তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরদিনই হরতাল দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত ১৮ দলের

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০৮
বাধ্য না হলে ফেব্রুয়ারি-মার্চের আগে হরতাল-অবরোধের মত আন্দোলনের বড় কর্মসূচি না দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলটির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট শরিকরাও এতে একমত। যার কারণে ইংরেজি নতুন ও মহাজোট সরকারের মেয়াদের শেষ বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ‘নরম’ কর্মসূচি দিয়েছে বিরোধী জোট। তবে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার পূর্বঘোষণা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে পরদিনই দেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচি দেয়ার বিষয়ে মোটামুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে ১৮ দল। গত ২৬ ডিসেম্বর রাজধানীতে গণসংযোগকালে পথসভায় খালেদা জিয়া বলেছিলেন, তেল-গ্যাসের মূল্য আবার বৃদ্ধি করা হলে হরতাল-অবরোধের মত কর্মসূচি দেয়া হবে। এদিকে বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম, ও-লেভেল পরীক্ষা, বিশ্ব ইজতেমা এবং সরকারি ছুটির ফাঁদে পড়েছে বিরোধী দলের আন্দোলন। এছাড়া জানুয়ারিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী রয়েছে, বড় কর্মসূচি না দেয়ার এটিও অন্যতম কারণ। জানুয়ারিতে আন্দোলনের বড় কর্মসূচি না থাকার বিষয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার ইত্তেফাককে বলেন, কথায়-কথায় হরতাল, অবরোধ দিয়ে রাজপথে জ্বালাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা বিএনপির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে নেই। আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি, জানুয়ারিতে ও-লেভেল পরীক্ষা বাবদ ৮ থেকে ১০ দিন, বিশ্ব ইজতেমার কারণে অন্তত ৬ দিন চলে যাবে, এছাড়া এ মাসে সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার রয়েছে ৮ দিন। এই তিনটি মিলিয়েই জানুয়ারির ২৪ দিন নেই। তাহলে বড় কর্মসূচি দেয়ার সময়ই বা কোথায়। বিএনপিসহ ১৮ দলসূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারকে মেয়াদ পূর্ণ করতে দিতে চায় বিরোধী জোট। তবে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবির চূড়ান্ত ফয়সালা চান তারা। এজন্য চলতি বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি দেয়ার পথনকশা নিয়ে এগুনোর চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। এর আগে লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আপাতত নেই। সরকার বাধ্য না করলে বিচ্ছিন্ন হরতাল-অবরোধ ছাড়া আপাতত টানা কয়েকদিনের কর্মসূচিতেও যেতে চায় না বিএনপি। এছাড়া আন্দোলনের কারণে জনগণের মধ্যে বিরোধী দলের প্রতি ক্ষোভের সঞ্চার হোক, তাও চান না তারা। বরং জনগণ খুব বেশি বিরক্ত হবে না কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে জনগণের নীরব সমর্থন পাওয়া যাবে—এমন জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে আগামী দুই- আড়াই মাস গণসংযোগ, গণবিক্ষোভ, মানব প্রাচীর, রোডমার্চ, পথসভা, প্রতীকী ও গণঅনশনের মত কর্মসূচি দিয়ে সময় পার করার পক্ষে ১৮ দলের বেশিরভাগ শরিকের অবস্থান। ১৮ দল শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আন্দোলন সিঁড়ির মতো। এটিকে ধাপে-ধাপে এগিয়ে নিতে হয়। তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর ১৮ দলের বৈঠকে আমরা সবাই বলেছি যে, ২৬ ডিসেম্বরের গণসংযোগ ও পথসভা কর্মসূচি ছিল অত্যন্ত সফল। তুলনামূলক বিচারে এ ধরনের অহিংস কর্মসূচিই বেশি ফলদায়ক ও জনসম্পৃক্তকর। জানা গেছে, ১৮ দলের বেশিরভাগ শরিক দলের অবস্থান আপাতত অহিংস কর্মসূচি দেয়ার পক্ষে হলেও জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে আসায় এবং দলের অন্য শীর্ষ নেতারাও একের পর এক জেলে চলে যাওয়ায় দলটির মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। দলীয় অবস্থান বিবেচনায় জামায়াত ফেব্রুয়ারি-মার্চেই বড় কর্মসূচি দেয়ার জন্য পরোক্ষভাবে ও কৌশলে বিএনপিকে চাপে রেখেছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।