বিজেএমসি ২-০ গোলে ব্রাদার্সকে হারিয়েছে। বিজেএমসির এটি দুই ম্যাচ পর জেতার ঘটনা। অপরদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ব্রাদার্সের ষষ্ঠ হার নিয়ে জোর আলোচনা চলছিল। ব্রাদার্সে খেলা এক সময়ের তারকা ফুটবলার হাসানুজ্জামান খান বাবলু বললেন, এমন পরিস্থিতি কখনো দেখিনি। ভালো খেলোয়াড় গড়া নিয়ে দল গড়লে যা হয়। আশা করি পরিস্থিতি বদলে যাবে। আমি ব্রাদার্সে খেলেছি, এখন এমন অবস্থা দেখলে আমাকে পীড়া দেয়।’
ফুটবল সাংগঠক হিসেবে অভিজ্ঞ আব্দুর রহীম গোপীবাগের ফুটবল দলটির এই দুরবস্থা দেখে প্রেসবক্সে সাংবাদিকদের অভয় দিয়ে বলেন, ‘এতো হতাশ হওয়ার কি আছে। মাত্র তো প্রথম রাউন্ড চলছে। এখনো সুযোগ আছে।’
দুইজনেই যাই বলুন না কেন বাস্তবতা হচ্ছে টানা ছয় ম্যাচ হারের এমন রেকর্ড নেই ব্রাদার্সের ফুটবল ইতিহাসে। অথচ এ দলটিই এক সময় এদেশের ফুটবলে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে আগাখান গোল্ডকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আর এ দলটির এখন ঘরোয়া ফুটবলে ম্যাচের পর ম্যাচ হারছে। একেবারে মানহীন খেলোয়াড় সংগ্রহ আর ভালো প্রশিক্ষণের অভাব দলটাকে নিচের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে। খোদ দলটির অধিনায়ক ও ডিফেন্ডার ইউসুফ আলী খানের খেলা দেখে সবাই হতাশ।
বিজেএমসির বিরুদ্ধে এক গোলে পিছিয়ে পড়েও ব্রাদার্স সুযোগ পেয়েছিল ঘুরে দাঁড়ানোর। কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে সেগুলো কাজে লাগেনি। বিজেএমসির গোলকিপার জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুলকে একটি বারের জন্য বিপদে ফেলতে পারেনি ব্রাদার্সের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা। অথচ ব্রাদার্সে বিদেশি ফুটবলার আছেন। এমনকি ব্রাজিলীয়ও। কিন্তু তিনি একবারও পোস্টে বল রাখতে পারেননি। তার খেলা দেখে বোঝা গেল না তিনি পেলের দেশ থেকে এসেছেন। নাইজেরিয়ান সমাসন ইলিয়াসু, জাঙ্গাকাস, কিংসলে ছিলেন তারাও দলের বিপদে নিজেকে দেখাতে পারছেন না। সুযোগগুলো কাজে লাগাচ্ছে প্রতিপক্ষ দল।
বিজেএমসি ১১ মিনিটেই গোল আদায় করে নেয়। অনেক দিন পর মাঠে নামা উইংব্যাক সাইফুল কর্নার করেন। সেই বলটিতে লাফিয়ে উঠে মাথা ছোঁয়ান গিনির ফুটবলার ইসমাইল বাঙ্গুরা ১-০। মিনিট দুই পরই ব্রাদার্স গোল শোধের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার কিংসলে বক্সের ভেতরে দাঁড়িয়ে শট করলেন বাইরে। বিরতির পর খেলা শুরু হওয়ার পরপরই দ্বিতীয় গোল হজম করে ব্রাদার্স। বিজেএমসির বদলি স্ট্রাইকার তকলিস গোল করেন ২-০। ম্যাচ হেরে মুখ লুকিয়েছেন নাইজেরিয়ান কোচ লাডিবাবা লোলা, সংবাদ সম্মেলনেও আসেননি তিনি। কোচের পথ অনুসরণ করে স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে গেলেন দলের অধিনায়ক ইউসুফ আলী খান। সংবাদ সম্মেলনে আসেন ডিফেন্ডার আশরাফুল করিম। তিনি শুধু বলে যান যে ভাগ্যটা তাদের ভালো যাচ্ছে না। বিজেএমসির কোচ জাকারিয়া বাবু বলেন, আমি আশাবাদি ছিলাম। এক ম্যাচ জিতলে সব কিছু চেঞ্জ হয়ে যাবে। কাউকে আলাদা করে কৃতিত্ব দেব না। টিম কম্বিনেশনের কারণে জিতেছে।’ ছয় খেলায় বিজেএমসি (২ জয়, ১ ড্র, ৩ হার) পেল আট পয়েন্ট।
আজকের খেলা :শেখ রাসেল ঃ আরামবাগ
(বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, ৪টা ৩০)
