মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান নাসির হোসেনের সেঞ্চুরিতে বগুড়ার শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামে গতকাল শনিবার বিসিবি উত্তরাঞ্চল দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় উইকেটে ৩৯৭ রান করলে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলের সাথে খেলাটি ড্র করতে সমর্থ হয়। নাসির হোসেন করেন ১১২ বলে ১৩১ রান।
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের এ খেলাটিতে গতকাল শেষ দিনের শুরুতে মধ্যাঞ্চল পুরনো সঞ্চয় আট উইকেটে ৪৩৪ রানের সাথে আর মাত্র দুই রান যোগ করতেই ইলিয়াস সানিকে হারায়। এরপরই দলটি নয় উইকেটে ৪৩৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। ৭৫ রানে পিছিয়ে থাকা মধ্যাঞ্চল দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে দলীয় ১৬ রানে ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকীকে হারায়। ব্যক্তিগত নয় রানে মোহাম্মদ শরীফের বলে মার্শাল আইয়ুবের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন জুনায়েদ। তরুণ মায়শুকুর প্রথম ইনিংসের মত আবারও নিজের কাঁধে তুলে নেন দলের দায়িত্ব। নাঈম ইসলামের সাথে ৭৩ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন বগুড়ার এই উদীয়মান ব্যাটসম্যান। এরপর দলীয় ৮৯ রানে নাঈম (২৫) রান আউট হন এবং ১২৭ রানে অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম (২৪) সাজঘরে ফিরে গেলেও স্বাচ্ছন্দে ব্যাট চালিয়েছেন মায়শুকুর। তিনি দুই ছক্কা ও ছয়টি চারের মারে হাফ সেঞ্চুরির পর ব্যক্তিগত ৭৩ রানে মোহাম্মদ আশরাফুলের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন।
দলীয় ২২৪ রানে ফরহাদ হোসেন (২৫) আউট হলে খেলায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ফরহাদ রেজাকে সাথে নিয়ে নাসির হোসেনের ব্যাটিং তাণ্ডবে নেচে ওঠে গোটা স্টেডিয়াম। বিধ্বংসী ব্যাটিং করে মাত্র ৮৯ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন নাসির। ইলিয়াছ সানির বলে আসিফের হাতে ধরা পড়ে সমাপ্তি ঘটে নাসিরের নয় বাউন্ডারি ও চার ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি। তার বিদায়ের পরও ওয়াল্টন বোলারদের চাপে রাখেন ফরহাদ রেজা। মাত্র ৪৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে মাঠে উপস্থিত দর্শকদের হাততালি পান তিনি।
মোহাম্মদ আশরাফুল ৬৫ রানে তিন উইকেট দখল করেন। এছাড়া মোহাম্মদ শরীফ ও ইলিয়াছ সানি নেন একটি করে উইকেট। সেঞ্চুরির পাশাপাশি উইকেট তিনটির জন্য ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান আশরাফুল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বিসিবি উত্তরাঞ্চল ১ম ইনিংস : ৩৬১ (জুনায়েদ সিদ্দিকী ৭৮, ফরহাদ হোসেন ৭৪, মুশফিকুর রহীম ৭৬*, মায়শুকুর ৪৯; ইলিয়াছ সানি ৮০/৩, শাহাদত হোসেন ৪৩/২, মোশাররফ হোসেন রুবেল ১২২/২) ও দ্বিতীয় ইনিংস :৩৯৭/৬ (নাসির হোসেন ১৩১, মায়শুকুর ৭৩, ফরহাদ রেজা ৭৭*, আশরাফুল ৬৫/৩)।
ওয়াল্টন মধ্যাঞ্চল : ১ম ইনিংস: ৪৩৬/৯ ডিক্লেয়ার (আশরাফুল ১৩৩, মেহরাব জুনিয়র ১৩১, মার্শাল আইয়ুব ৪০, মোশাররফ রুবেল ৩৮, সাজেদুল ১০৩/৩, সাকলাইন সজিব ৯৮/৩)।
