এসিড সহিংসতা কমেছে

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৮
গত ১২ বছরে দেশে এসিড সহিংসতার হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এসিড সার্ভাইভারস ফাউন্ডেশন (এএসএফ)-এর ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এসিড সহিংসতা সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, এসিড বিক্রি বন্ধে আইন প্রণয়ন ও এসিড নিক্ষেপকারীদের কঠোর শাস্তির বিধান এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ করায় এ পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ‘গত বারো বছরে বাংলাদেশে এসিড আক্রমণের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি একটি ব্যতিক্রমী দিক। এসিড অপরাধ দমন সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল গঠন, আইনের প্রয়োগ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের প্রভাবেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।’ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বাসস’র সাথে আলাপকালে শুক্রবার এ কথা বলেন। এসিড আক্রমণের বিরুদ্ধে জনগণের যৌথ প্রয়াস এই ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসিড সহিংসতার মতো একটি নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ ঘটনা সমাজ থেকে নির্মূল করা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার হলেও সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে একদিন বাংলাদেশ সেই ইতিহাস সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এএসএফ-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০০ সালে বাংলাদেশে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে ৩৫১টি। এতে আক্রান্ত হন ৩৫২ ব্যক্তি। ২০০২ সালে এসিড সহিংসতার ঘটনা ঘটে ৪৯৪টি এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৪৯৬জন। যা গত ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৩ সাল থেকে এসিড সহিংসতার ঘটনা পর্যায়ক্রমে কমেছে। ২০০৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪১৬টি এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিলো ৪১৯ জন। ২০০৪ সালে ৩২৬টি ঘটনায় আক্রান্ত হন ৩৩৩ জন। ২০১২ সালে এই সংখ্যা ৭১-তে এসে দাঁড়িয়েছে। এ বছর ৭১টি এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় আক্রান্ত হন ৯৮ জন। এএসএফ-এর আইন সহায়তা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বারো বছরে সংঘটিত ২৭০২টি ঘটনায় ৩০১২ জন ব্যক্তি আক্রান্ত হন। এসব ঘটনায় যে মামলাগুলো হয়েছে তাতে ৪৩৮ জনের সাজা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। ১০২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। এসিড নিক্ষেপের ঘটনার হার পর্যায়ক্রমে কমে এলেও ঘটনার ভয়াবহতা এবং অজানা ঘটনাগুলো সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এএসএফ-এর নির্বাহী পরিচালক মনিরা রহমান। মনিরা রহমান আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরির ফলে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা কমে আসলেও এর ভয়াবহতার দিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। অধিকাংশ সময়ই দেখা যায়, যারা এসিড ছুঁড়ছে তারা আবার ভিকটিমকে নানা হুমকি দিচ্ছে। তার পরিবারের লোকজনকে আতংকে রাখছে। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগছে।