ব লি উ ড

বছরের সেরা অভিনয় : নায়িকাচিত্র

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৫৯
২০১১ শেষ হয়েছিল ‘দ্য ডার্টি পিকচার’-এ বিদ্যা বালানের অসাধারণ পর্দা উপস্থিতি দিয়ে। নাসির উদ্দিন শাহ, ইমরান হাশমি, তুষার কাপুরও ছিলেন ওই ছবিতে তিন উল্লেখযোগ্য চরিত্রে। কিন্তু ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ ছিল বিদ্যা বালানের ওয়ান ওম্যান শো। ওই ছবিতে তার পাশে তিন উল্লেখযোগ্য অভিনেতাকে অনেকটা অসহায় মনে হয়েছে। ২০১২-তে বিদ্যা বালান আবারও তেমনি একচ্ছত্র দাপট নিয়ে পর্দায় উপস্থিত হন। ‘কাহানি’ নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা হয়েছিল। ‘কাহানি’ মুক্তির পর দেখা গেল বিদ্যাই এ ছবির নায়ক। এ ছবিতে তার অভিনীত চরিত্রটি ছিল নিখোঁজ স্বামীর খোঁজে ব্যস্ত এক অসহায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর। এ ছবিতে তার অভিনীত চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিদ্যা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং এ কাজে শতভাগ সফল হয়েছেন। একমাত্র তার দুর্দান্ত অভিনয়গুণে ‘কাহানি’ ছবিটি দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেছে। এ সময়ের হিন্দি সিনেমার একটি অসাধারণ নারী চরিত্র হয়ে উঠেছে ‘কাহানি’র বিদ্যা বালান অভিনীত বিদ্যা বাগ্চী চরিত্রটি। এ বছরের সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছেন তিনি। এ বছরটা সোনাক্ষী সিনহার জন্য পয়মন্ত ছিল। এবারে তার মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো ছিল ‘রাওডি রাঠোর’, ‘জোকার’, ‘সন অব সর্দার’, ‘দাবাং-২’। এ ছবিগুলো প্রতিটি ব্যবসা সফল হয়েছে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনীত ‘অগ্নিপথ’, ‘বরফি’, ‘তেরি মেরি কাহানি’—তিনটি ছবি মুক্তি পেয়েছে এ বছর। এরমধ্যে অগ্নিপথ এবং ‘বরফি’ ব্লকবাস্টার ব্যবসা করেছে। ‘অগ্নিপথ’ ছবিতে প্রিয়াঙ্কাকে দেখা গেছে সাধারণ এক বস্তিবাসী তরুণী কালি চরিত্রে। নায়কপ্রধান ছবি হলেও ‘অগ্নিপথ’ ছবিতে তার অভিনয়ের উচ্ছ্বাসিত প্রশংসা করেছেন সমালোচকেরা। ‘তেরি মেরি কাহানি’ ফ্লপ হলেও এ ছবিতে তিনটি ভিন্ন চরিত্রে তাকে অভিনয় করতে দেখা গেছে। তবে ‘বরফি’ ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের স্বাক্ষর রেখেছেন এই অভিনেত্রী। স্রেফ গ্ল্যামারাস চরিত্রে নয়, যেকোনো ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্রেও দুর্দান্ত অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিতে পারেন প্রিয়াঙ্কা। এর আগে ‘ফ্যাশন’, ‘সাত খুন মাফ’, ‘এতরাজ’ প্রভৃতি ছবিতে তার অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বছর ‘বরফি’ ছবিতে একজন অটিস্টিক তরুণীর চরিত্রে প্রিয়াঙ্কার হূদয়স্পর্শী অভিনয় সবাইকে আলোড়িত করেছে। এ ছবিতে রণবীর কাপুর অভিনয় করেছেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে। প্রিয়াঙ্কা অভিনয় করেছেন মূক ও বধির বরফিরূপী রণবীরের সঙ্গিনী অটিস্টিক তরুণী ঝিলমিল চরিত্রে। এ ধরনের চরিত্রে বলিউডের গ্ল্যামারাস সুন্দরী নায়িকাদের সচরাচর দেখা যায় না। প্রিয়াঙ্কা অনেকটা সাহসী হয়ে চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করেছেন। সেই চ্যালেঞ্জে জয়ী হয়েছেন তিনি। ‘বরফি’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার প্রিয়াঙ্কাও পেতে পারেন। কারিনা কাপুরকে এ বছর ‘এক ম্যায় আউর এক তু’, ‘এজেন্ট বিনোদ’, ‘হিরোইন’, ‘তালাশ’, ‘দাবাঙ টু’ ছবিগুলোতে দেখা গেছে। এর মধ্যে ‘দাবাঙ টু’ ছবিতে একটি আইটেম সঙে পারফর্ম করেছেন তিনি। কারিনা অভিনীত ‘এক ম্যায় আউর এক তু’ এবং ‘এজেন্ট বিনোদ’ দর্শকদের প্রভাবিত করেনি মোটেও। ‘হিরোইন’ ছবিটি ছিল কারিনার অভিনয় জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার। ঐশ্বরিয়া রাইয়ের যে চরিত্রটি রূপায়ণের কথা ছিল কপালগুণে কারিনা সেই মাহী অরোরা চরিত্রটি রূপায়ণের সুযোগ পেয়ে যান। একজন জনপ্রিয় শীর্ষ অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার ও ব্যক্তি জীবনে ধস নামার ব্যাপারটি ‘হিরোইন’ ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে। কারিনার পারফর্মেন্স দর্শক-সমালোচকদের উচ্ছ্বাসিত প্রশংসা অর্জন করলেও বক্স অফিসে প্রত্যাশিত ভালো ফলাফল দেখাতে পারেনি ছবিটি। ‘হিরোইন’-এ যে কারণে সেরা অভিনয়ের স্বাক্ষর রেখেও কারিনা কাপুর অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে। তবে আমির খানের বিপরীতে ‘তালাশ’ ছবিতে একজন পতিতা চরিত্রে কারিনা দারুণ ভালো অভিনয় করেছেন। অভিনীত রোজি চরিত্রটি পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে কারিনার অনবদ্য অভিনয়গুণে। ‘তালাশ’ ছবিতে অপর এক নারী চরিত্রে রানি মুখার্জিও চমত্কার অভিনয় করেছেন। এখানে অভিনয়টাকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। নিজের গ্ল্যামারাস লুক নিয়ে মাথাব্যথা ছিল না রানির। এ বছর তার অভিনীত ‘আইয়া’ চলচ্চিত্র দিয়ে দর্শকদের নতুনভাবে আকৃষ্ট করতে চাইলেও ছবিটির বক্স অফিস ব্যর্থতা তার সব পরিশ্রমকে মাটি করে দিয়েছে। ক্যাটরিনা কাইফ বছরের শুরুতে ‘অগ্নিপথ’ ছবিতে ‘চিকনি চামেলি’ আইটেম সঙের সুবাদে দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করেন বলিউডজুড়ে। এ ছবির নায়িকা না হলেও ‘চিকনি চামেলি’র পারফর্মেন্সের কারণে ক্যাটরিনাই হয়ে ওঠেন এর প্রধান আকর্ষণ। এ বছর সালমান খান ও শাহরুখ খানের বিপরীতে দু-দুটি ব্লকবাস্টার ছবি ‘এক থা টাইগার’ ও ‘জাব তক হ্যায় জান’-এর নায়িকা চরিত্রে ক্যাটরিনা কাইফ রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছেন। অ্যাকশনপ্রধান ছবিতে নায়করাই থাকে সব অ্যাকশনের কেন্দ্রবিন্দুতে, কিন্তু ‘এক থা টাইগার’ ছবিতে ক্যাটরিনা দুর্দান্ত সব অ্যাকশন দেখিয়েছেন। স্রেফ রোমান্টিক ইমেজেই নয়, অ্যাকশন লেডি হিসেবেও ক্যাটরিনা বাজিমাত করেছেন এ ছবিতে। হিন্দি সিনেমার কিং অব রোমান্স হিসেবে খ্যাত প্রয়াত চিত্রনির্মাতা যশ চোপড়ার জীবনের শেষ ছবি ‘জাব তক হ্যায় জান’-এ শাহরুখ খানের বিপরীতে প্রথমবারের মতো অভিনয় করেছেন ক্যাটরিনা। এখানে মিরা চরিত্রে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। সেরা অভিনয়ের উজ্জ্বল প্রমাণ দিয়েছেন ক্যাটরিনা এ ছবিতে। ‘জাব তক হ্যায় জান’ ছবিটি দর্শক নন্দিত হয়েছে। শাহরুখ-ক্যাটরিনা জুটিও বাজিমাত করেছে। সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারের জন্য এ বছর একজন শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন ক্যাটরিনা ‘জাব তক হ্যায় জান’ ছবির জন্য। দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকার পর এ বছর ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ ছবির মাধ্যমে আবার রুপালি পর্দায় ফিরে এসেছেন শ্রীদেবী। এ ছবিতে নিউইয়র্ক প্রবাসী এক আটপৌরে ভারতীয় গৃহবধূর চরিত্রে তাকে দেখা গেছে। যে ইংরেজি ভাষা শেখার স্কুলে ভর্তি হয়ে পরিবারসহ আশপাশের সবাইকে চমকিত করে। ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ ছবিতে অনেকদিন পর অভিনয়ে ফিরে তিনি দুর্দান্ত আলোড়ন তুলেছেন বলা যায়। সেরা অভিনেত্রী হিসেবে শ্রীদেবী যদি এবার আবার পুরস্কার পান তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ‘ককটেল’ ছবিতে দীপিকা পাড়ুকোন অনেকদিন পর দর্শকদের চমকিত করেছেন অপূর্ব অভিনয়ের মাধ্যমে। এ ছবিতে কেয়ার ফ্রি স্বভাবের একজন উচ্ছ্বল তরুণী হিসেবে নিজের অভিনীত চরিত্রেটিকে দর্শকদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। এ ছবিতে আরও একজন নবাগত নায়িকা ছিলেন সমান্তরাল আরেকটি নারী চরিত্রে। তার অভিনয়ও দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তবে ‘ককটেল’ ছবিতে দীপিকাই দর্শকদের হূদয়ে দোলা দিয়েছেন তার সুঅভিনয় দিয়ে। এ বছরের সেরা অভিনয়ের স্বাক্ষর রাখা অভিনেত্রীদের মধ্যে তার নামটি এ কারণে আলোচিত হচ্ছে।