লাহিরু থিরিমান্নে এবং অধিনায়ক মাহেলা জয়বর্ধনে সেঞ্চুরির সুযোগ হারালে গতকাল বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনিতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের উদ্বোধনী দিনে ভাল সূচনার পরও শ্রীলংকা ২৯৪ রানে অলআউট হয়ে যায়।
থিরিমান্নে চলতি সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ায় এসে পৌঁছেছেন ইনজুরির কবলে পড়ে কুমার সাঙ্গাকারার সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর দলের শূন্যতা পূরণের জন্য। কিন্তু তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির কাছাকাছি হয়েও সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সুযোগটি হারান। জয়বর্ধনে অবশেষে বিদেশের মাটিতে তিন বছরেরও বেশি সময় পর হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেলেও তিন অংকের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। তিনি স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ৭২ রানে।
শ্রীলংকা মেলবোর্নে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ২০১ রানে হেরে সিরিজটি খোয়ায়। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া এর আগে হোবার্টেও জয় তুলে নিয়েছিল। সঙ্গত কারণেই সিরিজের শেষ টেস্টটি ছিল তাদের জন্য মান বাঁচানোর। যদিও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কখনোই টেস্ট জেতেনি লংকানরা।
কাল দিনের খেলা শেষ হওয়ার একটু আগে অলআউট হয় সফরকারীরা। অজি পেসার জ্যাকসন বার্ড ১৯.৪ ওভার বল করে ৪১ রানে চার উইকেট নেন। দলে পুনরায় জায়গা করে নেয়া মিশেল স্টার্ক তুলে নেন তিন উইকেট।
থিরিমান্নে প্রস্তুতি নেয়ার তেমন সুযোগ পাননি। মাত্র একটি সেশন নেটে ব্যাটিং করেছেন। টেস্টে এদিন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান করলেন। বার্ডের শিকারে পরিণত হতে পারতেন তিনি নিজের প্রথম বলেই। কিন্তু রিভিউ বাঁচিয়ে দেয় তাকে। এরপর ৬৫ রানে আবার জীবন পান উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েড স্পিনার নাথান লিয়নের বলে ক্যাচ ফেলে দিলে। তার ১৫১ বলের লড়াকু ইনিংস শেষ হয় লিয়নের কাছেই। থিরিমান্নে ও জয়বর্ধনের তৃতীয় উইকেট জুটি ছিল ৬২ রানের।
ম্যাচ শেষে থিরিমান্নের কণ্ঠে আফসোস। তিনি বলেন,‘ টেস্ট ক্রিকেট থেকে দীর্ঘ বিরতি ছিল। আমি খুবই হতাশ দারুণ সুযোগ হারানোয়। তবে আমার মনে হয়েছে ভাল ব্যাট করেছি। দিনশেষে নৈপুণ্যে অবশ্য খুশি।’ লাঞ্চের আগে দুই লংকান ওপেনার প্যাভিলিয়নে যাওয়ায় জয়বর্ধনে দৃঢ় ছিলেন ব্যাটিংয়ে।
জয়বর্ধনে সর্বশেষ (বিদেশের মাটি) টেস্ট হাফ সেঞ্চুরি করেন ভারতের মাটিতে ২০০৯ সালের নভেম্বরে। দেশের মাটিতে অবশ্য তিনি ভালই খেলছিলেন।
বার্ড লংকান দুই ওপেনার দিমুথ করুনারত্নে (৫) ও তিলকরত্নে দিলশানকে (৩৪) লাঞ্চের আগেই আউট করেন। থিলান সামারাবিরা ১২ রানে পেসার পিটার সিডলের বলে এলবিডব্লিউ হন। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস পঞ্চম উইকেটে ৫৫ রান তুলে নেন থিরিমান্নের সাথে। ১৫ রানে তিনি সাজঘরে ফেরেন স্টার্কের শিকার হয়ে। দিলশান ও জয়বর্ধনের দ্বিতীয় উইকেট জুটি ছিল ৪৬ রানের।
বাঁ-হাতি পেসার স্টার্কের ইয়র্কারে দিনেশ চান্দিমাল (২৪) দ্বিতীয় নতুন বলের প্রথম ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক টস জিতে ফিল্ডিং নেন। চার পেসার নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া দল। ঘাসের জন্য সবুজাভ ছিল উইকেট। সিডনি টেস্টের উদ্বোধনী দিনটি ছিল শোকের চাদরে মোড়া। দুই দলের ক্রিকেটাররা ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও ভাষ্যকার প্রয়াত টনি গ্রেগের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানান।
খেলোয়াড়দের সাথে সমর্থকরাও গ্রেগের সম্মানে পালন করেন এক মিনিটের নীরবতা । ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত গ্রেগ ৬৬ বছর বয়সে ২৯ ডিসেম্বর হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান।
স্কোর কার্ড
শ্রীলংকা ১ম ইনিংস
করুনারত্নে ক হাসি ব বার্ড ৫
দিলশান ক ওয়েড ব বার্ড ৩৪
জয়বর্ধনে ক ক্লার্ক ব স্টার্ক ৭২
থিরিমান্নে ক ওয়ার্নার ব লিয়ন ৯১
সামারাবিরা এলবিডব্লিউ ব সিডল ১২
ম্যাথুস ক হাসি ব স্টার্ক ১৫
চান্দিমাল ব স্টার্ক ২৪
প্রসাদ ক স্টার্ক ব সিডল ২
হেরাথ ক সিডল ব বার্ড ৫
লাকমাল ক হাসি ব বার্ড ৫
প্রদীপ নট আউট ১৭
অতিরিক্ত (লেগ বাই ৮,ওয়াইড ৩,নো ১) ১২
মোট (অলআউট,৮৭.৪ ওভার ) ২৯৪
উইকেট পতন :১-২৬ (করুনারত্নে),২-৭২ (দিলশান), ৩-১৩৪ (জয়বর্ধনে), ৪-১৬৭ (সামারাবিরা), ৫-২২২(ম্যাথুস),৬-২৫০(থিরিমান্নে),৭-২৫৬(প্রসাদ),৮-২৭১(চান্দিমাল),৯-২৭৩(হেরাথ),১০-২৯৪(লাকমাল)
বোলিং : মিশেল স্টার্ক ১৯-০-৭১-৩,জ্যাকসন বার্ড ১৯.৪-১০-৪১-৪,পিটার সিডল ১৫-৩-৪৬-২,মিশেল জনসন ১৩-১-৫৮-০,নাথান লিয়ন ১৯-২-৬৯-১,মাইক হাসি ২-১-১-০।
অস্ট্রেলিয়া দল : এড কাওয়ান, ডেভিড ওয়ার্নার, ফিল হিউজ, মাইকেল ক্লার্ক (অধিনায়ক), মাইক হাসি, ম্যাথু ওয়েড, মিশেল জনসন, মিশেল স্টার্ক, পিটার সিডল, নাথান লিয়ন, জ্যাকসন বার্ড।
