পাকিস্তানী খেলোয়াড়দের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) অংশগ্রহণ নিয়ে যে ধোয়াশা তৈরি হয়েছে আব্দুর রাজ্জাককে ঢাকায় উড়িয়ে এনে সেটা কাটানোর চেষ্টা করেছে দুরন্ত রাজশাহী। কিন্তু আদৌ কি সেই ধোয়াশা কেটেছে? পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) টানাপোড়েনের ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে চাইলেন না ঢাকায় আসা পাকিস্তানী অলরাউন্ডার রাজ্জাক। তিনি নিজের বিপিএল ভাগ্য ছেড়ে দিলেন পিসিবির হাতেই, ‘আমি পাকিস্তানের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়। আমি এখনো পাকিস্তান জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চাই। পিসিবি যদি আমাকে বিপিএলে আসতে না দেয় তবে আমি আসতে পারবো না’।
রাজ্জাকের ঢাকা সফর পিসিবির সাথে বিসিবির বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু আদৌ কি সেই বরফ গলেছে? দুরন্ত রাজশাহীর চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান মোহন যুক্তি দিয়ে বলেছেন, ‘রাজ্জাক ঢাকায় এসেছে এটা পিসিবি অবগত। এখানেই তো বিষয়টি পরিষ্কার’।
বিপিএল খেলতে পাকিস্তানী খেলোয়াড়দের ছাড়পত্র দিবে না পিসিবি—এমন খবর পাকিস্তানের মিডিয়াতেও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু ভুল ভাঙ্গিয়েছে দুরন্ত রাজশহী। দলটির চেয়ারম্যান কাল এমন দাবি করেছেন, ‘রাজ্জাক আসার কথা ১২ জানুয়ারি। কিন্তু সম্প্রতি পাকিস্তানী খেলোয়াড়দের বিপিএলে অংশগ্রহণ নিয়ে যে ধোয়াশা সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনের জন্য রাজ্জাককে ঢাকায় আনা’।
কিন্তু একজন পাকিস্তানী খেলোয়াড় হিসেবে রাজ্জাক কি মনে করেন বিপিএল খেলতে পিসিবি খেলোয়াড়দের ছাড়পত্র দিবে? উত্তরে অবশ্য একটু বিব্রত মনে হয়েছে এই অলরাউন্ডারকে। রাজ্জাক বলেন, ‘পিসিবি এবং বিসিবির ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে পারবো না। আমি মনে করি সব খেলোয়াড়ই আসবে। আমার কথা বলতে পারি, যখন বিপিএলের নিলামে আমার নাম রাখা হয়েছে। তখন বিসিবি থেকে আমার কাছে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) চাওয়া হয়েছিল। আমি সেটাও দিয়েছি’।
৬ জানুয়ারি ভারতে পিসিবি প্রধানের সাথে বিসিবি প্রধানের সাক্ষাত্ হওয়ার কথা রয়েছে। বিপিএলে পাকিস্তানী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের ব্যাপারে সেখানে নিশ্চিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিসিবি অবশ্য আশাবাদী পিসিবি খেলোয়াড়দের ছাড়পত্র দিবে। বিসিবির মত দুরন্ত রাজশাহীর চেয়ারম্যানও আশাবাদী বিপিএল খেলতে সব পাকিস্তানী খেলোয়াড় ঢাকায় আসবে, ‘আমাদের পাকিস্তানীরা ১২ তারিখ থেকে ঢাকায় আসা শুরু করবে। আমি মনে করি সবাইকে খেলার ছাড়পত্র দিবে’।
পাকিস্তানের ভারত সফরে রাজ্জাক দলে নেই। তবে এখনো জাতীয় দলে খেলার জন্য মুখিয়ে আছেন তিনি। বিপিএল খেলতে চাইলেও কাল তার কথায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, জাতীয় দলে সুযোগ পেলে তিনি সেখানেই যাবেন। ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তান দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবে। জাতীয় দলের হয়ে খেললে তাকেও বিপিএলের মাঝপথে দলে যোগ দিতে উড়ে যেতে হবে।
৩৬ ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে রাজ্জাক ঢাকায় এসেও স্বস্তি পাননি। কাগজপত্র জটিলতার কারণে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও তিনি প্রায় চার ঘণ্টা আটকে ছিলেন। বিসিবি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইমিগ্রেশনে কাগজ সময়মত যায়নি বলে সকাল দশটার পরিবর্তে তিনি ঢাকা বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন বিকাল তিনটায়। একদিনের সফর শেষে আজ রাত নটায় পাকিস্তানের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন রাজ্জাক।
