প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার বহু-প্রতিক্ষীত বনানী উড়ালসড়ক উদ্বোধন করে বলেছেন, এর মাধ্যমে রাজধানীতে যানজট মুক্ত সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা ঘটলো।
উড়ালসড়কের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, ‘উড়ালসড়ক উদ্বোধনের ফলে বনানী রেলক্রসিং-এ কোন গাড়িকে থামতে হবে না এবং বিশ্বরোড বা মহাখালী পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হবে না। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে জনগণ সুরক্ষা পাবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বৃহত্তম এই উড়ালসড়কটি হবে রাজধানীবাসীর সময় সাশ্রয়ী যোগাযোগের অন্যতম মাইলফলক।
বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া, যোগাযোগ সচিব এমএএন সিদ্দিক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনের (পশ্চিম) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাইদ মাহমুদ অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকা’কে যানজটমুক্ত ও আধুনিক মহানগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বর্তমান স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প¬ান (এনটিডি) এর আওতায় ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কম্যুটার রেলওয়ে, ভূগর্ভস্থ টানেল এবং ঢাকা শহরের চারদিকে রিং রোড ও ওয়াটারওয়ে নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, কুড়িল ফ্লাইওভার, যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার ও মিরপুর-বিমানবন্দর রোড ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই ফ্লাইওভারগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, মেট্রোরেল পরিকল্পনা অনুমোদন ও মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভারের দরপত্র গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরীকে তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্যে বেগুনবাড়ী খালসহ হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প ও ধানমন্ডি লেক সংলগ্ন রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন শেষ হলে ঢাকা শহরের সৌন্দর্য অনেকাংশে বেড়ে যাবে। এর আগে শেখ হাসিনা ফলক উন্মোচন ও ফিতা কেটে ওভারপাসের উদ্বোধন করেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিঃ ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০৪ মিটার দীর্ঘ এই ওভারপাসটি নির্মাণ করে।
