সমৃদ্ধির আলো দেখানোর বছর ছিল ২০১২

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৩
আরও একটি বছর শেষ হলো। পুরো শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির খতিয়ান এরই ভেতরে শুরু হয়ে গেছে বিভিন্ন মিডিয়ায়। তবে খুব সংক্ষেপে যদি ২০১২-কে বিশ্লেষণ করা যায়, তবে বলতে হবে, শোবিজ মিডিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। গেল বছরের হাজারো হতাশার বাইরে সিনেমা, নাটক আর গানে আশার আলো খুঁজে পাওয়ার বছর। চলচ্চিত্রে একঝাঁক তরুণ নির্মাতারা এ বছর তাদের প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী নতুন চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করেছেন। এর ফলাফলে, বেশ কিছু চলচ্চিত্রের মুক্তির খবরও পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১১ সালের সালে চলচ্চিত্র মুক্তি পায় ৪৮টি, ২০১০-এ ৫৭টি , ২০০৯-এ ৬৩টি এবং ২০০৮-এ ৬৭টি। আর ২০১২-তে চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে মোট ৫০টি। অর্থাত্ ছবি মুক্তির ক্ষেত্রে এ বছর ছিল সূচকের উন্নতির বছর। এ ছাড়া চলচ্চিত্রে শাকিব খান ছাড়াও ছবি হিট হবার একাধিক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। যা চলচ্চিত্রের সার্বিক অবস্থার উন্নতিকে প্রমাণ করে। আলোচনা বা সমালোচনা যাই হোক না কেন ২০১২-তে চলচ্চিত্রে একজন তারকা আলোচনায় উঠে এসেছেন—এম এ জলিল অনন্ত। চলচ্চিত্রের এই ইতিবাচক বাতাসে তাই শুরু থেকে অনালোকিত এফডিসি ক্ষণে-ক্ষণেই আলোচিত হয়েছে, বিভিন্ন সংগঠনের পিকনিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ পরিবর্তনের বিষয়টিই বারবার আলোচনায় এসেছে। তবে এফডিসির ইতিহাসে এক বছরে এতবার এমডির চেয়ারপার্সনের রদবদল এর আগে হয়নি। অডিও বাজারের অবস্থা অপরিবর্তনীয় থাকলেও চলচ্চিত্রের গান প্রকাশের এক নতুন জোয়ার তৈরি হয়েছে এ বছর। যদিও যে ক’টি ফিল্ম ট্র্যাক রিলিজের খবর পাওয়া গেছে তার কোনোটিই ব্যবসাসফল হয়নি। অডিও বাজারে এ বছর শিল্পী কম্পোজার হাবিবের সর্বাধিক গান রিলিজ হলেও কোনোটিই তেমন কোনো আলোচনায় আসেনি। অন্যদিকে রুমীর দুই স্ত্রী সমেত ফটোশুট ও মিডিয়ায় নিজের দুই বিয়ে সম্পর্কে গর্বিত উচ্চারণ প্রভা কেলেঙ্কারির পর আবারও মিডিয়াকে কলুষিত করেছে। বছরের শেষ দিকে শওকত আলী ইমনের সাথে এক তরুণীর লিভ টুগেদার অতঃপর থানায় নাটকীয় বিয়ের খবরটি মিডিয়াকর্মীদের আরও একটি লজ্জা। ছোট পর্দায় যথারীতি রেকর্ড সংখ্যক নাটক প্রচার হলেও বেশকিছু ভালো নাটক দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে। তবে মাঝে বিরতির পর ২০১২’তে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো যেন আবারও অস্থির প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিভিন্ন রিয়েলিটি শো নিয়ে। একই সময়ে এই স্থূল প্রতিযোগিতায় এখনও দর্শকেরা কোনোটিকেই খুব একটা অতি আকর্ষণ হিসেবে দাবি করতে পারছে না। অডিওতে মিউজিক ভিডিওর চর্চা বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। আশঙ্কা এই অর্থে যে, মিউিজিক ভিডিওর বাজেট বাড়তে বাড়তে তা লাখ পেরিয়ে অর্ধ কোটি ছুঁতে শুরু করেছে। অনেকে ৩০ লাখ টাকা দিয়ে ভিডিও করার গর্বিত উচ্চারণও করেছেন। অথচ অডিও বাজার বা স্টেজ সর্বসাকুল্যে তার এই পরিমাণ অর্থ উপার্জনের কোনো প্রমাণ নেই। তাই দ্বিধান্বিত হয়েছে এই বিষয়টিও। স্যাটেলটি চ্যানেলগুলোও তাই নিজেরা মিউজিক ভিডিও তৈরি করে তা প্রমোট করার কথা যেন ভুলেই গিয়েছে। সারা বছরে লুপবেজ মিউজিকের ধস নেমেছে ২০১২-তে। একই সাথে পুরোনো ব্যান্ডদলের রক কনসার্টে মেতেছে এ বছরও তরুণরা। সবমিলিয়ে সংগীত, টিভি ও চলচ্চিত্রে গেল তিন বছরের অবক্ষয় থেকে যেন ভালো কিছু সূচনার বছর ছিল ২০১২। আর এই ধারাবাহিকতা টিকে থাকলে ২০১৩ হতে পারে সমৃদ্ধ শোবিজ প্রতিষ্ঠার বছর।