উদ্বোধনের আগেই ভ্যাকসিন ল্যাবরেটরিতে আগুন

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১৯
মহাখালীস্থ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন ওষুধ ও ভ্যাকসিনের মান পরীক্ষার জন্য নির্মিত দেশের প্রথম আধুনিক ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরির বেশ কিছু স্থাপনা ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি আগুনে পুড়ে গেছে। ভস্মীভূত হয়েছে পাশের ভবনের টিকাদান কর্মসূচি প্রকল্পের প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের তিনটি গাড়ি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি। প্রাথমিক হিসাবে মোট ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। গত ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দ্বিতল ভবন বিশিষ্ট এই ভ্যাকসিন ল্যাবরেটরিতে আগুন লাগলেও অজ্ঞাত কারণে এই তথ্য অতি গোপন রাখা হয়। জানা যায়, নতুন বছরের শুরুতে কোন এক সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই টেস্টিং ল্যাবরেটরিটি উদ্বোধনের সম্ভাবনা ছিলো। ইতিমধ্যেই ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়ে অনুরোধপত্র দেয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে প্রধানমন্ত্রী যে ল্যাবরেটরিটি উদ্বোধনের কথা সে ল্যাবরেটরিটি এমন অরক্ষিতভাবে রাখা হলো কেন। পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনাটি দায়সারা তদন্তের মাধ্যমে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। এদিকে, গত রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ল্যাবরেটরির পিছনের অংশের দেয়ালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মেইন ইলেকট্রিক লাইন, এয়ার কন্ডিশন লাইন, এসি, গ্লাস পার্টিশন, ফলস সিলিং, এয়ার হ্যান্ডলিং ইউনিট, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতির ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। এছাড়া ল্যাবরেটরির পিছনের দিকে থাকা জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির একটি গাড়িসহ তিনটি গাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। অথচ এই ইপিআই ভবনেই মজুদ রয়েছে ১০০ কোটি টাকার ভ্যাকসিন। প্রাথমিক অবস্থায় মমিনুল ইসলাম নামের একজন সাহসী তরুণ ও অপর একজন কর্মচারী আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে দমকল কর্মীরা এসে আগুন আয়ত্তে আনেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ন্যাশনাল টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে এই সময় কোন গার্ড ছিলেন না। নামে মাত্র ১ জন গার্ড দেয়া হলেও সে রাত ৮টার আগে আসেন না। একইভাবে টিকাদান প্রকল্পের নিরাপত্তাও ছিলো নাজুক। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে দেশে প্রস্তুত বায়োটেক ওষুধ বিশেষ করে ভ্যাকসিনের মান পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাখালীস্থ পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকায় এই ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। এই ন্যাশনাল ভ্যাকসিন কন্ট্রোল ল্যাবরেটরিটি স্থাপনের জন্য ওষুধ শিল্প সমিতি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলো। এই ন্যাশনাল ড্রাগ কন্ট্রোল ল্যাবরেটরি (এনসিএল) হতো দেশের প্রথম বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ড্রাগ টেস্ট্রিং রেফারেন্স ল্যাবরেটরি। বিদেশে ভ্যাকসিন রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে ভ্যাকসিন সরবরাহের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন উত্পাদক দেশে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ল্যাবরেটরি থাকা অত্যাবশ্যক। এছাড়া বর্তমানে দেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে বিদেশ থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক কোটি টাকার ভ্যাকসিন ক্রয় করতে হয়। দেশে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ল্যাবরেটরি থাকলে দেশের ভ্যাকসিন উত্পাদন ও মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মাইল ফলক হবে। তাই ভ্যাকসিন টেস্টের জন্য নির্মিত দেশের একমাত্র বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার রেফারেন্স ল্যাবরেটরির অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষতি কোন চক্রান্ত কিনা তাও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জানা যায়, ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরির দায়িত্বে আছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো: সেলিম বারামি। ল্যাবরেটরির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালককেই প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় টিকাদান ভবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য টিকাদান কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা: তাজুল ইসলাম বারীকে প্রধান করে অপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ১০ দিন পার হলেও কোন কমিটি এখন পর্যন্ত তাদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দেননি। এ ব্যাপারে ঔষধ প্রশাসনের পরিচালক এএ সেলিম বারামি জানান, তদন্ত চলছে ২/১ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়া হবে।