শচীন টেন্ডুকারকে এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাখ্যান করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পদস্থ কর্মকর্তা এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) চেয়ারম্যান রাজিব শুক্লা বলেছেন, এটা ছিল পুরোপুরি তার সিদ্ধান্ত। রাজিব শুক্লা বলেন, ‘ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার জন্য শচীন টেন্ডুলকারের উপর কোন চাপ ছিল না। অবসর নেবে কি নেবে না এটা সম্পূর্ণ খেলোয়াড়দের ব্যাপার। সঠিক সময়ে সে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে বলে আমি মনে করি। আর ওয়ানডে খেলবে না তার এমন সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেয়া হয়েছে।’ ব্যাট হাতে রান না পাওয়ায় সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে টেন্ডুলকারকে অবসর নিতে বিসিসিআই বাধ্য করেছে বলে প্রকাশিত খবর অস্বীকার করেন শুক্লা।
তিনি বলেন, ‘বিসিসিআই’র নীতি অত্যন্ত পরিষ্কার। একজন খেলোয়াড় কোন নির্দিষ্ট ফরম্যাট কিংবা পুরো খেলোয়াড়ী জীবন থেকে কখন অবসর নেবে সে সিদ্ধান্ত ওই খেলোয়াড়ই নেবে। আমরা কোন খেলোয়াড়কে বাধ্য কিংবা পরামর্শ দিতে পারি না।
আমি দেখেছি অনেক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে বিসিসিআই অথবা নির্বাচকদের পক্ষ থেকে তার উপর এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এমন ধরনের সংবাদ আমি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি।’
আগামী বিশ্বকাপের জন্য ভারতীয় দলকে গঠন করা এবং তার পরিবর্তে তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দেয়ার এটাই সঠিক সময়ের কথা জানিয়ে টেন্ডুলকার নিজেই ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
গত মার্চে এশিয়া কাপেই সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেন টেন্ডুলকার। সে সময়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শততম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শচীন। শুল্কা বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে টেন্ডুলকারের অবদান অশেষ। তার অবদান শুধু ভারতীয় ক্রিকেট নয়, বিশ্ব ক্রিকেটেও আছে। ক্রিকেটের মর্যাদাকেই বাড়িয়ে দিয়েছে সে। সব শেষে একদিন বিদায় নিতে হয়। আমি অনেক দিন যাবত্ বলে আসছি সে এমন একজন খেলেয়াড় যার অন্য কারো উপদেশ বা পরামর্শের প্রয়োজন নেই। যেদিন সে মনে করবে দলের জন্য শতভাগ দিতে পারছে না, সে চলে যাবে এবং সে তাই করেছে।’ টেস্ট ক্রিকেটে তার খেলা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে শুল্কা বলেন, ক্রিকেটকে দেয়ার মত টেন্ডুলকারের মধ্যে এখনো অনেক কিছু আছে।
টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে সে সজাগ আছে। তার উপস্থিতিই আমাদের দলে অনেক শক্তি যোগাবে এবং টেস্ট ক্রিকেটে সে খুবই ভাল করবে।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজ পর্যন্ত বিসিসিআই তাকে থাকতে বলেছিল কিনা জানতে চাইলে শুল্কা বলেন, ‘নির্বাচকরা শুধু খেলোয়াড়দের সক্ষমতা পরীক্ষা করেন। দল গঠনের আগেই সে তার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিসিসিআই সভাপতিকে জানিয়ে দেয়।’ —বাসস
