গত বছর ‘রাওডি রাঠোর’, ‘সন অব সর্দার’, ‘দাবাঙ-২’—সোনাক্ষি সিনহার তিনটি ছবি পর পর ১০০ কোটি রুপিরও বেশি ব্যবসা করেছে। তিন ব্লকবাস্টার মুভির হ্যাট্রিক সাফল্যে এখন হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছেন বলিউডের নতুন, প্রজন্মের সুপারহিট এই অভিনেত্রী। আজকাল হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো শীর্ষ জনপ্রিয় অভিনেত্রী একটানা সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারছেন না। এ ক্ষেত্রে সোনাক্ষি সমসাময়িক অন্যান্য শীর্ষ জনপ্রিয় অভিনেত্রীর কাতারে নিজেকে নিয়ে যেতে পেরেছেন। এখন হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নামিদামি নির্মাতা ও ব্যানারের পছন্দের তারকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন সোনাক্ষি। ব্র্যান্ড অ্যাম্বেসেডর হিসেবে তাকে মনোনীত করছে বিভিন্ন বহুজাতিক ও ভারতীয় পণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানি। টিভিপর্দায় বিভিন্ন পণ্যের অ্যাডে সোনাক্ষির উপস্থিতি দর্শকদের প্রলুব্ধ করছে বলে একের পর এক লোভনীয় অফার আসছে তার কাছে ব্র্যান্ড অ্যাম্বেসেডর হওয়ার জন্য। এই সময়ে বলিউডের জনপ্রিয় নায়িকাদের মধ্যে ব্র্যান্ড অ্যাম্বেসেডর হওয়ার অঘোষিত লড়াই চলছে। ক্যাটরিনা কাইফ, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, কারিনা কাপুর, আনুশকা শর্মা, বিদ্যা বালান এমনকি নতুন আসা পরিণীতি চোপড়াও লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সোনাক্ষি সিনহার অবস্থান তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল বলা যায়। আজকাল যেখানে বলিউড অভিনেত্রীদের একটি ১০০ কোটি রুপি ব্যবসায়িক সাফল্যের ছবির জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করতে হয়, সেখানে মাত্র দু’বছরের ফিল্মি ক্যারিয়ারে চারটি ব্লকবাস্টার ছবির নায়িকা হিসেবে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সোনাক্ষি। তেমন সাফল্যের ধারা বজায় রাখার পাশাপাশি নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবে ক্রমেই অনেকটা পরিণত করেছেন সোনাক্ষি সিন্হা। তার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘দাবাঙ-২’-এ দর্শক এর উজ্জ্বল প্রকাশ দেখেছেন। যারা এর আগে ২০১০ এর ‘দাবাঙ’-এ রাজ্জোরূপী সোনাক্ষিকে দেখেছেন সেই একই চরিত্রে আবার ২০১২-তে ‘দাবাঙ-২’-এ তাকে আবার দেখলেন সম্প্রতি। তারাই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সোনাক্ষীর উত্তরণ দেখে। গত ২০১২-তে ‘ওহ মাই গড’ ছবিতে স্রেফ একটি নাচগানের দৃশ্যে পারফর্ম করেও বাজিমাত করেছেন তিনি। একই বছরে তার আরেকটি ছবি ‘জোকার’ বক্স অফিসে ধরাশায়ী হলেও এর মন্দ প্রভাব সোনাক্ষির ক্যারিয়ারে পড়েনি। এটা তার জন্য অনেকটা সহায়ক হয়েছে। এরপর তিন তিনটি ব্লকবাস্টার ছবির বিরাট সাফল্য তার একটি সুপারফ্লপ ছবির ব্যর্থতার গ্লানি মুছে দিয়েছে। অভিনীত ছবিগুলোর প্রতিটিরই ১০০ কোটি রুপিরও বেশি ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে সোনাক্ষি বিশেষ কোনো স্ট্যাটেজি গ্রহণ করেছেন কি না, তেমন আলোচনার প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাত্কারে বলিউডের সফল এই অভিনেত্রী সাফ সাফ বলেছেন, আমি সে রকম কিছু ভেবে কোনো ছবিতে অভিনয় করি না। আমি একজন অভিনেত্রী, কেউ যদি ছবিতে আমার অভিনীত চরিত্রটি সম্পর্কে কিছুটা খুলে বলে, যদি তা আমার মনে ধরে তাহলে আমি রাজি হয়ে যাই। অভিনয়ের ক্ষেত্রে ১০০ কোটি রুপি ব্যবসার সম্ভাবনার কথা একদম ভাবি না আমি। আসলে এভাবে কেউ ভাবে না। কোনো ছবিতে অভিনয়ের সময় সেই ছবিতে আমার অভিনীত চরিত্রটির বাইরে ছবির স্ক্রিপ্ট, নির্মাতার প্রজ্ঞা, মেধা এবং ছবির সামগ্রিক বিষয়বস্তুর কথাও ভাবা উচিত একজন শিল্পীর। আমি এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিই।’ সোনাক্ষির আজকের সাফল্য এবং জনপ্রিয় তারকা অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচিত হওয়ার পেছনে বলিউডের সুপারস্টার সালমান খানের বিরাট অবদান রয়েছে। তাকে সিনেমায় অভিনয়ে এনেছেন সালমান খানই। এজন্য সবসময় সালমানকে প্রশংসা করেন সোনাক্ষী। সালমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তার সাথে চমত্কার সম্পর্ক প্রসঙ্গে সোনাক্ষী বলেন, ‘আমি তার কাছ থেকে সব সময়ই সহযোগিতা পেয়ে আসছি। তিনি আমার সমালোচনা করেন সব সময়ই, তবে তা হয় গঠনমূলক ও ইতিবাচক। তার কারণেই আমি আমার মোটা শরীর কমিয়ে নায়িকা হওয়ার মতো যোগ্য ফিগার গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি। সালমান খানের কারণেই আমি একজন অভিনেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছি। আমার সাফল্য ও ক্রম উত্তরণে সালমান খান নিজেও ভীষণ খুশি কারণ আমার জন্য তার বিশেষ অবদান কাজ দিয়েছে আমি মোটামুটি ভালো সাফল্য পেয়েছি। এসবের পেছনে তার নিজের অবদান সত্যি সত্যি কাজে লেগেছে।’ উল্লেখ্য যে, ছবিতে নায়িকা হওয়ার আগে সোনাক্ষী সিনহার শরীরের ওজন ছিল ৮০ কেজি। অনেক চেষ্টা আর পরিশ্রমের ফসল সোনাক্ষির আজকের দুর্দান্ত সৌন্দর্য। তবে এ নিয়ে কেউ কেউ সোনাক্ষির বিরূপ সমালোচনা করেন। তেমন কটাক্ষ কিংবা সমালোচনা গায়ে মাখতে চান না তিনি। ‘আমাকে তেমন সমালোচনা প্রভাবিত করে না মোটেও। টিভিতে যখন আমার আগের ছবি দেখানো হয় তখন আমার হাসি পায়। আমার কোনো ছবি যখন বক্স অফিসে ঝড় তোলে তখন দর্শক সব ভুলে যায় এটা আমি বুঝি ভালো করেই।’ গত দু’বছরের ফিল্মি ক্যারিয়ারে বলিউডের চাহিদাসম্পন্ন তারকারূপে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি নিজেকে। কিন্তু এত বড় বড় সাফল্যের পরেও তার ব্যক্তিজীবনের অনেক কিছুই অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। সোনাক্ষি সিনহা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার কিছুই বদলায়নি, আমার পরিবারের সবাই আগের মতোই ব্যবহার করে আমার সঙ্গে, এখনও যদি আমি দেরি করে ঘুম থেকে উঠি আমাকে মায়ের গালাগাল বকাঝকা শুনতে হয় ঠিক আগের মতো। আসলে আমার ঘরের জীবন অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। অনেক সময় সাফল্য কারও কারও মাথা গরম করে দেয়। আমার বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সদস্যদের এজন্য ধন্যবাদ দিতে হয় তারাই আমাকে সঠিক ও স্বাভাবিকভাবে চলতে সহায়তা করেছেন অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।’ সোনাক্ষি আরও বলেন, ‘আমার মা-ই হলেন আমার সবচেয়ে বড় সমালোচক। আমি তার মতামতটাকে সব সময় গুরুত্ব দিনই। আমি জানি আমার মঙ্গল চান তিনি। তেমনভাবে অন্য কেউ চাইবে না। যদি আমার সাজসজ্জা পোশাকআশাকে বেমানান কিছু হয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গে তা ধরিয়ে দেন আমার মা। আমি নিজেকে সেভাবে শুধরে নিই সঙ্গে সঙ্গে।’ হাতে ছবি নেওয়ার ক্ষেত্রে সোনাক্ষি তার পরিবারের সবার সঙ্গে বসে আলোচনা করে যদি তা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয় তাহলেই রাজি হন। এ প্রসঙ্গে সোনাক্ষি বলেন, ‘আমি একটি ফিল্মি পরিবারের মেয়ে। আবার বাবা দীর্ঘদিন ধরে সিনেমা জগতের সঙ্গে যুক্ত। আমার দু’ভাই এবং মা সিনেমা জগতের অনেক কিছুই জানে, তারা যেটা ভালো মনে করে সেটা আমি মাথা পেতে মেনে নিই।’
