ক বি তা

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:১৭
হয়তোবা মাকিদ হায়দার (সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বন্ধুবরেষু) ভৌমিক বাবুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। ভৌমিক বাবু ছাড়া অন্যকেউ জানতেন না আমি বিশ্বাস করি সকল মানুষকে। ভৌমিক বাবুর একমাত্র কন্যা রীতা ভৌমিক তিনিও আমার মতো বিশ্বাস করতেন সব কিছু। কথাটি শোনার পর থেকে খুব ভালো লাগল আমার সেই ভালো লাগা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারল না, শুনলাম, গতরাতে রীতাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন উদাসী এক নরখাদক—রীতা কখনো আমাকে জানতে দেয়নি—তার আরেক নাম অলকানন্দা। নরখাদক শোনার পরে—রীতা তাকে যত্নের সাথে আপ্যায়ন শেষে ভেবেছিল—চলে যাবে, অথচ, সে সব মিথ্যে প্রমাণিত করে অলকানন্দাকে নিয়ে গেছে হিমালয়ে। আমি পলাতক বসে আছি—বসে থাকি। রীতার বাবা, ভৌমিক বাবুর বাড়িতে। ইতিমধ্যে সবকিছু খণ্ড, বিখণ্ড হলেও আমি আর ভৌমিক বাবু তার পৈতৃক বাড়িতেই আছি। অনেক ভেবেচিন্তে স্থির করেছি সব রীতাদের একটি গোপন নাম থাকে হয়তোবা থাকে অলকানন্দা। রোদ-কুচি দুলাল সরকার মুষ্টিমেয় কিছু পাথরই যথেষ্ট ছিল আগুন ফলাতে সাথে কিছু রজনীগন্ধার উঁচু ঘাড় উঁচু রোদ বনস্পতি-ছায়া কিছু পুঁজি করা গুপ্ত দীর্ঘশ্বাস বৈপ্লবিক নদী—জলঘরে বন্দী কিছু মেধাবী শেকড়—স্বরে দূর্বালতার আয়ুদীপ; আসন্ন চাষের ভাষা, ভূমির নেপথ্য পাখিদের বৈতালিক গান— শালবীথি-তলায় ছড়ানো রোদ-কুচি জলে ভেজা বৃষ্টিফোঁটার কারুকাজ সাদা টিপ— সৃজনের স্বেদ, মুষ্টিমেয় বুকের উত্তাপ ঝাউডালে মৃদঙ্গের বোল পথহীন পথের পাড়ার বিপরীত। কুয়াশাছন্দ মুহম্মদ সবুর ধোপাছড়ি পাহাড়ে একটি কবিতার জন্য কুয়াশায় বন-বাদাড় ঘর-গেরস্থালি পুকুর-বিল ঘুরেও মেটে না শব্দ-হাহাকার, শব্দের বাহার। সংগম শেষে শব্দও গর্ভবতী, প্রসবযন্ত্রণা। মৃত সন্তানের জন্ম দিয়ে কাতরায় যন্ত্রণায়, স্বতন্ত্র শব্দশিশুর কামনায় শব্দজননী আবার আসন্ন-প্রসবা শরীর সাজায়... এই পাহাড়-টিলা, এই পানাপুকুর, কবিতার মাঠ মাত্রাছুট শব্দের বিরহে বেঁধে আনে কুয়াশার গান আবার শিশিরে ধুয়ে যাবে মাটি, পাহাড়, শস্যভূমি আবার উল্লাস ধ্বনিত হবে নতুন ছন্দের বনে-দীঘিতে ধোপাছড়ি পাহাড় কুয়াশাছন্দে লেখে কুয়াশার কাব্য। পুষ্প পিয়াস মজিদ ফুটেছে থোকা থোকা মরীচিকা ফুল। সেই সোনালি ভ্রান্তির দিকে তোমাকে অম্লান দেখে ঝাঁপ দিলাম। তিরিশ বসন্তের আবহমান দুঃস্বপ্ন ফ্ল্যাশ করে বসেছি উপকূলে। সামনে সমুদ্র; এই খরাজীবনে একমাত্র মৃত্যুর স্বপ্নই আমাকে দীপ্ত জোয়ারের স্বাদ দিয়ে গেল। জিয়নকাঠি সানজিদা আখতার যখনই সে আমায় স্মরণ করে সকাল দুপুর বিকেল অথবা রাতে— অথবা লেখে কবিতা আমাকে নিয়ে— জিয়নকাঠির ছোঁয়ায় তখনই জেনো আমি হয়ে যাই জলবতী সেই মেঘ... বুকভরা জলে মরুভূমিকেও শ্যামল করতে পারি, ধরণীকে করি স্নিগ্ধ-শীতল দুচোখের ধারা জলে... অচেনা স্বদেশ মানজুর মুহাম্মদ গাঙ-পারের বধ্যভূমি ছেড়ে হেমন্তের রোদে কয়েকটি খুলি উঠে এসেছিল বিজয়ের গান শুনতে, চিরচেনা মায়াবি মেঠোপথে গড়াগড়ি দিতে। খুলিগুলো পথ চিনেছে, চিরচেনা পথের মানুষ চেনেনি। টলমল চোখে প্রজাপতি আর জোনাকিদের আদর করে তারা ফিরে গিয়েছিল।