পাকিস্তান সফর নিয়ে দুর্ভাবনায় বিসিবিও

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:০১
জাতীয় দলের আসন্ন পাকিস্তান সফর নিয়ে চিন্তিত খোদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাংলাদেশ দলের পাকিস্তান সফরের বিষয়টি নিশ্চিতের দাবি করলেও বিসিবি এখনো কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। বরং সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে দেশীয় ক্রিকেটের নিয়ামকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি নিজেই জানালেন এসব কথা। পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘খুব সম্ভবত আমরা রবিবার বসবো। এই বিষয় নিয়ে আমরাও বেশ আলাপ-আলোচনা করছি। নিজেদের মধ্যে এবং বাইরে অনেক বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। আশা করছি দুই-একদিনের মধ্যে কিছু একটা জানাতে পারবো।’ পিসিবি’র পাঠানো সূচি অনুযায়ী ১১ জানুয়ারি পাকিস্তানে যাবে বাংলাদেশ দল। ১২ ও ১৩ জানুয়ারি একটি টি-টোয়েন্টি ও একটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে পরদিন ১৪ জানুয়ারি দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের। আইসিসি’র কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেলে এবং সরকার অনুমতি দিলেই পাকিস্তানে যাবে বাংলাদেশ দল। পিসিবি’র চেয়ারম্যান জাকা আশরাফ ইতিমধ্যে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বিসিবি তাদেরকে এ সফরের ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিয়েছে। অথচ বিসিবি বলছে তারা এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। কাল বোর্ড সভাপতির কথাতেও সেরকম ইঙ্গিতই মিললো। তিনি বলেন, ‘আসলে পাকিস্তান সফর নিয়ে আমরাও চিন্তিত। আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর সমাধান করা হবে।’ পিসিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ দলকে তারা রাষ্ট্রীয় অতিথিদের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা দিবে। কিন্তু এখনো লাহোর কিংবা করাচিতে আত্মঘাতী বোমা হামলার মত ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশের পাকিস্তান সফরকে সামনে রেখে আইসিসি’র একটি পরিদর্শক দলেরও দেশটি সফর করে আসার কথা রয়েছে। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিবে বিসিবি। যদিও বোর্ড সভাপতি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘অফিসিয়ালি কিছুই আসেনি। আমি এ বিষয়ে এখন কোন মন্তব্য করতে পারবো না। আমার মনে হয় এটা পরে বলাই ভালো।’ বাংলাদেশ দলের পাকিস্তান সফর নিয়ে ইতিমধ্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলি সরকারও শংকা প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথেও কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু এ প্রসঙ্গে বোর্ড সভাপতির বক্তব্য, ‘সরকার সবসময় তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। বিশেষ করে মন্ত্রি-মহোদয় আমাদেরকে পরামর্শ দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। আমরা আসলে এখন জোর গলায় কিছু বলতে পারছি না। আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। নিজেরাই চিন্তা করে ঠিক করবো সামনে কি হতে পারে।’ গত এপ্রিলেই বাংলাদেশ দলের সংক্ষিপ্ত সফরে পাকিস্তান যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে শেষ পর্যন্ত সফরটি স্থগিত হয়ে যায়। সাবেক বোর্ড সভাপতি ও বর্তমান আইসিসির সহ-সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল এমপি সর্বশেষও জানিয়েছেন, তিনি লিখিতভাবে জাতীয় দলের পাকিস্তান সফরটি নিশ্চিত করেছেন। এমনকি আইসিসির সহ-সভাপতি হওয়ার জন্যই এই সফরটি নিশ্চিত করতে হয়েছে তাকে। অথচ পাকিস্তানের সাধারণ জনগণই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের ব্যক্তিরাও সেদেশে নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। এরকম একটা সময়ে বাংলাদেশ দলের পাকিস্তান সফর করাটা যৌক্তিক হবে কিনা তা ভেবে দেখতে চাইছে বিসিবি। জানা গেছে, আইসিসি’র কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেলে বোর্ড সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলবেন। এরপর রবিবার সিদ্ধান্ত দিবেন পাকিস্তান সফর প্রসঙ্গে। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলংকান দলকে বহনকারী বাসের ওপর সন্ত্রাসীদের হামলার পর থেকে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলো পাকিস্তান সফর করেনি। তাই পাকিস্তান দলকে স্বাগতিক হিসাবে দুবাই কিংবা আবুধাবিতে টুর্নামেন্ট খেলতে হচ্ছে। নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ের কারণে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের অন্যতম আয়োজক হওয়ার পরও পরে দেশটিকে বাদ দেয়া হয়। অথচ এই দেশটিতেই এখন বাংলাদেশ দলকে দৃশ্যত সফরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।