দক্ষিণ আফ্রিকা আজ বুধবার কেপ টাউনের নিউল্যান্ডসে নতুন বছরে প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হচ্ছে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের। দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজে গ্রায়েম স্মিথ বাহিনীর লক্ষ্য আইসিসি’র (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল) টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি আরো সুসংহত করা।
যদিও শক্তির বিচারে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে নিউজিল্যান্ডের তফাত অনেক। তাছাড়া টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে আটে পড়ে থাকা নিউজিল্যান্ডে দলে আছে ইনজুরির সমস্যা, দল থেকে সাবেক অধিনায়ক ও তারকা ব্যাটসম্যান রস টেলরের সরে দাঁড়ানোর শূন্যতা। দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ গ্যারি কারস্টেন অবশ্য প্রতিপক্ষ দুর্বল বলে জিতেই যাচ্ছেন এমনটা ধরে নিচ্ছেন না।
কারস্টেন আরো জানান, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ জিতে শীর্ষে ওঠা এবং তা ধরে রাখার পর তারা ভাল কিছুর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে তাদের ব্যস্ত টেস্ট সূচি শুরু করতে চান।
প্রোটিয়ারা গত বছর ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জিতেছে। সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। টানা চার টেস্ট সিরিজ জিতেছে প্রোটিয়ারা। আর দলটি শেষ টেস্ট সিরিজ হেরেছে ২০০৯ সালে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) নিজেদের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এরপর দশটি টেস্ট সিরিজে পাঁচটিতে ড্র ও পাঁচটিতে জয় তাদের।
কারস্টেন বলেন,‘২০১৩ সালে আমাদের দশটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে হতে পারে। একটি দল হিসেবে আমাদের লক্ষ্য রয়েছে যে এ বছরে কি অর্জন করতে চাই। শুরুতে এজন্য নিউজিল্যান্ডের সিরিজটি হবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০১২ সালে আমাদের দলের সফলতার কারণ নিজেদের খেলাটায় আমরা বিনয়ী ছিলাম। আমরা যেকোন পরিস্থিতিতে বা কোন দলকে হালকাভাবে নেইনি। আমরা আমাদের প্রস্তুতিটা ঠিকমতো হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করি। যখন টেস্ট খেলতে নামি, আমরা নিজেদের জন্য দৃঢ় ভিত্তি গড়ি যার উপর দাঁড়িয়ে সাফল্য পেতে পারি। এই সিরিজটিকেও আমরা অন্যভাবে দেখছি না।’
টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে হলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে এই সিরিজে ২-০ ব্যবধানের কমে জেতা যাবে না। এই ব্যবধানে সিরিজ জিতলে দক্ষিণ আফ্রিকা পাবে এক পয়েন্ট। যদি গ্রায়েম স্মিথের দল ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জেতে, তাহলে আবার এক পয়েন্ট হারাবে। আর যদি নিউজিল্যান্ডের কাছে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ হারে তাহলে খোয়াবে সাত পয়েন্ট এবং সেক্ষেত্রে ইংল্যান্ড টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে আসবে।
নিউজিল্যান্ড শিবিরকে সাহস যুগিয়ে চলছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়। অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, মার্টিন গাপটিল এবং কেন উইলিয়ামসন কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারেন।
গাপটিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন। পার্লে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন ম্যাককালাম,গাপটিল ও উইলিয়ামসন হাফ।
গত বছরের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে ১-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল। তিন টেস্ট ম্যাচের সিরিজে নিউজিল্যান্ডের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন উইলিয়ামসন।
পেসার টিম সাউদি ও বাঁ-হাতি স্পিনার ড্যানিয়েল ভেট্টরি নেই ইনজুরির জন্য। তাই বাঁ-হাতি উদ্বোধনী বোলার ট্রেন্ট বোল্ট এবং অভিজ্ঞ ক্রিস মার্টিন আক্রমণভাগের মূলে রয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন বলের বোলার ভেরনন ফিল্যান্ডার হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে আক্রান্ত ছিলেন। তাকে নিয়ে দুঃচিন্তা ছিল। পেসার ডেল স্টেইন ও মরনে মরকেলের সাথে তিনি যোগ দিতে পারেন। প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইন আপে তো রয়েছেন বিশ্ব মানের গ্রায়েম স্মিথ ,হাশিম আমলা,জ্যাক ক্যালিস ও এবি ডিভিলিয়ার্স।
দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজ
প্রথম টেস্ট,২-৬ জানুয়ারি, কেপ টাউন
দ্বিতীয় টেস্ট, ১১-১৫ জানুয়ারি, পোর্ট এলিজাবেথ।
