দিন যত যাচ্ছে পরিস্থিতি ততই ঘোলা হতে শুরু করেছে। গ্যালাকটিকো দলের সাইড বেঞ্চে বসে দলের পরাজয় দেখছেন দলের নেতা ও রিয়ালের ঘরের ছেলে ইকার ক্যাসিয়াস; কিছুদিন আগেই বিশ্বকাপ ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি জয় করে দেশে ফেরা ক্যাসিয়াসের এই অবমাননা মেনে নিতে পারছে না গোটা ফুটবল বিশ্ব। মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভিসেন্তে দেল বক্স, ফ্রান্সিসকো বুয়োর মতো ফুটবল বোদ্ধা। আর এদের সবারই আঙুল কোচ হোসে মরিনহোর দিকে।
গত মৌসুমে লা লিগার শিরোপাজয়ী স্প্যানিশ জায়ান্ট দল রিয়াল মাদ্রিদ নতুন মৌসুমের শুরু থেকেই ঠিক ছন্দে নেই। একদিকে মাঠের বাজে পারফরমেন্স এবং খেলোয়াড়দের অসন্তোষ; সব মিলিয়ে বেশ অসুখীই বলতে হয় মাদ্রিদ শিবিরকে। কিছুদিন আগে মাঠেই দলের ব্যাপারে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে বিশ্ব ফুটবলে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন পর্তুগীজ তারকা খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো। তার রেশ কাটতে না কাটতেই রিয়াল মাদ্রিদ দলের সঙ্গী হল নতুন বিতর্ক। গত রবিবার মালাগার বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে পর্তুগীজ কোচ মরিনহো দলে রাখেননি দলের নিয়মিত গোল রক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসকে। তার বদলে মাদ্রিদ দলের গোলপোস্ট সামাল দেন তরুণ গোল রক্ষক অ্যান্টনিও অ্যাডান। ম্যাচে ৩-২ গোলে হারের ফলে বার্সেলোনার থেকে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ব্যবধান ১৬ তে পৌঁছালো। এই অবস্থায় গতবারের শিরোপা ধরে রাখা অনেকটা অসম্ভব লস ব্ল্যাঙ্কোসদের জন্য। এই যখন অবস্থা তখন সবাই দলের এই দুর্দশার জন্য দায়ী করছেন মরিনহোকে।
২০০০ সালে অভিষেকের পর থেকে স্পেন জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ১৪৩ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ক্যাসিয়াস। অধিনায়ক হিসেবে জয় করেছেন টানা দুটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। স্পেনের প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পিছনেও তার ভূমিকাই মুখ্য। স্পেনের কোচ ভিসেন্তে দেল বক্স বিশ্বের অন্যতম সেরা এই গোল রক্ষকের পক্ষ নিয়ে বলেন, ‘ক্যাসিয়াস রিয়াল মাদ্রিদের গৌরব। যুবদল থেকেই সে রিয়াল মাদ্রিদের সম্পদ। তার পরিচয়ই রিয়ালের পরিচয়। আর নিজের পরিচয়ের সাথে মানানসই নৈপুণ্যই দেখাচ্ছে সে।’
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ী দলের কোচ আরো বলেন, ‘১০ বছর বয়সে সে রিয়ালে আসে। তাই আর যাই হোক রিয়ালের সাথে তার সম্পর্কটা অর্থের নয়।’
রিয়াল মাদ্রিদ দলের সাবেক কিংবদন্তী ফুটবলার ফ্রান্সিসকো বুয়োও ক্যাসিয়াসের পারফরমেন্সে কোন সমস্যা খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে কোন এক ধরনের সমস্যা আছে। ক্যাসিয়াসকে মালাগার বিপক্ষে সাইড বেঞ্চে বসিয়ে রাখা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। আমি কারো নাম উল্লেখ করবো না; কিন্তু দলে এমন খেলোয়াড়ের সংখ্যা কম নয় যাদের চাইলেই বসিয়ে রাখা যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘ক্যাসিয়াস ও মরিনহোর মধ্যে কোন বিরোধ আছে কি না সেটা আমি জানি না। তবে, সামপ্রতিক সময়ে দলের পারফরমেন্স সমর্থকদের হতাশ করেছে। লিগে এখন যা অবস্থা তাতে সাতটি ম্যাচে পরাজিত না হলে শিরোপা বার্সেলোনাই জয় করবে। আর, একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে, লা লিগায় পরাজয়ের অর্থ এই না যে আমাদের ফুটবল খেলা ছেড়ে দিতে হবে। আমাদের সামনে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও কোপা দেল রে’র মতো টুর্নামেন্ট আছে। এখন আমাদের সেদিকে মনোযোগী হতে হবে।’
রিয়াল মাদ্রিদ দলের সাবেক কোচ ও খেলোয়াড় জর্জ ভ্যালদানো বলেন,‘মরিনহোর কোচিংয়ের নিজস্ব একটা ধরন আছে। তবে, এটাই তার জন্য সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে। কারণ, ক্যাসিয়াসকে দলে না রাখা তার কোচিংয়েরই একটি অংশ।’ মাদ্রিদ দলের সাবেক গোল রক্ষক সিজার সানচেজ বলেন, ‘ভালো খেলার জন্য ক্যাসিয়াসের এ রকম শাস্তির কোন দরকার ছিল না। এটা মাদ্রিদ দলের জন্য ক্ষতিকর।’
তবে প্রকাশ্যে মরিনহোর কোন সমালোচনা করা থেকে বিরত ছিলেন ক্যাসিয়াস। এক টিভি সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আসলে আমি ব্যাকআপ খেলোয়াড় হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছিলাম না। আমার কাছে নিজের আগে দল। ভালো খেলেই আমি মূল একাদশে ফিরতে চাই।’
