বন্ধ হচ্ছে প্রি-এ্যাকটিভ সিম বিক্রি

গ্রাহকের তথ্য নিশ্চিত করবে কে বিটিআরসি নাকি অপারেটর?

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২১
মোবাইল ফোনের প্রি-এ্যাকটিভ (আগে থেকে চালু) সিম বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে। এরপর থেকে কেনার সময় গ্রাহকের দেয়া তথ্য নিশ্চিত হয়েই সিম চালু করা হচ্ছে। কিন্তু গ্রাহক যে তথ্য দেবেন সেটি সঠিক না ভুল তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার? তা নিয়েই এখন অপারেটর ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসির মধ্যে চলছে ঠেলাঠেলি। অপারেটররা বলছে, বিটিআরসির নির্দেশনা মেনে তারা গ্রাহকের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র নিচ্ছেন। কিন্তু সেটি সঠিক না ভুল তা নিশ্চিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আর বিটিআরটি বলছে, অপারেটর যেহেতু সিম বিক্রি করবে তাই তথ্য নিশ্চিত করতে হবে তাদেরই। ভুল তথ্যের দায় তাদেরই নিতে হবে। বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেছেন, ১২ অক্টোবরের পর ভুল তথ্যে কোন সিম রেজিষ্ট্রেশন হলে তার দায় দায়িত্ব অপারেটরদেরই নিতে হবে। আর এর জন্য আইন অনুযায়ি তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। গ্রাহকদের তথ্য নিশ্চিত করার দায়িত্ব রেগুলেটর হিসেবে বিটিআরসির দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। প্রসঙ্গত, রেজিষ্ট্রেশন বিহিন প্রতিটি সিমের জন্য অপারেটরদের ৫০ ডলার করে জরিমানা করার বিধান রয়েছে। ইতিমধ্যে অবৈধ ভিওআইপিতে ব্যবহার ব্যবহার করা রেজিষ্ট্রেশন বিহিন সিমের জন্য সবগুলো অপারেটরকে বিপুল অংকের টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিটিআরসি বলছে, এই জরিমানার টাকা তাদের দিতে হবে। অন্যদিকে গত সোমবার বিষয়টি নিয়ে জরুরী বৈঠক করেছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন এমটব। সেখানে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিটিআরসির নির্দেশনা মেনে সব কাগজপত্র তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করছেন। কিন্তু সেই কাগজপত্র সঠিক কি-না তা তাদের পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আর এ দায় কোনভাবেই তারা নিতে রাজি নয়। এতে করে সিম বিক্রি শূণ্যের কোঠায় নেমে আসার আশঙ্কাও তাদের। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে যে জট পাকিয়ে গেছে তা এখন পরিস্কার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উভয় পক্ষ একে অপরের উপর দায় না চাপিয়ে আলোচনা মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করলেই সুফল পাওয়া যাবে। রবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, বিটিআরসির নির্দেশনা মেনে তারা সব কাগজপত্র নিতে পারেন। কিন্তু তা ঠিক না ভুল তাদের পক্ষে নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব? তিনি বলেন, কেউ ভুয়া জাতীয় পরিচয় পত্র দিলে তা কিভাবে তারা নিশ্চিত হবেন যে সেটি ভুয়া। কারণ জাতীয় পরিচয় পত্রের সার্ভারে ঢোকার সুযোগ তাদের নেই। আর কিভাবে তারা তথ্য নিশ্চিত করবেন সে ব্যাপারেও বিটিআরসি তাদের গাইড লাইন দেয়নি। জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা যাবে না। মোবাইলের সিম কার্ড কেনার ক্ষেত্রে এখনও জাতীয় পরিচয়পত্র নিশ্চিত করার কথা বিটিআরসির নির্দেশনায় রয়েছে। বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে তাদের কাছে চিঠি লিখে বলা হয়েছে, গত ৬ মাসে ওই গোয়েন্দা সংস্থাটি যতগুলো নাম্বারের রেজিষ্ট্রেশন ফরমের তথ্য নিয়েছে তার সবগুলোই ভুয়া। সেখানে নাম- আলু, বাবা- পটল বা নাম- চিনি, বাবা-সুজি এমন সব নাম বাবার নাম বা ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। আর ফরমের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের কোন ফটোকপিও তারা পাননি। অপারেটররা আন্তরিক হলে এই ফরমগুলো তো অন্তত তাদের চোখে পড়ত। এই ধরনের রেজিষ্ট্রেশন থাকা আর না থাকা সমান কথা। ওই কর্মকর্তা বলেন, শুধু লোক দেখানো রেজিষ্ট্রেশন করলেই হবে না, তাদের আন্তরিকতা থাকলেই অর্ধেক ভুয়া রেজিষ্ট্রেশন এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। তাই তিনি দেশের স্বার্থে এ ব্যাপারে অপারেটরদের আন্তরিক হওয়ার অনুরোধ করেন।