অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক এক পঞ্জিকাবর্ষে রান করার ক্ষেত্রে তার পূর্বসূরী রিকি পন্টিংকে ছাড়িয়ে অস্ট্রেলিয় হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়লেন। এর মধ্যদিয়ে বছরটিও দারুণ কাটছে তার।
ক্লার্ক (১০৬) কাল সেঞ্চুরি তো হাঁকালেনই সেই সাথে পেছনে ফেললেন পন্টিংকে। পন্টিং ২০০৫ সালে ১,৫৪৪ রান করেছিলেন। এই বছরে ক্লার্কের রান এখন পর্যন্ত ১,৫৯৫। বছর শেষ হওয়ার আগেই খেলার সুযোগ আছে মেলবোর্ন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে।
গতকাল বৃহস্পতিবার শ্রীলংকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টটির দ্বিতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার হিসেবে এই বিরল রেকর্ডটি গড়েন।
কাল লাঞ্চের আগে ৬৮তম ওভারে শ্রীলংকান পেসার ধাম্মিকা প্রসাদের দ্বিতীয় বলে একটি সিঙ্গেল নেন ক্লার্ক ৫৬ রানে পৌঁছালে পেছনে পড়ে যান পন্টিং। এই সময় তার এ বছরের ব্যাটিং গড় ছিল ১১০.৩৫। বিকালের পানি পানের বিরতির আগে ক্যারিয়ারের ২২তম সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। যদিও লঙ্কান ডানহাতি পেসার সামিন্দা এরাঙ্গার বলে মাহেলা জয়াবর্ধনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। ক্লার্কের ১৮৭ বলের সেঞ্চুরিতে ছিল ১৪টি চারের মার।
ক্লার্ক যখন আউট হন সে সময় চলতি বছরের হিসেবে তার রান ১,৫৯৫টি এবং ব্যাটিং গড় ১০৬.৩৩। অস্ট্রেলিয়ার এটি ২০১২ সালের শেষ টেস্ট। এ নিয়ে ৮৮ টেস্টে ক্লার্ক ৬,৯১০ রান তুলেছেন যার গড় ৫২.৭৪। দিনের খেলা শেষে অজি অধিনায়ক বলেন,‘সংখ্যা আমাকে কখনোই আসলে বিরক্ত করে না। রান করতে পারলে ভালো লাগে। দলের অন্যতম নেতা হিসেবে উদাহরণ হতে পারাটা ভাল ব্যাপার। শুধু তাই নয় অধিনায়ক হিসেবেও। কিন্তু আমার কাছে ম্যাচ জয়টাই আসল। যদি আমি এই দলকে সফল হতে সহযোগিতা করতে পারি, তাহলে মনে করব এটা আমার কাজেরই অংশ। আমরা জয়ের ধারাবাহিকতা রাখবো এমনটাই অগ্রাধিকার পায় সব সময়। ’
বর্তমানে ৩১ বছর বয়সী ক্লার্ক এই প্রথম বক্সিং ডে টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকালেন। ক্লার্ক এ প্রসঙ্গে বলেন,‘এখানে সেঞ্চুরির আগে আমি চাপে ছিলাম। মেলবোর্নে ক্রিকেট খেলতে আমি ভালোবাসি। সুন্দর মাঠ এটা। আর মেলবোর্নে অবশেষে সেঞ্চুরি করতে পারাটা চমত্কার ব্যাপার। পন্টিংকে পেছনে ফেলাটা সম্মানের। আমার চোখে সে সেরাদের সেরা ব্যাটসম্যান। নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি তার সাথে আমার অনেক ম্যাচে খেলার সুযোগ হয়েছে। আর রিকির কোন রেকর্ড ভেঙে দেয়াটা আমার জন্য বিশেষ কিছু এটা নিশ্চিত।’
পন্টিংকে পেছনে ফেলতে এই টেস্টে ক্লার্কের প্রয়োজন ছিল ৫৬ রান। দারুণ একটি বছর পার করলেন ক্লার্ক। সিডনিতে জানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন হার না মানা ৩২৯ রানের ইনিংস। এরপর তিনি তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করেন। আর এই টেস্টের প্রথম ইনিংসেই পেলেন সেঞ্চুরির দেখা।
হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির জন্য শ্রীলংকার বিপক্ষে বক্সিং ডে টেস্ট খেলাটা অনিশ্চিত ছিল ক্লার্কের। কাল শ্রীলংকার বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথের বলে ৫৪ রানে ক্লার্ক উইকেটরক্ষক কুমার সাঙ্গাকারার কাছে স্টাম্পিং আউট থেকে বেঁচে যান। গত বুধবার টেস্টের প্রথম দিনে পাঁচ রানে ক্লার্কের ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন তিলকরত্নে দিলশান।
