সরকারের অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের সবচেয়ে বড় উত্স সঞ্চয়পত্র বিক্রির জন্য সরকারের নানা উদ্যোগ থাকলেও তা কাজে আসছে না। সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে যে টাকা জমা হচ্ছে ভাঙ্গিয়ে তার চেয়ে বেশি টাকা উঠিয়ে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। চলতি ২০১২-১৩ অর্থ বছরের নভেম্বর মাসে এ চিত্রই দেখা গেছে। একক মাস হিসাবে এ মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাবদ জমা হয়েছে এক হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। আর ভাঙ্গানোর পরিমাণ ছিল দুই হাজার ১০৪ কোটি টাকা। অর্থাত্ এ মাসে জমার তুলনায় ১২৬ কোটি টাকা উঠিয়ে নেয়ায় নীট জমার প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরের হালনাগাদ হিসাবে এ তথ্য দেখা গেছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অর্থ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়ে নীট জমা হয়েছে ৩৮৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এ সময়ে নয় হাজার ৯১১ কোটি টাকা জমার বিপরীতে উত্তোলন করা হয়েছে নয় হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। একই সময়ে সুদ পরিশোধ করা হয়েছে তিন হাজার ২৪২ কোটি টাকা। যদিও অর্থ বছরের প্রথম চার মাস জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়ে নীট জমার পরিমাণ ছিল ৫১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
চলতি অর্থ বছরে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সাত হাজার ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। সেই বিবেচনায় চার মাসে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হওয়ার কথা। অন্যদিকে গতমাস পর্যন্ত যে পরিমাণ নীট জমা হয়েছে এ মাসে তার চেয়ে কমেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ক্রমাগত মূল্যস্ফীতি আর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না হওয়ায় এ খাতে ধস নামার মূল কারণ। সেই সাথে সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উেস কর কর্তনও বড় কারণ হতে পারে বলে তারা মত দিয়েছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন মেয়াদের সঞ্চয়পত্রে সুদের হার বাড়িয়েছে সরকার। তবে তা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তুলনায় কম হওয়ায় সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ভাটা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
