিকটি পরিচালনা করেছেন সাইদুল আনাম টুটুল। এ ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, খালেদা আক্তার কল্পনা, রাইসুল ইসলাম আসাদ, তানিয়া আহমেদ, ফাহমিদা হক কলি, ম.ম. আলী, আহমেদ রুবেল, আঁখি প্রমুখ। ধারাবাহিকটি প্রচার হয় প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার রাত ৭টা ৫০ মিনিটে।
এটিএন বাংলা
বেসরকারি এই চ্যানেলটি বরাবরই অনুষ্ঠান ও নাটকের মানের দিকে সচেতন। এ বছর তাদের প্রচারিত অনুষ্ঠাগুলোর মধ্যে ছিল টক শো ‘অন্যদৃষ্টি’, ‘এটিএন বিজনেস অ্যান্ড ফিন্যান্স’, খেলাধুলা নিয়ে অনুষ্ঠান ‘ভিশন ২০২০’, ‘বাংলার বীর’, ‘মতামত’, টকশো ‘যে কথা কেউ বলেনি’, কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘মাটির সুবাস’, ফ্যাশন ও রূপচর্চা বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘আয়নার সামনে’, সংবাদ পর্যালোচনামূলক টকশো ‘গ্রামীণফোন লিড নিউজ’ প্রভৃতি। এ ছাড়া প্রচারিত হয়েছে ডাবিংকৃত টিভি সিরিয়াল ‘আলাদিন’ এবং ধারাবাহিক নাটক ‘পৌষ ফাগুনের পালা’, ‘পিপিলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে’, ‘ঝুলন্ত বাবুরা’, ‘বৈরী বাতাস’, ‘ডিবি’, ‘উত্তরাধিকার’, ‘চাঁদ ফুল অমাবশ্যা’ প্রভৃতি। এরমধ্যে অয়ন চৌধুরী রচিত ও কবীর বাবুর পরিচালিত ‘ঝুলন্ত বাবুরা’ নাটকটি দর্শকদের মন কাড়ে বেশি। এই নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, শর্মিলী আহমেদ, মামুনুর রশীদ, মোশারফ করিম, নাফিজা, চঞ্চল চৌধুরী, ফজলুর রহমান বাবু, আ খ ম হাসান, ডা. এজাজ, জয়রাজ, হুমায়রা হিমু, আলভি, জুঁই করিম, শামীম জামান, আমানুল হক হেলাল, সঞ্জীব আহমেদ, শামীম আল মামুনসহ আরও অনেকে। গল্পে দেখা যায়, মোহর আলী ও কহিনূর বেগমের এক মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়ে বড় এবং ছেলে ছোট। মেয়ে বকুলের বিয়ে হয়ে গেছে আর ছেলে বাবুর অস্থির প্রকৃতির কারণে কোনো কাজই সহজে হয় না। যেমন, দুইবার বিএ পরীক্ষা দিয়ে ফেল, তৃতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে ইংরেজিতে রেপার্ড পেয়েছিল; পরিচিত একজনের মাধ্যমে চাকরি হবে হবে বলে হচ্ছে না; প্রেমের বিষয় নিয়েও হূদয়ে ভাঙচুর অবস্থা। কারণ কলেজপড়ুয়া তিথি বিভিন্ন শর্ত দিয়ে প্রেম ঝুলিয়ে রেখেছে তাকে। এ সবকিছু মিলে বাবুর সকল কার্যক্রমই নাকের ডগায় ঝুলন্ত। তাই তার নাম ঝুলন্ত বাবু। কিন্তু অন্য কারও কোনো প্রয়োজনে সে তার যথাসাধ্য দিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করে। মোহর আলী চিন্তাহীন মানুষ। তার কাছে চিন্তা করা মানে নতুন চিন্তাকে স্বাগত জানানো। তাই চিন্তা করার চাইতে বাড়িতে বসে তাস দিয়ে প্যাশেন্স খেলা ভালো। এতে বুদ্ধি শাণিত হয়। কহিনূর বেগম মায়ের মমতা দিয়ে সংসারের সব সমস্যা সমাধান করতে চায় কিন্তু পরিবার নিয়ন্ত্রণ করা কি সহজ কাজ? সেই পরিবারে যদি থাকে এমন সব চরিত্রের মানুষজন তাহলেতো কথাই নেই! এসব নিয়ে নানাবিধ চিন্তায় চিন্তিত কহিনূর বেগম। হঠাত্ একদিন মোহর আলী, আনার নামে এক দৈবশক্তিধারী দরবেশকে বাড়ি নিয়ে এসে আশ্রয় দেয়। আনারের কাজ তার দৈবশক্তির বলে মোহরের সংসারে তথা গ্রামের উন্নয়ন সাধন করা। এভাবেই এগিয়ে চলে নাটকের কাহিনী। এ ছাড়া প্রচারিত হয়েছে এক খণ্ডের নাটক ‘পাকা কথা পাকা নয়’, ‘চিঠি’, ‘নায়িকার খোঁজে’ প্রভৃতি।
এনটিভি
এই বেসরকারি চ্যানেলটি তাদের মানসম্মত অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে সব সময়ই দর্শকদের মন কাড়তে সক্ষম হয়েছে। এ বছর তাদের উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান। রবীন্দ্র সরোবর থেকে তারা সরাসরি সম্প্রচারিত করে ‘জাতীয় বসন্ত উত্সব’। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে তারা প্রচার করে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ভালোবাসা মিলনে বিরহে’। এ অনুষ্ঠানে এলিটার সঞ্চালনায় তারকা দম্পতি বাপ্পা মজুমদার ও চাঁদনী এবং দুইজন তারকা শিল্পী হূদয় খান ও লাক্সতারকা মুনমুন পরস্পর ভালোবাসা সর্ম্পকিত বিভিন্ন বিষয়ে মত বিনিময় করেছেন এবং ভালোবাসার গান পরিবেশন করেছেন। অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও প্রযোজনায় ছিলেন হাসান ইউসুফ খান। এ ছাড়া সরাসরি সম্প্রচারিত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘কেমন বাজেট চাই’ দর্শকদের মন কেড়েছে। ১০ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে এনটিভি’র নিজস্ব অনুষ্ঠানমালায় বেশকিছু পরিবর্তন ছিল। বেশকিছু নতুন অনুষ্ঠান প্রচার করে তারা। এর মধ্যে কমেডি শো ‘দ্য নাভিদ মাহবুব শো’, ‘বিজ টাইম’, ‘হ্যালো এক্সিলেন্সি’, ‘সাই-টেক ওয়াচ’, ‘এ সপ্তাহের বিশ্ব’, ‘আক্কেলগুড়ুম’, কমেডি শো ‘হা শো’ প্রভৃতি। এ বছর তাদের প্রচারিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো—‘চৌধুরী ভিলা’, ‘দিনের শেষে’, ‘কাগজের বাড়ি’, ‘৯৯ সাহেব আলী লেন’, ‘ফাঁদ ও বগার গল্প’ উল্লেখযোগ্য। এরমধ্যে নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘৯৯ সাহেব আলী লেন’ দর্শকদের মন কেড়েছে। নাটকটি প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে প্রচার হয়। নিজের লেখা মূল উপন্যাস ‘কানাগলির মানুষেরা’ অবলম্বনে নাটকটির চিত্রনাট্য রচনা করেছেন ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। নাটকটি পরিচালনা করেছেন জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব। এতে অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, মিতা চৌধুরী, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, সাবেরি আলম, মাসুদ আলী খান, আফরোজা বানু, মীর সাব্বির, শর্মীমালা, রওনক হাসান, অর্শা, আসিফ, মুনমুন, আহমেদ রুবেল, ড. ইনামুল হক, কেয়া চৌধুরী, শাহ আলম দুলাল, এস এম মহসিন, শিরিন আলম, খায়রুল আলম সবুজ, কাজী উজ্জ্বল, সাবিহা জামান, কেরামত মাওলা, আহসান কবিরসহ আরও অনেকে।
বাংলাভিশন
প্রতি বছরের মতো ২০১২ সালেও বছরজুড়ে দর্শকদের চাহিদা অনুযায়ী খ্যাতনামা পরিচালক ও নির্মাতাদের পাশাপাশি নবীনদের নির্মিত বিভিন্ন নাটক, টেলিফিল্ম ও অনুষ্ঠান প্রচার করেছে এই বেসরকারি চ্যানেলটি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে—‘হাড়কিপ্টে’, ‘লংমার্চ’, ‘লেডিস ফার্স্ট’, ‘গুলশান এভিনিউ’। এরমধ্যে এক ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের ধারাবাহিক ‘লংমার্চ’ সবচেয়ে কাছে টানে দর্শকদের। একটা ব্যতিক্রমী অফিসকে ঘিরে গল্পটি সাজানো হয়েছে। এই অফিসটি প্রতিভাধর মানুষের সন্ধান করে। এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়াও অদ্ভুত। নানা অনুসন্ধান করে তারা খুঁজে পায় মোশাররফ করিমসহ আরও অনেক প্রতিভাবান মানুষদের। নানা রকম হাসির ঘটনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় নাটক ‘লংমার্চ’।’
সপ্তাহের প্রতি রবি ও সোমবার রাত ৯টা ০৫ মিনিটে প্রচারিত হয় নাটকটি। তবে প্রচলিত ধরনে নয়। লম্বা ধারাবাহিক নাটক ‘লংমার্চ’, প্রতিটি পর্ব প্রচারিত হচ্ছে এক ঘণ্টা মাপে। মাসুদ সেজানের রচনা ও পরিচালনায় নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, নুশরাত ইমরোজ তিশা, আখম হাসান, চাঁদনী, ডা. এজাজ, রুনা খান, ড. ইনামুল হক, শাহনাজ খুশি, মাসুম আজিজ, শিরিন আলম, মিশু সাব্বির, আনিসুল হক বরুন, অশোক বেপারী, আইরিন তানি, তারিক স্বপন, বাবর, মাসুদ রানা মিঠু, মিলন ভট্ট, সমাপ্তি মাসুক প্রমুখ। বিশেষ দিবসের নাটকের মধ্যে আরমান ভাইয়ের দুটি সিক্যুয়াল প্রচারিত হয়েছে। ঈদুল ফিতরে ‘আরমান ভাই হাউজ হাজব্যান্ড’ ও ঈদুল আজহায় ‘আরমান ভাই হানিমুনে’ প্রচারিত হয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল ড্যান্স রিয়েলিটি শো ‘ম্যাঙ্গোলি নাচো বাংলাদেশ নাচো’, আফসানা মিমির উপস্থাপনায় ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান ‘মনের কথা’, শাফিন আহমেদ ও শারমিন লাকির উপস্থাপনায় ‘গান ও ফান’, সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরীর উপস্থাপনায় সমসাময়িক রাজনীতি ও দেশ-বিদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনামূলক সরাসরি অনুষ্ঠান ‘ফ্রন্ট লাইন’, যা এ বছর দর্শকদের নজর কেড়েছে।
একুশে টেলিভিশন
দেশের সর্বপ্রথম টেরিস্টোরিয়াল চ্যানেল একুশে টেলিভিশনে ২০১২ সালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইন হাউজ প্রোগ্রাম, এক ঘণ্টার নাটক, টেলিফিল্ম, ধারাবাহিক নাটক এবং বাংলা চলচ্চিত্র প্রচারিত হয়েছে। নাটক, টেলিফিল্ম এবং চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ইন হাউজ অনুষ্ঠানগুলোও দর্শক আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে ‘মিডিয়া গসিপ’, ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’, ‘অতঃপর আমি’, ‘জীবন বৃত্তে’, ‘টমি মিয়ার রেসিপি’, ‘চার্জশিট রিপোর্ট’, ‘একুশের চোখ’, ‘নীল পায়রার গান’, ‘বাউলা অন্তর’, ‘দেশ জুড়ে অপরাধ পরিক্রমা’, ‘সিনে হিটস’ দর্শক হূদয়ে দাগ কাটতে সক্ষম হয়। এরমধ্যে নিত্য দিনে ঘটে যাওয়া সেলিব্রেটি জগতের চমকপ্রদ খবরাখবর নিয়ে পুরো বছরজুড়েই দর্শকদের ভিন্ন স্বাদের খবর পরিবেশন করার চেষ্টা ছিল ‘মিডিয়া গসিপ’-এ। তানভীর তারেকের উপস্থাপনায় এবং ইসরাফিল শাহিনের প্রযোজনায় মিডিয়া গসিপের হট সিটে এসেছিলেন দেশের সেরা সব সেলিব্রেটি। এ একুশে টেলিভিশনে আবারও মজাদার এবং স্বাস্থ্যসম্মত রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছেন টমি মিয়া। সিলভানা সাদিয়ার উপস্থাপনায় এবং প্রযোজনায় ‘অলইটালিয়া টমি মিয়া’স রেসিপি’ প্রচার হয় প্রতি সোমবার রাত ৭টা ৫০ মিনিটে। সেইসাথে একুশে টেলিভিশনের নতুন প্রান্তিকের নাটক ‘চার্জশিট রিপোর্ট’। নাটকটির প্রতিটি পর্বেই তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর একেকটি ঘটনা। আর এই ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে নাটকের মধ্য দিয়ে। যা এ বছর দর্শক হূদয়ে দাগ কাটতে সমর্থ হয়েছে। ২০১২ সালে একঘণ্টার নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘সহযাত্রী, ‘প্রজাপতির রং’, ‘ভালোবাসার রোদ বৃষ্টি’, ‘বিয়ে করব স্পন্সর চাই’, ‘লাভ রশিদ’, ‘মা’, ‘নন্দিনী উপাখ্যান’। টেলিফিল্মের মধ্যে ‘নিঃশব্দ মৃত্যু’, ‘আজ রমার বিয়ে’, ‘ব্যাডলাক’ এবং ‘জান্নাত এক্সপ্রেস’ ছিল দর্শকদের পছন্দের শীর্ষে। এ ছাড়া বছরজুড়ে ধারাবাহিক নাটক ‘কামিনী’, ‘ভোমড়াদাহ কলেজ’, ‘সাক্ষী দুর্বল’, ‘ঢোল’, ‘অহংকার’ নাটকগুলো ছিল উল্লেখ করার মতো। সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘ফোন লাইভ স্টুডিও কনসার্ট’, ‘সোনামণির সুখে অসুখে’, ‘তবুও বাঁধন’, ‘একুশের রাত’, ‘একুশের দুপুর’ ও ‘একুশের সন্ধ্যা’ নন্দিত হয়েছে দর্শকের কাছে।
আরটিভি
এই বেসরকারি চ্যানেলটি এ বছর মানসম্মত কিছু নাটক ও অনুষ্ঠান দিয়ে নিজেদের অবস্থান আগের জায়গায় ধরে রাখতে চেষ্টা করেছে। এ বছর অরটিভিতে প্রচারিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো—‘তেল বাজ’, ‘দিগন্তে’, ‘ইল্যুউশন’, ‘তপ্ত বালিয়াড়ি’, ‘একটি বিশেষ ঘোষণা’, ‘বানিয়ে বলা গল্প’, ‘সার্কেল’ প্রভৃতি। এরমধ্যে লায়লা আফরোজের রচনা ও আকরাম খানের পরিচালনায় ‘তপ্ত বালিয়াড়ি’ নাটকটি দর্শকদের মন কেড়েছে। এই নাটকে অভিনয় করেছেন মাহফুজ আহমেদ, জয়া আহসান, আদনান, ফারহানা ইসলাম মিঠুসহ আরও অনেকে।
বৈশাখী টেলিভিশন
এই বেসরকারি চ্যানেলটি এ বছর বেশকিছু নতুন অনুষ্ঠান যোগ করে নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে চেষ্টা করেছে। এবারে তাদের প্রধান আকর্ষণ ছিল ডেইলি সোপ ‘অগ্নিপথ’ ও ‘বড় বাড়ির ছোট বউ’। শ্যামল ভাদুড়ি ও রশীদ ইকবালের রচনায় ‘অগ্নিপথ’ পরিচালনা করছেন তন্ময় তানসেন। এতে অভিনয় করছেন নিমা রহমান, সীমানা, মৌসুমী নাগ, রওনক হাসান, শোয়েব, জ্যোতিকা জ্যোতি, হাসান ইমাম, আফরোজা বানুসহ আরও অনেকে। রবি থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে প্রচারিত হয় এই ডেইলি সোপটি। নিজস্ব প্রযোজনায় নতুনভাবে শুরু হয় ১৩টি অনুষ্ঠান। এর মধ্যে লাইফ স্টাইল বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘লাইফ স্টাইল’, ‘গ্ল্যামার গাইড’, ‘ফ্যাশন হাট’, ফারহানা নিশোর উপস্থাপনায় ‘আমরা দুটি কেমন জুটি’ ও ‘সময় কাটুক গানে গানে’, শিশুদের জন্য ছিল শিশুতোষ চলচ্চিত্র বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘আলোছায়ার খেলা’। ঈদুল ফিতরের অনুষ্ঠানমালার সবচেয়ে বড় চমক ছিল ‘তোমার গল্পে সবার ঈদ’। নতুন নাট্যকার অন্বেষণের লক্ষ্যে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর উদ্যোগে গল্প আহ্বান করা হয়। প্রায় ছয় হাজারের বেশি গল্প থেকে বাছাইকৃত সেরা ৭টি গল্প থেকে নাটক নির্মিত ও প্রচারিত হয়। নাটকগুলো নির্মাণ করেন দেশের প্রথিতযশা সাত নির্মাতা—আশরাফুল আলম রিপন, অঞ্জন আইচ, মাতিয়া বানু শুকু, সাজ্জাদ আহমেদ দোদুল, তুহিন অবন্ত, গোলাম সোহরাব দোদুল। এরমধ্যে ঈদুল ফিতরে ‘হাঁটাবাবা রিটার্ন ’ নাটকটি দর্শকদের মন কাড়ে। পলাশ মাহবুবের রচনা ও হাসান মোর্শেদ পরিচালিত এই ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন—জাহিদ হোসেন শোভন, মোশাররফ করিম, বিন্দু, আরফান, সাজু খাদেম, আহসান কবির প্রমুখ। ঈদুল আজহায় পলাশ মাহবুবের রচনা ও হাসান মোরশেদের পরিচালনায় বৈশাখী টেলিভিশনে প্রচারিত হয় ৬ পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘বাটি চালান’। এতে অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারি মম, ফারুক আহমেদ, ম.ম. মোর্শেদ, আমিরুল হক চৌধুরী, বাবর, শামীমা নাজনীন, হেলাল। এ ছাড়া জাহিদ হোসেন শোভন এ বছরের দুই ঈদে দুটি ফিউশন যাত্রাপালা নির্মাণ করে লাইম লাইটে আসেন। ঈদুল ফিতরে নির্মাণ করেন যাত্রাপালা ‘এ কালের রূপবান’ এবং ঈদুল আজহায় নির্মাণ করেন যাত্রাপালা ‘বেদের মেয়ে জোসনা ডট কম’।
জিটিভি
এই বেসরকারি চ্যানেলটি সম্প্রচারে আসে চলতি বছরের ১২ জুন। সম্প্রচারে আসার পর পরই চ্যানেলটি বেশ কিছু ভালো নাটক এবং অনুষ্ঠান দর্শকদের উপহার দেয়। এরমধ্যে জিটিভির ইন হাউজ অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল—তানিয়া আহমেদের উপস্থাপনায় ও উষ্ণীষ চক্রবর্তীর প্রযোজনায় নারীদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতামূলক গেম শো ‘আজকের অনন্যা’, লিটন হাফিজের প্রযোজনায় তরুণ প্রজন্মের সমসাময়ীক ভাবনা নিয়ে অনুষ্ঠান ‘আগামীর ভাবনা’, নজরুল ইসলাম খানের প্রযোজনায় সংগীত শিল্পীদের বায়োগ্রাফিক্যাল সংগীতানুষ্ঠান ‘হারমনি’, অনন্ত জাহিদের প্রযোজনায় মন ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান ‘ঘর মন জানালা’ দর্শকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়। এ চ্যানেলে প্রচারিত একক নাটকের মধ্যে যেসব নাটক আলোচনায় এসেছে তার মধ্যে নুরুল আলম আতিকের রচনা ও পরিচালনায় ‘হিম গিরিতে ঝরা পালক’ ও ‘নোলক’, আশরাফুল চঞ্চলের রচনা ও সালাউদ্দিন লাভলুর পরিচালনায় নাটক ‘ফোঁড়া’, ইমরাউল রাফাতের রচনা ও পরিচালনায় ‘মেইড ইন চিটাগাং’, মাতিয়া বানু শুকুর রচনা ও পরিচালনায় ‘গেস্টরুম’ অন্যতম। এ ছাড়া ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে ছিল বৃন্দাবন দাসের রচনা ও সৈয়দ শাকিলের পরিচালনায় ‘বাঘা-শের’, শ্যামল ভাদুরীর রচনা ও শাহাদাত হোসেন সুজনের পরিচালনায় ডেইলি সোপ ‘জননী’, মাসুম রেজার রচনা ও জাহিদ হাসানের পরিচালনায় ‘সুইট মানে মিষ্টি’। এরমধ্যে ধারাবাহিক নাটক ‘জননী’ সবচেয়ে বেশি দর্শকদের টানতে সক্ষম হয়েছে। মহাকাব্যিক এই মেগা ধারাবাহিক নাটকের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন একজন মা। যিনি অক্লান্ত পরিশ্রম আর একাগ্রতা দিয়ে সাজিয়ে তুলেছেন সংসার। আর অপরিমেয় মায়া-মমতা দিয়ে বড় করেছেন সন্তান-সন্ততিদের। এদের নিয়েই মা ভেসে চলেছেন জীবনের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ মহাসাগরে। মায়ের এই সংসার যাত্রার চালচিত্র নিয়েই গড়ে উঠেছে ‘জননী’র কাহিনী। এতে অভিনয় করেছেন—প্রিসিলা পারভীন, নিমা রহমান, মাহমুদ সাজ্জাদ, শাহাদাত্ হোসেন, দীপা খন্দকার, শোয়েব, তাহমিনা সুলতানা মৌ, মৌসুমী নাগ, ইউসুফ রাসেল, তানভীর, অপর্ণা, রিক্তা, খালেকুজ্জামান প্রমুখ। শ্যামল ভাদুড়ির রচনা ও শাহাদাত্ হোসেন সুজনের পরিচালনায় ধারাবাহিকটি সপ্তাহের প্রতি শনি ও রবিবার রাত ৯টা ০৫ মিনিটে জিটিভিতে প্রচারিত হয়। এছাড়া বেসরকারি চ্যানেল মাছরাঙা, দেশটিভি, চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর, চ্যানেল নাইন, মোহনা টিভি, দিগন্ত টিভি, মাইটিভি, বিজয় টিভি, ইসলামিক টিভি, মিউজিক ভিত্তিক চ্যানেল ১৬, ও সংবাদ ভিত্তিক চ্যানেল এটিএন নিউজ, সময় ও ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন নিজেদের অনুষ্ঠান মালাগুলো সাজিয়েছিল মানসম্মতভাবেই।
এরমধ্যে মাছরাঙা, দেশটিভি, চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর, চ্যানেল নাইন ভালো অনুষ্ঠান দিয়ে দর্শকদের মন কাড়তে পেরেছে। আর এ বছর অনুষ্ঠান ও নাটক নির্মাণে তরুণ নির্মাতাদের সফলতা সব চ্যানেলেই পরিলক্ষিত হয়েছে।
