অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের দাপটে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি)গতকাল বুধবার শুরু হওয়া বক্সিং ডে টেস্টে মাত্র ১৫৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় সফরকারী শ্রীলংকা। জবাবে দিন শেষে স্বাগতিকরা তিন উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান তোলে। অস্ট্রেলিয় অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ককে নিয়ে গত ক’দিন ধরে অচলাবস্থা চললেও এদিন তিনি ফিটনেস টেস্টে উতরে শেষ পর্যন্ত খেলতে নামেন।
হোবার্টে সিরিজের প্রথম টেস্টে ১৩৭ রানে জয়ের পর এমসিজিতে উদ্বোধনী দিনে ৬৭ হাজার ১৩৮ জন দর্শকের সামনে অজিরা টেস্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তবে গতকালের দুটি রেকর্ড এবারের বক্সিং ডে টেস্টে কিছুটা হলেও ভিন্নমাত্রা এনে দিয়েছে। শ্রীলংকান সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারার ১০ হাজার টেস্ট রানের পাশাপাশি অজি পেসার মিশেল জনসন টেস্টে তার ২০০ তম উইকেট পূর্ণ করেন এদিন।
শ্রীলংকা প্রথম ইনিংসে মাত্র ৪৩.৪ ওভারে অলআউট হয়ে গেলে অজি ব্যাটসম্যানরা কিছুটা আক্রমণাত্মক ভাবেই প্রথমদিন শেষ করেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার ৪৬ বলে ছয় বাউন্ডারি ও এক ছক্কার মারে করেন সর্বোচ্চ ৬২ রান। ১৩ উইকেট পতনের দিনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা বেশ ভালভাবেই ইনিংস শুরু করেন। দিনশেষে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি শঙ্কা কাটিয়ে দলে ফেরা অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক ২০ ও সহ-অধিনায়ক শেন ওয়াটসন ১৩ রানে অপরাজিত আছেন। তবে এই দুজনেই লংকান ফিল্ডারদের হাতে একবার করে জীবন পান।
লংকান ইনিংসের একমাত্র সাফল্য বলতে সাঙ্গাকারার ৯৮ বলে আটটি বাউন্ডারির সহায়তায় ৫৮ রানের ইনিংসকেই সামনে নিয়ে আসতে হবে। উইকেটরক্ষক ম্যাথিউ ওয়েডের দুর্দান্ত এক ক্যাচে সাঙ্গাকারাকে ফিরিয়ে ৪৯তম টেস্টে নিজের ২০০তম উইকেট প্রাপ্তির কৃতিত্ব পূর্ণ করেন জনসন। এর আগে শচীন টেন্ডুলকার এবং ব্রায়ান লারার মতই সাঙ্গাকারা ১৯৫তম টেস্টে দশ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
প্রথম টেস্টে বাদ পড়ার পর পুনরায় দলে ডাক পাওয়া জনসন ১৪ ওভারে ৬৩ রানে চার উইকেট নিয়ে লংকান ইনিংসে ধস নামান। ম্যাচ শেষে অভিজ্ঞ এই পেসার বলেন,‘আমরা অবশ্যই শক্ত অবস্থানে আছি। আমি মনে করি আমাদের দুই ওপেনার দারুণ সূচনা করেছে। যদিও আমাদের তিন উইকেট পড়ে গেছে, কিন্তু এখনও যারা আছেন তাদের বড় স্কোর করার ক্ষমতা আছে।’
ডেভিড ওয়ার্নার এবং এড কাওয়ান মিলে উদ্বোধনী জুটিতে ১০৫ বলে ৯৫ রান সংগ্রহ করে এমসিজি’র দর্শকদের দারুণ সূচনা দেন। এর মধ্যে ওয়ার্নার ছিলেন একটু বেশি আগ্রাসী। ৩৪ বলে তিনি চতুর্থ টেস্ট অর্ধ শতক পূর্ণ করেন। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের বলে ডিপ মিডউইকেটে ধাম্মিকা প্রসাদের হাতে ক্যাচ তুলে দেবার আগে ওয়ার্নার ইনিংস সর্বোচ্চ ৬২ রান সংগ্রহ করেছেন। ২৩তম ওভারে কাওয়ানের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে ফিল হিউজেস ১০ রানে রান আউট হয়ে যান। পরের ওভারেই প্রসাদের বলে স্লি¬পে মাহেলা জয়াবর্ধনের হাতে ৩৬ রানে ধরা পড়েন কাওয়ান।
দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের দারুণ লাইন ও লেংথের কাছে একের পর এক পরাস্ত হয়ে লংকান ব্যাটসম্যানরা বেশ চাপের মধ্যে পড়েন। টেস্ট অভিষেকে নিজের দশম বলে জ্যাকসন বার্ড দিমুথ করুনারত্নের উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের প্রথম উইকেট এনে দেন। এর তিন ওভার পরেই সাজঘরের পথ দেখেন হোবার্টে সেঞ্চুরিয়ান তিলকেরত্নে দিলশান। এই উইকেটের মাধ্যমে জনসন তার শিকার শুরু করেন। প্রথম পানি বিরতির তিন বল পরেই অধিনায়ক মাহেলা তার ধারাবাহিক ব্যর্থতার আরেকটি প্রমাণ দিলে সফরকারীরা খেই হারিয়ে ফেলে। পিটার সিডলের এই উইকেট প্রাপ্তিতে লংকানদের স্কোর দাঁড়ায় ১৩ ওভারে তিন উইকেটে ৩৭ রান।
এরপর অবশ্য সাঙ্গাকারা এবং থিলান সামারাভিরা মিলে ইনিংসকে কিছুটা সমৃদ্ধ করতে চেষ্টা করেন। এই জুটির কাছ থেকে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৩ রান আসে। মধ্য বিরতির পরে প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই সামারাভিরা মিড উইকেটে বার্ডের বলে ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ তুলে দিলে এই জুটি ভাঙ্গে। -বাসস
মেলবোর্ন টেস্ট
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
শ্রীলংকা প্রথম ইনিংস ১৫৬, অল আউট ৪৩.৪ ওভার (সাঙ্গাকারা ৫৮, প্রসন্ন জয়াবর্ধনে ২৪ : জনসন ৪-৬৩, বার্ড ২-৩২, সিডল ২-৩০, লিও ২-২৩)।
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস ৩ উইকেটে ১৫০, ৩৯ ওভার (ওয়ার্নার ৬২, কোয়ান ৩৬, ওয়াটসন ১৩*, ক্লার্ক
২০*: প্রসাদ ১-৩৯, ম্যাথিউস ১-৯)।
টস : শ্রীলংকা।
আম্পায়ার : আলিম দার (পাকিস্তান) ও নিগেল লং (ইংল্যান্ড)। টেলিভিশন আম্পায়ার : টনি হিল (নিউজিল্যান্ড)। ম্যাচ রেফারী : ক্রিস ব্রড (ইংল্যান্ড)।
