আমি কখনোই অভিনয়ে আসব না

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫৪
মু খো মু খি মাসুমা রহমান নাবিলা :তবে পরিচিতির ব্যপ্তিটা শুধু নাবিলা নামেই। একাগ্রভাবেই নিজের ক্যারিয়ার বা ভালোবাসার জায়গায় রেখেছেন শুধুই উপস্থাপনাকে। আমাদের দেশে এই ‘শুধু উপস্থাপক’-এর সংখ্যা একেবারেই কম। নাবিলা তার সেই বিবেচনা ও ক্যারিয়ারের সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ নিয়েই কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন সরলা সৈয়দ কেমন আছেন? খুব ভালো আছি। কারণ আমি সবসময় নিজের কাজগুলো নিয়ে ভালোই থাকার চেষ্টা করি। বলতে পারেন একেবারে সাদামাটা, নির্ভেজাল থাকতে চাই সবসময়। সেটি কি রকম? যেমন আমার নিজস্ব কোনো টার্গেট নেই। ভালো কাজের সুযোগ আসছে, করে যাচ্ছি। এটাই একসময় একটা দৃঢ় জায়গায় আমাকে নিয়ে যাবে। এই বিশ্বাস থেকেই কাজ করে যাই। কিন্তু শুধু উপস্থাপনা নিয়ে কি যে কেউ প্রফেশনালি এগুতে পারে আমাদের দেশে? অন্যের ক্ষেত্রে কি হয়, তা জানি না। তবে আমার ক্ষেত্রে তা স্বাভাবিকই মনে হচ্ছে। নিজের ভেতরে তীব্র চাহিদার দৌড়টা না থাকলে ভালো কাজ অল্প কিছু করেও ক্যারিয়ার গড়া যায়। আপনার বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে? নিয়মিত শো আরটিভিতেই করছি। সম্প্রতি শেষ করলাম মাছরাঙা টেলিভিশনে ‘সেরা প্রতিভা’ অনুষ্ঠানের কাজ। এ ছাড়া বিপিএল-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটা করার কথা চলছে। সেখানে মনে হয় আমি আর ভারতের সিনা চৌহান সঞ্চালনা করব। এর বাইরে এশিয়ান টেলিভিশনে ড্যান্স রিয়েলিটি শোয়ের কাজটি শেষ হলো। আপনার কাছে কোন ধরনের অনুষ্ঠানে উপস্থাপনার ক্ষেত্রে নিজের ক্রিয়েটিভিটি দেখানোর সুযোগ থাকে বলে আপনি মনে করেন? আমার তো মনে হয় সব ক্ষেত্রেই সুযোগ আছে। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন গানের লাইভ অনুষ্ঠানে কি টেলিফোন রিসিভ করা ছাড়া আর কিছু করার থাকে? তা অবশ্য ঠিক বলেছেন। এই ধরনের অনুষ্ঠান অবশ্য আমি ঈদ বা বিশেষ কোনো ফেস্টিভ্যাল ছাড়া করছিনা। আসলে এই ধারার অনুষ্ঠানে গানের ফাঁকে আমি কথা বলতে চাইলেও প্রডিউসার আমাকে বাধা দেন। গানে চলে যেতে বলেন। তাই কিছু করার থাকে না। আপনার কি মনে হয় না। একজন উপস্থাপকের একটি চ্যানেলেই নিবিষ্ট থাকা উচিত। বা চ্যানেলগুলোই তাদের নিজেদের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য উপস্থাপকদের সাথে আলাদা কমিটমেন্টে আসা উচিত? তা তো প্রয়োজন আছেই। তবে এখানে পারিশ্রমিকও একটা বড় ব্যাপার। সবমিলিয়ে উপস্থাপকদের ইমেজ ব্র্যান্ডিং করলে একটি চ্যানেলও তা থেকে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। অর্থাত্ তখন ওই উপস্থাপকের ইমেজটিই চ্যানেলের বিজ্ঞাপন হয়ে যায়। এটা বাইরের দেশে হলেও আমাদের দেশে শুরু হতে হয়তো আরও সময় লাগবে। এদিকে বিভিন্ন উত্সব পার্বণে তো চ্যানেলগুলো চমক দেখানোর জন্য তারকাদের উপস্থাপকের চেয়ারে বসিয়ে দেন। প্রফেশনাল উপস্থাপককে বাদ দিয়ে এই চর্চাটা কি যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করেন? এটা সব জায়গাতেই হয়। এটাকে আমাদের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়াই ভালো। কারণ এর বিরুদ্ধে বলেও লাভ নেই। আর আমি মনে করি, চমক আসলে উপস্থাপকের চেহারার চেয়ে মেধা, তার পরিবেশনাটাতেই বেশি থাকতে হয়। তবেই সেই প্রোগ্রামটি জনপ্রিয় হয়। অনেক উপস্থাপকই এই কাজটির পাশাপাশি অভিনয়ে ব্যস্ত হয়েছেন। কিন্তু আপনি কি দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, এর বাইরে কাজ করবেন না। বা ১০ বছর পরে নাবিলা নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চায়? আমি অভিনয়ে কখনোই আসব না। আর ১০ বছর পরে হয়তো নির্দেশনায় দেখতে পারেন। সেইভাবেই নিজেকে গোছাচ্ছি একটু একটু করে। এই জায়গাতে আমার দুর্বলতা আছে। দেশে বিদেশে কোন অনুষ্ঠানটি উপস্থাপক হিসেবে আকৃষ্ট করে আপনাকে? দেশে অনেক অনুষ্ঠানই আছে। তার ভেতরে বিবিসি জানালা আয়োজিত যে অনুষ্ঠান হয়। যেমন ‘স্পেলিং বি’ এই ধারার অনুষ্ঠান আমার বেশ ভালো লাগে। আর বাইরে তো অনেক অনুষ্ঠানই। যেমন এক্স ফ্যাক্টর বা ইন্ডিয়ান আইডল কারণ এই সব রিয়েলিটি শোতে যে পরিমাণ অ্যারেঞ্জমেন্ট ও একজন উপস্থাপকের অনেক কিছু করার সুযোগ থাকে।