জাতীয় রাজস্বে প্রত্যক্ষ কর বা আয়করের অবদান আরো বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ১৫ কোটি মানুষের মধ্যে আয়করের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন ৩০ লাখ। প্রতি বছর আবার কর প্রদানকারীর সংখ্যা এর অর্ধেকেরও কম। অথচ অন্যান্য দেশে এই হার অনেক বেশি। এই জন্য এনবিআরের কর প্রশাসনকে আরো উন্নত ও বিস্তৃত করার মাধ্যমে মোট রাজস্বে প্রত্যক্ষ কর আদায়ের হার আরো বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি। সোমবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে সর্বোচ্চ ২০ করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্স কার্ড সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন এতে সভাপতিত্ব করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে শুল্ক আদায় কমে যাবে। এই সময়ের মধ্যে অনেক পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। ফলে শুল্ক আদায় কমে যাবে। এই শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) খাত থেকে। ভবিষ্যতে করের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ইঙ্গিত দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। সুতরাং সেই যাত্রা যেন সুখকর হয় সেই চেষ্টা করদাতা ও কর কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে করতে হবে। বিদ্যমান ট্যাক্স কার্ড নীতিমালার আলোকে ১০ জন্য শীর্ষ ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতা ও ১০টি শীর্ষ করদাতা কোম্পানিকে ট্যাক্স কার্ড প্রদান করা হয়। আগামীতে এই সংখ্যা আরো বাড়ানোর কথা বলেছেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশে বর্তমানে ৬০ লাখ করদাতা থাকা উচিত। অথচ বর্তমানে বাংলাদেশে করদাতার সংখ্যা ১১ লাখ ৩০ হাজার। এর অর্থ হচ্ছে এখনো বেশিরভাগ সম্ভাব্য করদাতাকে করের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরো বাড়ানোর তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনবিআর সদস্য (আয়কর প্রশাসন) এম এ কাদের সরকার ও সদস্য বশির উদ্দিন অহমেদ। ট্যাক্স কার্ড সম্মাননা প্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের (সিআইপি) ন্যায় সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। ট্যাক্স কার্ড সম্মাননা প্রাপ্ত কোম্পানি শ্রেণীর ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো শেভরন বাংলাদেশ ব্লক-১২, সিলেট গ্যাস ফিল্ড, সিটি ব্যাংক এন এ, আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ট্রাস্ট ব্যাংক, সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি (বেপজা), যমুনা ব্যাংক, এ কে খাঁন এন্ড কোম্পানি ও বাপেক্স। এছাড়া ব্যক্তিশ্রেণীর মনোনীত ১০ করদাতা হলেন, মোতাজ্জেরুল ইসলাম, ইকবাল হায়দার চৌধুরী, হাজী মো: কাউছ মিয়া, এম এম আমজাদ হোসেন, মোহাম্মদ ইউসুফ, এম এ হায়দার হোসেন, মো: মোতাহার হোসেন, সালাউদ্দিন কাশেম খাঁন, এ এম জিয়াউদ্দিন খাঁন ও লায়লা হোসেন।
