প্রিয় পাঠক, আমরা প্রতিবছরের মতো এ বছরেও আগামী তিন দিনে সংগীত, টিভি ও চলচ্চিত্রের বিশ্লেষণ প্রকাশ করব। সেই ধারাবাহিকতায় আজ থাকছে ২০১২-তে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা নিয়ে তারকাদের ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ।
শাকিব খান :২০১২ এর উল্লেখযোগ্য ঘটনা বিশ্লেষণ করলে প্রথমে বলতে হয়, শাকিব-অপু বিশ্বাসের জুটি ভাঙার ঘটনা। গত ৫ বছরে চলচ্চিত্রে এ জুটির সর্বাধিক ছবি রিলিজ হলেও এবারে অপুর জায়গায় শাকিব খান জুটি গড়েছিলেন সাহারার সাথে। এমনকি সাহারার সাথে প্রেম গুঞ্জনও বাতাসে ছড়িয়েছে বেশ। তবে শাকিব খান-সাহারা জুটির কোনো উল্লেখযোগ্য হিট নেই।
অনন্ত :গেল বছরের আলোচিত তারকার কথা উল্লেখ করতে হলে অনন্তের কথা বলতেই হয়। তবে এই নায়কের উচ্চারণগত সমস্যার কারণে পরবর্তীতে স্যাটায়ার ক্রেজে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। সংক্ষেপে তারকাদের ক্যারিয়ার সাফল্যে ২০১২-তে চলচ্চিত্রে কোনো সফল তারকার আগমন ঘটলে তা একমাত্র তিনিই। ফেসবুক, ইউটিউবসহ সমস্ত ব্লগে তাকে নিয়েই আলোচনা চলেছে সারা বছর। ২০১২-এর আলোচিত সুপারস্টার তিনি।
রিয়াজ :এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক রিয়াজ ২০১২-তে পুরোপুরি ব্যস্ত ছিলেন তার ব্যবসা ও কর্পোরেট পরিচয় নিয়ে। এমনকি চলচ্চিত্র নিয়ে তার নাক সিঁটকানোর কথাও শোনা যায়। সারা বছরে চলচ্চিত্র নিয়ে কোনো উদ্যোগ বা ইতিবাচক মন্তব্যেও তাকে পাওয়া যায়নি। নিজের তারকা ইমেজের শেকড়ের প্রতি এ ধরনের স্বার্থপরতা অনেককেই অবাক করে।
ফেরদৌস :চলচ্চিত্র পর্দার চেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন তিনি বিভিন্ন রিয়েলিটি শো নিয়ে। অভিনয়, মডেলিং, নাচ সব ধরনের রিয়েলিটি শোতেই ছিল তার উপস্থিতি। এ ছাড়া ফেরদৌস অভিনীত ‘জিদ্দি বউ’ ও ‘হঠাত্ সেদিন’ ছবি দুটিও ছিল ফ্লপের তালিকায়। প্রযোজক হিসেবে ‘এক কাপ চা’-এর শুধু বিচ্ছিন্নভাবে কিছু শুটিংয়ের খবরই পাওয়া গেছে। এর বাইরে ছবিটি নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ইমন :প্রাণান্ত চেষ্টা করেছেন চলচ্চিত্রে টিকে থাকবার। ‘লালটিপ’ ব্যবসাসফল বলাটা মুশকিল হলেও আলোচনায় ছিল বলে তা ইমনের ক্যারিয়ারের জন্য সোনায় সোহাগা হয়েছে। এক কথায় বলা যায়, ইমন তার মডেল ইমেজ থেকে অনেক খানি বেরিয়ে ফিল্ম স্টার হিসেবে পরিচিতি অর্জনের চেষ্টায় অনেকখানিই সফল হয়েছেন। আর এই সাফল্যে বছরের শেষ দিকে তার হাতে বেশ কিছু ছবিও এসেছে।
নিরব :ইমনের পিছু পিছু চলচ্চিত্রে জায়গা করার প্রাণান্ত চেষ্টা চালালেও, মেধাহীন পরিচালকদের সম্পৃক্ততার কারণেই সেইভাবে আলোচনায় আসতে পারেননি তিনি। তবে সারিকার সাথে প্রেম, পরিণয় অতঃপর বিয়ের ঘটনায় ছিলেন আলোচনায়।
ডিপজল :গত কয়েক বছর চলচ্চিত্রের অন্যতম নাম হলেও গেল বছর ছিলেন একেবারে ম্রিয়মান। ডিপজল অভিনীত তিনটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেলেও তা কোনো আলোচনায় টেকেনি। বরং বিভিন্ন জনের সাথে মামলা-মোকদ্দমার আলোচনায় ছিলেন তিনি।
মিশা সওদাগর :চলচ্চিত্রে ২০১২ সালে সর্বাধিক চলচ্চিত্রের অভিনেতা তিনি। যদিও সব ছবিতেই প্রায় একই ঢঙে, একই এক্সপ্রেশনের অভিনয় ও প্রায় একই ধরনের চরিত্র করে গেছেন তিনি। এরপরও তিনি ছিলেন ২০১২-এর চলচ্চিত্রের সবচেয়ে অপরিহার্য শিল্পী।
মৌসুমী :বছরের শুরুর দিকে সিঙ্গাপুর থেকে স্লিম ফিগারের থেরাপি নিয়ে এবারেও চলচ্চিত্রে সেই অর্থে ছিলেন না মৌসুমী। বরং কিছু টিভি নাটক করে নির্মাতাদের চমক আইটেম হিসেবে থেকেছেন। বছরের শেষ দিকে একটি সংগীত রিয়েলিটি শো’তে তার ভূমিকা নিয়ে অনেক সংগীতশিল্পী প্রশ্নও তুলেছেন।
শাবনূর :বছরের অধিকাংশ সময়ই ছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানকার নাগরিকত্ব পেয়েছেন এ বছরই। তাই যথারীতি অন্য সিনিয়র নায়িকাদের মতো তিনিও এই মিডিয়া থেকে খ্যাতি-অর্থ নিয়ে নিজের মতো করেই প্রবাস যাপনের পরিকল্পনা নিয়েছেন। চলচ্চিত্রের প্রতি তার এই অকৃতজ্ঞতাই নজরে এসেছে এ বছর।
অন্যদিকে চিত্রনায়িকা শাবানা চলচ্চিত্র প্রযোজনায় আসবেন বলে গেল বছরের শুরুর দিকে ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে দেখা যায় তিনি ছবি তৈরির জন্য কলকাতার নায়িকা খুঁজছেন। কিন্তু টালিগঞ্জ তাকে ফিরিয়ে দেওয়ায় সে যাত্রা আর কোনো ঘোষণা আসেনি। তার এই দীর্ঘদিনপর চলচ্চিত্র প্রযোজনায় এসে এ ধরনের বিদেশি শিল্পী খোঁজার বিষয়টিকে সকলেই সমালোচনা করেছেন। এদিকে গেল বছর দু থেকে তিনবার আমেরিকা থেকে এসেই শাবানা তার শ্বশুরালয় যশোরে গিয়ে গণসংযোগ করেছেন এমনও শোনা গেছে। তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন এমন কথাও শোনা গেছে বেশ কয়েকবার।
জয়া আহসান ২০১১-এর ‘গেরিলা’র সাফল্যের পর নিজেকে চলচ্চিত্র তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণান্ত থেকেছেন। বেশ কিছু নতুন ছবির খবরও হয়ে এসেছেন তিনি। যার ফলাফল বছরের শেষে রেদওয়ান রনির ‘চোরাবালি’। এদিকে ২০১২ সাল ছিল একঝাঁক তরুণ চিত্র পরিচালকের আওয়াজ দেওয়ার বছর। তরুণ টিভি নাটক নির্মাতা বা আগে কখনও নির্মাণে আসেননি এমন অনেককেই শোনা গেছে তারা ডিজিটাল ফিল্ম নির্মাণ করছেন। তবে এই আওয়াজ সত্য হলে তা এ বছর ছবি মুক্তি একশত পার হয়ে যাবে এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তরুণ নির্মাতাদের ভেতরে মোস্তফা কামাল রাজ, রেদওয়ান রনি, ইফতেখার আহমেদ ফাহমি, অনন্য মামুন, নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলসহ সকলেই সফল চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। আর ডিজিটাল চলচ্চিত্রের তকমা বহুলভাবে ব্যবহার করেছে জ্যাজ মাল্টিমিডিয়া। ‘ভালোবাসার রঙ’-এর কাহিনী দুর্বলতা ও নির্মাণ অসংলগ্নতার কারণে ছবিটি ব্যবসাসফল হয়নি। তবে জ্যাজ মিডিয়ার হল ডিজিটাল করার উদ্যোগটি সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। এদিকে চলচ্চিত্রে বরাবরের মতো দ্বিতীয় সারির তারকা হিসেবেই থেকেছেন আমিন খান, অমিত হাসানেরা। এমনকি তাদের ভালো ছবির প্রতি চেষ্টারও কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি এ বছরও। বরং ২০১২-তে বিতর্কিত এমএলএম ব্যবসায় জড়িয়ে বিতর্কের সাথে নাম লেখান চিত্রনায়ক রুবেল, অমিত হাসান, আলেকজান্ডার বোসহ অনেকে। চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে গণসচেতনা তৈরির কাজে প্রাণপণ চেষ্টা করেও বছরের শেষ দিকে তিনি নিজেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। চিত্রনায়িকা নিপুণ চেষ্টা করেছেন সিনেমায় নিজেকে ব্যস্ত রাখাতে। তবে বছরের শেষ দিকে তিনি টিভি পর্দাতেও ব্যস্ত হয়ে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার নাজুক করে ফেলেন। অনেক চেষ্টা করেও চলচ্চিত্র তারকা তকমা লাগাতে পারেননি রুমানা, জায়েদ খানেরা। তাদের উল্লেখ করার মতো অভিনয় বা চলচ্চিত্র ছিল না সারা বছরেও।
বি.দ্র . এটি ২০১২-এর চলচ্চিত্র তারকাদের ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ। পাঠকদের কোনো ধরনের মতামত থাকলে আপনারাও পাঠতে পারেন। প্রাসঙ্গিক মতামত হলে আমরা তা ছাপব। আগামীকাল প্রকাশ হবে সংগীত তারকাদের ক্যারিয়ার নিয়ে সার্বিক আলোচনা।
