দাঁত শির শির বা সেনসিটিভিটি

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৩৩
যখনই কোনো কারণে এই এনামেল ক্ষয় প্রাপ্ত হয় তখন দাঁতের পরবর্তী অংশ ডেন্টিন বেরিয়ে আসে, যেহেতু ডেন্টিনের নিচের অংশেই নার্ভ, আর্টারি, ব্রাড ভেসালস ইত্যাদি থাকে সেহেতু দাঁতটি খুবই সংবেদনশীল বা স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে এবং তখনই ঠান্ডা বা গরম কিছু তরল পদার্থ লাগার সাথে সাথেই দাঁত শিরশির করে। এ অবস্থায় একটি দু’টি দাঁত বা অনেকগুলো দাঁত হঠাত্ কখনো শির শির করতে পারে। এরকম দাঁত শির শির করার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। যেমন অনেকেই ডাক্তারের কাছে এসে বলেন আমার দাঁতটি শির শির করে, পানি খেতে পারি না, কেউ বা বলেন চা খেতে পারি না, কেউ বা আবার আইসক্রিম না খেতে পারার জন্য চোখের পানি ফেলেন। আবার কেউ বলেন ঠান্ডা গরম কিছুই খেতে পারি না দাঁতে ধরে । অনেকে আবার বলেন দাঁতের ব্যথা মাথা পর্যন্ত ধরে যায় এবং কষ্টের সীমা নাই। দাঁতের এই শির শির করা অবস্থাকেই বলা হয় ডেন্টাল ইরেশান বা এন্ট্রিশন, এই এন্ট্রিশন বা ইরেশান অথবা পালপাইটিস হওয়ার কারণ হচ্ছে দাঁতের উপরের সবচেয়ে শক্ত আবরণ এনামেল ক্ষয় হয়ে যায় বা ভেঙ্গে যায়। আমরা জানি একটি দাঁতের গঠন প্রক্রিয়ায় প্রথম আবরণটিই হচ্ছে এনামেল। এই এনামেল আমাদের শরীরের সবচেয়ে শক্ত অংশ অথচ এই এনামেল পর্যন্ত ক্ষয় হয়ে যায়। চিকিত্সা আজকাল এই ধরনের সমস্যার অতি দ্রুত চিকিত্সা নিশ্চিত করা যায় ১. প্রথমত: চিকিত্সা ব্যবস্থার মধ্যে প্রথমেই মাড়ি ও দাঁতের সংযোগস্থল থেকে সমস্ত পাথর বা ডেন্টাল প্লাক পরিস্কার করা প্রয়োজন। এই ধরণের কাজে সাধারণত: ডেন্টাল স্কেলিং এর মাধ্যমে করা হয় যেমন- আলট্রাসনিক স্কেলিং এর মাধ্যমে সমস্ত দাঁতের গোড়া ও মাড়ি থেকে খাদ্য কনা পরিস্কার করা। কারণ ডেন্টাল প্লাক জমা থাকলে ধীরে ধীরে দাঁত ও মাড়ি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। ২. দ্বিতীয়ত: ক্ষয়ে যাওয়া অংশটুকু বা ভেঙ্গে যাওয়া অংশটুকু আজকাল খুবই আধুনিক পদ্ধতি লাইট কিউর ফিলিং দিয়ে ভর্তি করে দেয়া হয় যাতে ক্ষয়ে যাওয়া এনামেল এবং ডেন্টিন আবার পুরণ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে গ্লাস আইনোমার ফিলিং দিয়েও দাঁতটি ভর্তি করা যায় ৩. দাঁতের মাজন- দাঁতের ক্ষয় যদি কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত না হয় তবে ফিলিং বা রুট ক্যানেল চিকিত্সার প্রয়োজন হয় না। সে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দাঁত ব্রাশের সঙ্গে স্ট্রনিয়াম ক্লোরাইড সংযুক্ত টুথ পেষ্ট ব্যবহার করলে ৬ মাসে দাঁতের শিরশির কমে আসতে পারে। তবে এই ধরনের পেস্ট দীর্ঘদিন ব্যবহার করা নিরাপদ না। ৪. দাঁতের ফ্রেকচার যদি একটি দাঁতের অল্প পরিমাণ অংশ ভেঙ্গে গিয়ে থাকে তবে শুধুমাত্র ভেঙ্গে যাওয়া অংশ ফেলে দিয়ে সুন্দর লাইট কিউর ফিলিং দিয়ে পুরণ করা অথবা অবস্থা বুঝে রুট ক্যানেল চিকিত্সার পর ক্রাউন পরানো হবে নিশ্চিত ব্যবস্থা। তবে এসব কিছুর আগে রোগীর সমপূর্ণ ইতিহাস যেমন নেয়া জরুরী তেমনি পরীক্ষা নীরিক্ষাও অপরিহার্য। শুধুমাত্র ওষধ দিয়ে বা টুথপেষ্ট পরিবর্তন করলেই যে রোগীর দাঁতের শিরশির কমে যাবে তেমন নয়। তাই প্রয়োজন মত তাকে যেমন মাড়ির শৈল চিকিত্সা দিয়ে মাড়িকে সুস্থ করা প্রয়োজন তেমনি ফিলিং বা রুট ক্যানেল চিকিত্সাও অপরিহার্য। অতএব সব কিছুই নির্ভর করবে সঠিক রোগ নির্ণয় এর উপর। তাই একটি দাঁত শিরশির করলে অতি দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে নতুবা একটি মুল্যবান দাঁত হারাতে হবে। আমাদের দাঁতের মধ্যে ঠান্ডা পানি বা গরম চা গ্রহণের সময় অনেকেরই শিরশির করে। শীতকালে এই সমস্যা কখনো বেড়ে যায়। দাঁতের এই অবস্থাকে বলে হাইপারসেনসি বা দাঁতের ইরোশন বা এভ্রেশন। অনেক সময় পালপাইটিস। তবে অতিরিক্ত ক্ষয়ে যাওয়া বা গর্ত হয়ে যাওয়া দাঁতটিকে (পালপাইটিস বা দন্তমজ্জা আক্রান্ত হলে) রুট ক্যানেল চিকিত্সার মাধ্যমে ভর্তী করে ক্রাউন বা মুকুট পরানো বর্তমানে একটি আধুনিক চিকিত্সা।