শহরতলীর
সদস্যরা হলেন
মিশু (ভোকালিস্ট, গিটারিস্ট)
তপন (বেজিস্ট, গীতিকবি)
সানি (ড্রামার, শব্দকুশলী)
সুখন (লিড গিটারিস্ট)
সোহাগ (পারফর্মিং ভোকাল)
শহরতলী সম্ভবত বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ড যাদেরকে ‘থিয়েট্রিকাল রক’ ব্যান্ড বলা যায়। নিজেদের সংগীত পরিচয়কে আরেকটু স্পষ্ট করতে ব্যান্ডের বেজিস্ট ও গীতিকার তপন মাহমুদ বলেন, ‘মঞ্চে যেমন গান, নাচ, কবিতা, গীতিকবিতা, অভিনয়, গীতিনাট্য সবকিছুকে একটি কেন্দ্রে নিয়ে এসে বিশেষ আবহ তৈরি করা হয় এবং সব অভিব্যক্তি ওই আবহকে ঘিরেই আবর্তিত হয়; ঠিক তেমনি আমরাও সংগীত, সুর, কবিতা, সংলাপ ও গীতিকবিতা দিয়ে একই কাজ করার চেষ্টা করছি। এ ধরনের প্রকাশনাকে আমরা থিয়েট্রিকাল রক বলতে পারি।’
জন্মকথা ও বেড়ে ওঠা
শহর থেকে একটু দূরে, কিন্তু শহর ছাড়িয়ে নয়—এমন একটি পরিবেশে জন্মেছে ‘শহরতলী’। সময়টা ২০০৫ সাল। মিরপুরের কোনো এক নাম না জানা গলি থেকে এই ব্যান্ডের যাত্রা শুরু হয়েছিল। অলস দুপুরের আড্ডা আর জাগতিক কাজে নির্লিপ্ত কিছু ছন্নছাড়ার অগোছালো কিন্তু সৃজনশীলতার ফলাফলই হলো এই শহরতলী। ব্যান্ডের নামকরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ভোকাল মিশু বলেন, ‘ব্যান্ডের সব সদস্য মিরপুরের। আমাদের স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্ন, হাসি ও কান্না সবই আবর্তিত হয় মিরপুরকে ঘিরে। তাই নিজেদের আত্মার ঠিকানার জানান দিতেই এ ধরনের নামকরণ।’
তাদের আত্মপ্রকাশ ‘আসাদের খোলা চিঠি’ নামক একটি গান দিয়ে, যা ২০০৭ সালে ‘নিয়ন আলোয় স্বাগতম’ নামক একটি মিক্সড অ্যালবামে প্রকাশিত হয়। কবি আসাদ চৌধুরীর ‘বারবারা বিডলার-কে’ কবিতার আলোকে বর্তমানের স্বাধীনতার একটা তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল সে গানে। গানটি সমালোচকদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। শহরতলী ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে বের করে তাদের প্রথম একক প্রয়াস ‘বরাবর শহরতলী’। এই সংকলনে থিয়েট্রিকাল রক ছাড়াও স্থান পেয়েছে সফট রক, মেলো রক, পপ রক, সাইকেডলিক রক ও প্রগ্রেসিভ রক ধাঁচের কিছু গান। এ সংকলনে শহরতলী তুলে ধরে স্বাধীনতার চেতনা, অসমতা, দুর্নীতি, সমসাময়িক সময়ের ডামাডোল ও শহুরে গোলোযোগ। এই অ্যালবামের গানগুলো হলো—‘এ শহর’, ‘প্রতিক্রিয়া’, ‘আকাশ-পৃথিবী’, ‘পদধ্বনি’, ‘প্রস্থান’, ‘অতলে শহরতলী’, ‘সোনালি সেই দিনে’ ও ‘কর্কশ’। ২০১২ সালের অক্টোবরে ‘হাতিয়ার’ নামক মিক্সড অ্যালবামে প্রকাশিত হয় শহরতলীর আরেকটি গান ‘ফেলানী-২০১১’। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, ফেলানীকে নিয়ে নির্মাণাধীন ছায়াছবি ‘ফেলানী’-তে শহরতলীর গানটি ব্যবহূত হবে। ছবিটির পরিচালক ইউসুফ চৌধুরী।
শহরতলীর ব্যস্ততা
ব্যান্ডটি তাদের দ্বিতীয় অ্যালবামের কাজে প্রায় শেষ করে নিয়ে এসেছে। অ্যালবামের নাম ‘অপর পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য’। অ্যালবামের নামকরণ প্রসঙ্গে ব্যান্ডের ড্রামার সানি বলেন, ‘প্রথম প্রয়াসের পর দ্বিতীয় প্রচেষ্টা, পরের পৃষ্ঠার মতো উল্টিয়ে দেখতে হবে আমরা নতুন কী করছি, এজন্যই এমন নামকরণ।’ অ্যালবাম সম্পর্কে পারফর্মিং ভোকাল সোহাগ বলেন, ‘এই অ্যালবামে সুর আর সংগীত আয়োজনের দিকে আমরা বেশি নজর দিয়েছি। আর ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে করা গানে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টাও আছে, আশা করি গানগুলো সবার ভালো লাগবে।’ আগের অ্যালবামের মতোই গানের ভাবের সাথে মিল রেখে ৫টি গানে কবিতা ব্যবহূত হয়েছে; তবে পার্থক্য হচ্ছে, খ্যাতনামা কবির লেখার সাথে ব্যান্ডের সদস্যদের লেখাও ব্যবহূত হয়েছে। অ্যালবামের উল্লেখযোগ্য গানগুলো হচ্ছে, ‘নীলিকা’, ‘দেশ-মাতার কাছে চিঠি’, ‘মা’, ‘গণ জোয়ার’, ‘বাঁধন’, ‘খড়কুটো’, ‘সুর-অসুর’ ইত্যাদি।
অ্যালবামটি কবে নাগাদ আসতে পারে, তা জানতে চাইলে ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট সুখন বলেন, ‘২০১৩ সালের শুরুর দিকে অ্যালবামটি বাজারে আনতে চাই, সে লক্ষ্যেই রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছি। সবকিছু ঠিক থাকলে শ্রোতারা যথাসময়ে আমাদের অ্যালবাম হাতে পেয়ে যাবেন।
