ডেমোক্র্যাসি ওয়াচ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইন মূল হাতিয়ার হলেও মানুষের এ সম্পর্কে কোন স্বচ্ছ ধারণা নেই। ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন পাস হলেও দেশের বেশিরভাগ মানুষ এই আইনের প্রায়োগিক দিক সম্পর্কে জানেন না। এ জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রচারণা। আইনটিকে জনগণের শক্তিতে পরিণত করতে হবে।
গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে তথ্য অধিকার আইন- ২০০৯-এর উপর ‘তৃণমূলের তথ্য অধিকার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তারা এ কথা বলেন।
মতবিনিময়ে তথ্য অধিকার আইনে অনেক দুর্বলত আছে উল্লেখ করে প্রধান তথ্য কমিশনার মোহাম্মদ আবু তাহের বলেছেন, তথ্য অধিকার আইন আমাদের দেশে নতুন। আমাদের তথ্য অধিকার আইনে অনেক দুর্বলতা আছে। আমাদের নিজেদের অভিজ্ঞতারও ঘাটতি রয়েছে। আইনটি নিয়ে বেশিরভাগ মানুষেরই কোন ধারণা নেই। এখনও সরকারি গোপন আইনের দোহাই দিয়ে তথ্য দিতে গড়িমসি করেন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা।
তথ্য অধিকার আইন খুব বেশি জনপ্রিয় নয় উল্লেখ করে মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, তথ্য অধিকার আইনের ইতিহাসে প্রথম দুইশ বছরে মাত্র ৪টি দেশে এই আইন পাস হয়েছিল। এখন সারা পৃথিবীর ৯৩টি দেশে এই আইন আছে। সুতরাং আমাদের বুঝতে হবে এই আইন খুব বেশি জনপ্রিয় নয়। তাই জনগণকে এ আইন সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
এই আইন অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে তথ্য চাইলে আবেদনকারীকে ২০ কর্ম দিবসের মধ্যে তা দিতে হবে। যদিও তথ্য অধিকার আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, জানতে চাওয়া বিষয়টি যদি কোনো ব্যক্তির জীবন-মৃত্যু, গ্রেফতার কিংবা মুক্তির বিষয়ে হয়, তাহলে ওই আবেদনকারীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য জানাতে হবে।
ডেমোক্র্যাসি ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক তালেয়া রেহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার, অপরাজেয় বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ওয়াদিয়া বানু, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর সানজিদা সোবহান, ডেমোক্র্যাসি ওয়াচের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ফাহিমা সুলতানা, নীলফামারীর পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তপন কুমার পাল, দিনাজপুর জেলার বিরামপুরের পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. জাকির হোসেন প্রমুখ। প্রসঙ্গত, সরকারি-বেসরকারি সংস্থায় দুর্নীতি কমিয়ে তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ২০০৯ সালের এপ্রিলে পাস হয় তথ্য অধিকার আইন। ঐ বছর জুলাই মাসে আইনটি কার্যকর করে গঠন করা হয় তথ্য কমিশন।
