এ যুগের ইনজামাম

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৯
চালচলনে ফুটে বের হয় পাঞ্জাবী আভিজাত্য। যেমন লম্বা, তেমনই চওড়া মানুষটা। এই ফিটনেসের যুগেও চলতে ফিরতে বেশ কষ্ট হয়, ধারাভাষ্যকাররা প্রায়ই সমালোচনায় মাতেন তার শারীরিক আকৃতি নিয়ে। কিন্তু ব্যাট হাতে যেই না উইকেটে যান; চোখ ধাধানো কাভার ড্রাইভ, গ্লান্স দেখে মুগ্ধ সবাই। ঝলসাতে থাকা তার ব্যাট যেন সত্যিকারের তরবারী হয়ে ওঠে ভারতকে পেলে। পৃথিবীর আর যে কোনো দলের চেয়ে ভারতের বিপক্ষে সফলতা বেশি তার। বলুন তো কে এই পাকিস্তানী ব্যাটসম্যান? চোখ বুজে সবাই এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেবেন—ইনজামাম-উল হক। কিন্তু আরেকটু ভেবে দেখুন, তরুণ ইনজামামের এই বর্ণনা অন্য কারো সঙ্গে মিলে যাচ্ছে না তো! হ্যাঁ, এখন এই একই বর্ণনা দিয়ে অনায়াসে চিহ্নিত করা যায় পাকিস্তানের নতুন তারকা নাসির জামসেদকে। সেই ফিটনেসের সমস্যা, সেই বিশালাকৃতি এবং সেই ‘ভারতপ্রেম’! প্রতিটা অধ্যায় মিলিয়ে অনায়াসে বলে দেয়া যায়, আরেক ইনজামামকে পেয়ে গেছে পাকিস্তান। গতকাল ইডেন গার্ডেনে আরেকবার ইনজামামের মতো জ্বলে উঠলো নাসির জামসেদের ব্যাট। ভারতের বিপক্ষে টানা তৃতীয় সেঞ্চুরি করলেন। ‘টানা তৃতীয় সেঞ্চুরি’ বললেও যথেষ্ট বোঝা যায় না। ভারতের বিপক্ষে এটি ছিল নাসির জামসেদের চতুর্থ ম্যাচ। চার ম্যাচে তার এই নিয়ে ৩টি সেঞ্চুরি এবং একটি ফিফটি। ভারতের বিপক্ষে একবারই ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি পাননি; এশিয়া কাপে ৫৩ রান করে সেই ফিটনেসের কারণেই মাঠ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। ভারতের বিপক্ষে নাসির জামসেদ কী করতে পারেন; সেটা স্রেফ তার চারটি ইনিংস ফিরে দেখলেই বুঝতে পারবেন—৪৩ বলে ৫৩*, ১০৪ বলে ১১২, ১৩২ বলে ১১২* এবং ১২৪ বলে ১০৬। মানে চার ম্যাচে গড় তার ১৮৬ মাত্র। একজন ব্যাটসম্যানকে চারটি মাত্র ইনিংসের কৃতিত্ব দিয়ে বড় বা ছোট করে দেখানোর ভেতর এক ধরনের ঝুঁকি থেকে যায়। তাই শুধু ভারতের বিপক্ষে পারফরম্যান্স দিয়ে নাসির জামসেদকে বোঝার চেষ্টা করা ঠিক হবে না। তার দরকারও নেই। নাসির জামসেদ এখনও পর্যন্ত ভারত ছাড়া কোনো দলের বিপক্ষে সেঞ্চুরি পাননি। তবে গতকাল পর্যন্ত ২১টি ম্যাচ খেলা নাসিরের এ পর্যন্ত সার্বিক পারফরম্যান্সই বলে, পাকিস্তান দলে স্থায়ী হতেই এসেছেন তিনি। ২১ ম্যাচে ৫১.১৬ গড়ে ৯২১ রানের পরিসংখ্যানই বলে দেয়; ইনজামাম হতে পারুন, আর নাই পারুন; শুরুটা মুলতানের সুলতানের মতোই হয়েছে। মুলতানের মতোই পাঞ্জাবের আরেক শহর লাহোর থেকে উঠে এসেছেন নাসির জামসেদ। ইনজামামের সঙ্গে আরও মিল খোঁজার চেষ্টা করতে পারেন। ইনজামামের মতো কিশোর বয়সেই পাকিস্তান জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল তার ব্যাটিংয়ের খ্যাতি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে কায়েদ-ই আজম ট্রফিতে অভিষেক হয়েছিল ৭৪ রানের ইনিংস খেলে; সে মৌসুমে ৮ শতাধিক রান করেছিলেন। পরের বছরই পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে প্রথম ম্যাচে দু ইনিংসে ৪৪ ও ২০৪ রানের ইনিংস। স্বাভাবিকভাবেই এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি নাসিরকে। নাসির তার ক্যারিয়ারে প্রথম ধাক্কাটা খেয়েছিলেন ২০০৯ সালে; ওই ফিটনেসেরই কারণে। ২০০৮ সালে ১৭ বছর বয়সে অভিষেক হয়েছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জোড়া ফিফটি করে। প্রথম ৯ ম্যাচে চারটি ফিফটিসহ বেশ চলছিল তার ইনিংস। এরপরই ফিটনেস ইস্যু তিন বছরের জন্য ছিটকে দেয় তাকে মাঠ থেকে। অবশেষে মাত্র শেষ হওয়া ২০১২ সালে আবার ফিরে এসেছেন। ফেরার ফলাফলটা চোখের সামনে। এখন অপেক্ষা তার সত্যিই ইনজামাম হয়ে ওঠার।