প্রথম বিভাগ ফুটবল

বাড্ডা জাগরণী চ্যাম্পিয়ন

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০৪
প্রথম বিভাগ ফুটবলে বাড্ডা জাগরণী সংসদ চ্যাম্পিয়ন হবে। কথাটা ক্রীড়াঙ্গনেই শোনা যাচ্ছিল। শেষ ম্যাচে ঢাকা ওয়ান্ডরার্স ক্লাবকে হারালেই শিরোপা তাদের। ক্রীড়াঙ্গনের এই কথাটা মিথ্যা হয়নি। জাগরণী সংসদ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গতকাল বিকালে কমলাপুর স্টেডিয়ামে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রথম বিভাগ ফুটবলে জাগরণী সংসদ ২-১ গোলে ওয়ান্ডরার্সকে হারিয়ে ১২ খেলায় ১২ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জয় করে। সমান খেলায় ২৬ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়েছে যাত্রাবাড়ী ক্রীড়া চক্র। লিগ থেকে নেমে গেছে সানরাইজ স্পোর্টিং ক্লাব। বাড্ডা জাগরণী সংসদ আগামী মৌসুমে পেশাদার লিগের দ্বিতীয় স্তর বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে খেলবে, তবে সেটা শর্তসাপেক্ষে। গতকাল যাত্রাবাড়ী ক্রীড়া চক্রের বিরুদ্ধে ম্যাচটা হারতে বসেছিল বাড্ডা জাগরণী সংসদ। খেলার ৭৫ মিনিটে অপুর গোলে এগিয়ে ছিল বাড্ডা জাগরণী। ৮৯ এবং ইনজুরি টাইমে সাব্বিরের গোল দু’টি জাগরণীকে শিরোপা জয়ের স্বাদ এনে দেয়। উত্সবের উপলক্ষ তৈরি এনে দেয় কাল। একটা সময় এই দলটি ঢাকার ফুটবলের বড় আসরে প্রতাপের সাথে খেলেছে। ৯৮ সালে প্রথম বিভাগ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ৯৯ সালে ঢাকার প্রিমিয়ার ফুটবলে খেলার টিকিট পায় দলটি। দুই হাজার সালে বাড্ডা জাগরণী চমকে দেয় তানভিরের একমাত্র গোলে আবাহনীকে হারিয়ে। বড় দল মোহামেডানের সাথেও ড্র করেছিল জাগরণী। কিন্তু আবাহনীকে হারানোই ছিল ক্লাবটির স্মরণীয় ঘটনা। শুধু ঢাকাতেই নয় দুই হাজার এক সালে ভারতের মাঠেও ছিল তাদের সাফল্য। ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরে বালুঘাটে অনুষ্ঠিত ইনডিপেনডেন্ট ডে ফুটবল টুর্নামেন্টে বাড্ডা জাগরণী সংসদ এবং আবাহনী অংশগ্রহণ করেছিল। সেই টুর্নামেন্ট থেকে আবাহনী বাদ পড়লেও জাগরণী সংসদ টিকে যায়। বাড্ডা জাগরণী চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তারা কলকাতার প্রথম বিভাগ ফুটবলের এরিয়েন্স ক্লাবের বিরুদ্ধে নকিবের গোলে ফাইনালে ম্যাচ জিতেছিল। এই টুর্নামেন্টের জন্য নকিব, জুয়েল রানা, হাসান আল মামুন, তানভির, গোলকিপার আমিনুলরা খেলেছিলেন বাড্ডা জাগরণী সংসদে। এ বছর ১০৫তম আইএফএ শিল্ড ফুটবলে চার্চিল ব্রাদার্সকে ২-০ গোলে, ইষ্টবেঙ্গল ক্লাবের সাথে ২-২ ড্র এবং টাটা একাডেমিকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল বলে জানিয়েছে বাড্ডা জাগরণীর কর্মকর্তা। সেমিফাইনালে মোহানবাগানের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় তারা। এই ম্যাচে মোহানবাগানের হয়ে খেলেছিলেন বাংলাদেশের জুয়েল রানা। খুব বেশি দিন ঢাকার ফুটবলের বনেদী আসরে খেলতে পারেনি ১৯৬৮ সালে জন্ম নেয়া দলটি। রেলিগেশন হয়ে নেমে যায় ২০০১ মৌসুমের শেষে। পুনরায় এই দলটি ফুটবল আলোচনায় আসতে পারেনি। তবে বাড্ডা জাগরণী সংসদের হয়ে খেলা অনেক ফুটবলার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন। যাদের মধ্যে অন্যতম স্ট্রাইকার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব, তার হেডওয়ার্ক ছিল দারুণ। খ্যাতি ছড়িয়েছিলেন এই খেলোয়াড়। পরবর্তীতে মোহামেডানে যোগ দিয়ে একটা সময় দেশের তিন জন শততম শীর্ষ গোলদাতা কাজী মো. সালাহউদ্দিন, শেখ মো. আসলামের পর নকিব তৃতীয় হন। ঢাকার ফুটবল মাঠে নকিবের পর শক্তিশালী হেডওয়ার্ক আছে এমন স্ট্রাইকার আর খুঁজে পায়নি দর্শক। এছাড়াও উজ্জল, পরিতোষ দেওয়ান, লাজুক, পারভেজ বাবু, মনোয়ার, তানভীর, গোলকিপার আপেল, গোলকিপার তিতুমীর চৌধুরী টিটু, খোকন, বখতিয়ার, মাহমুদুল হাসান, জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুসহ অনেক ফুটবলার বাড্ডার জার্সি গায়ে দর্শকদের নজর কেড়েছেন। অনেকে জাতীয় দলের জার্সিও গায়ে জড়িয়েছিলেন। বাংলাদেশের জন্য সাফল্য এনেছিলেন। এবার প্রথম বিভাগ ফুটবলে বাড্ডার দায়িত্ব পড়েছিল তরুণ কোচ মহিদুর রহমান মিরাজের হাতে। ছেলেটি একটা সাফল্য তুলে দিয়েছেন ক্লাব অভিভাবকদের হাতে। কর্মকর্তারা সন্তুষ্ট। তার কাছে তালিম নিয়ে দুই রাউন্ডের লিগে বাড্ডার খেলোয়াড়রা ১২ ম্যাচে নয়টিতে জিতেছে, একটি ড্র হয়েছিল যাত্রাবাড়ী ক্রীড়া চক্রের সাথে, হেরেছিল দু’টি ম্যাচে, একটি ইয়াংম্যান্স ক্লাব এবং অন্যটি টিএন্ডটি মতিঝিলের কাছে। এছাড়া দলটির পারফরম্যান্স ভালো। মিরাজ ওয়ারী ক্লাবেরও কোচ ছিলেন। সেখানেও তার দল ভালো খেলছিল। গতকাল কমলাপুর স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচটা জিতে আনন্দ করছিল জাগরণীর খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তারা। বাড্ডা জাগরণী সংসদের সহ-সভাপতি আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স গতকাল খেলার পর জানিয়েছেন তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় যুবদল আয়োজিত শহীদ জিয়া গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এবার তাদের স্পন্সর ছিল চৌধুরী হাউজিং লিমিটেড, এই প্রতিষ্ঠানটি বাড্ডা জাগরণী সংসদকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিল।