কে পাচ্ছেন ব্যালন ডি’অর?

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৩৭
ফুটবল ইতিহাসে কে সেরা খেলোয়াড় সেটা নিয়ে বিতর্ক কখনওই শেষ হবার নয়। তবে, আজ টানা চতুর্থবারের মতো বর্ষসেরার পুরস্কার জিতলে ফুটবলে অমরত্বের পথে আরো একটি বিরল রেকর্ডের অধিকারী হবেন আর্জেন্টাইন লিওনেল মেসি। ফিফা-ব্যালন ডি’অরের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় মধ্য রাতে। সারা বিশ্বের ফুটবলামোদীরা তাই এখন আলোচনায় মশগুল এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা তিন ফুটবলারকে নিয়ে। সময় এখন মেসির রেকর্ড ভাঙা সব সময়ই আনন্দের। তবে, আমার কাছে সবকিছুর চেয়ে আমার দল আগে। আমার লক্ষ্য দলের হয়ে আরো শিরোপা জয় করা। -মেসি বয়স মাত্র ২৫! তবে, এই বয়সেই তিনি যে সকল কীর্তি গড়েছেন সেটা এককথায় অসাধারণ। ২০১২ সাল শেষ করেছেন ৯১টি গোল করে; ভেঙেছেন জার্ড মুলারের ৪০ বছর পুরোনো রেকর্ড। তিনি লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইনদের কাছে তিনি ফুটবল ঈশ্বর; বার্সেলোনার ত্রাতা। আজ তার সামনে ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হবার সম্ভাবনা। আর মাঠে তার যে পারফরমেন্স তাতে ফুটবল বোদ্ধা ও সমর্থকদের মতে তার হাতেই উঠতে যাচ্ছে এবারের সেরার পুরস্কার। আর্জেন্টিনায় যখনই নতুন কোন তারকা ফুটবলারের জন্ম হয় তখনই শুরু হয় ম্যারাডোনার সাথে তার তুলনা। আর মেসিও তার ব্যতিক্রম নয়। আর এখন পর্যন্ত যে এই তুলনা চলছে এটাই মেসির সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব। আর দেশের প্রত্যাশার চাপ পূরণ করে যাচ্ছেন সমান তালে। দেশের হয়ে শেষ দশ ম্যাচে ১৩টি গোলই তার প্রমাণ। বাসেলোনার ঘরের ছেলে, সেই যুবদল থেকেই বার্সেলোনার সাথে আছেন। অনেকবারই গুঞ্জন উঠেছে বার্সেলোনা ছাড়তে চান তিনি। তবে, নিজের বাড়ির মতো বার্সেলোনা ছেড়ে যাননি কখনও। আর বার্সেলোনারও নয়নের মনি এই মেসি। ২২২টি ম্যাচে ১৯৫ গোল করা একজন খেলোয়াড়কে ছেড়ে দেয়া যে কতোটা বোকামি সেটা ভালো ভাবেই জানা আছে বার্সেলোনার। ২০১২ সালে বড় কোন শিরোপা জয় করতে না পারলেও এবারের তারকা লিওনেল মেসি। শেষ তিনবারের বিজয়ী তিনি। এবারো জিতলে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে গড়বেন টানা চার বার বর্ষসেরার পুরস্কার জয়ের রেকর্ড। সময়টা সত্যিই এখন মেসির! দৌড়ে আছেন রোনালদোও ব্যালন ডি’অর জয়টা আমার জন্য সবসময়ই আনন্দের। আর এই ব্যাপারে আমার মিথ্যা বলার প্রশ্নই উঠে না। -রোনালদো লিওনেল মেসির পাশে লা লিগায় এবার অনেকটাই ম্লান পর্তুগীজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে, একটু পিছনে ফিরে তাকালেই বোঝা যাবে কেন রোনালদোর বর্ষসেরা হওয়ার সম্ভাবনাকে একদমই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। গত মৌসুমে লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপা জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল এই রোনালদোর। গোল করা এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোতো সমান দক্ষ এই উইঙ্গার সমান সফলতা পেয়েছেন পোল্যান্ড ইউক্রেনে অনুষ্ঠিত ইউরোর আসরে। পর্তুগাল পৌঁছায় সেমিফাইনালে; রোনালদো করেন তিনটি গোল। এর আগে বাছাই পর্বেও করেন সাতটি গোল। তবে, সমস্যার সূচনা হয় এরপর থেকেই। লা লিগার ম্যাচ চলাকালেই ক্লাব নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে বিতর্কে জড়ান। গুঞ্জন উঠে রিয়ালের পারিশ্রমিকে সন্তুষ্ট নন তিনি। এখন আবার রব উঠেছে অচিরেই নতুন দলের হয়ে খেলতে দেখা যাবে তাকে। আর তালিকায় আছে সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং পিএসজির মতো নাম। তবে, ক্লাব দল রিয়াল মাদ্রিদ বার্সেলোনার সাথে পিছিয়ে যাওয়ায় লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ার সাথে সাথে তারও ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে। মেসির সাথে লড়াইয়েও পিছিয়ে রোনালদো। অথচ গত বছর এই রোনালদোর ৪৬টি গোলের কল্যাণেই লা লিগার শিরোপা ঘরে তোলে রিয়াল মাদ্রিদ। বয়স ২৭; রিয়াল মাদ্রিদে আসার আগে খেলেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের উপর। রিয়াল মাদ্রিদে আসার পর আগের থেকে আরো ঝলসে উঠেছেন। ক্লাব ফুটবলে ২৬৪টি ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ২১৩। এই মাপের একজন খেলোয়াড়কে তাই বর্ষসেরার দৌড় থেকে সরিয়ে দেয়া অসম্ভব। ইনিয়েস্তার সম্ভাবনা যোগ্যতার ভিত্তিতেই ব্যালন ডি’অরের শিরোপা নির্ধারিত হবে। আমি নিজে ভালোভাবে নিজের ক্যারিয়ার শেষ করতে পারলেই খুশি। -ইনিয়েস্তা প্রশ্ন উঠতে পারে, মেসি এবং রোনালদোর মতো দুই গোল মেশিনের পাশে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার মতো মিডফিল্ডার কেন? প্রশ্নের জবাব হলো ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই কালজয়ী গোল। অতিরিক্ত সময়ে এই আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলেই নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বজয়ের আনন্দে ভাসে স্পেন। দু’বছর আগের ঘটনা হলেও, মাঠের অসাধারণ ফুটবল শিল্পের কারণে এবছর তালিকায় তৃতীয় নামটি ইনিয়েস্তার। মিডফিল্ডের জাদুকরী ফুটবলের জন্য জাতীয় দল স্পেন এবং বার্সেলোনা দলে তার জায়গা নিয়ে ভাবতে হয় না কখনওই। স্পেনের হয়ে জয় করেছেন টানা তিনটি বড় আসরের শিরোপা। ২০০৮ সালের ইউরো জয়ের পর ২০১০ সালের বিশ্বকাপ। এরপর সর্বশেষ গতবছরের ইউরো জয়। আর দলের এই সাফল্যে তার অবদানই যে মূখ্য সেটা বুঝতে ভুল করেনি টুর্নামেন্টটির আয়োজক কমিটিও। সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠে তার হাতেই। আর ফাইনাল ম্যাচেও সেরা খেলোয়াড় ছিলেন এই ইনিয়েস্তা। এবারের লা লিগার কথাই ধরা যাক। শিরোপার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদকে তারা ছিটকে ফেলেছে তৃতীয় স্থানে। আর পার্থক্য দল দু’টির পার্থক্য গড়ে দেয়াতে ইনিয়েস্তার ভূমিকাটা ভুলে যাওয়ার মতো নয়। বার্সেলোনায় জাভি হার্নান্দেজের সাথে জুটি বেঁধে মেসি-পেদ্রোদের দিয়ে একের পর এক গোল করিয়ে যাচ্ছেন। গোটা ক্যারিয়ারে বাজে ফর্মের জন্য কখনও কথা শুনতে হয়নি তাকে। তাই বর্ষসেরার তালিকায় ইনিয়েস্তাকে রাখতেই হচ্ছে। ২০১১-১২ মৌসুমে জয় করেন ইউরোপ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। সেই তালিকাতেও মেসি রোনালদো ছিলেন। তাই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না ইনিয়েস্তার সম্ভাবনা।