দল বদলাচ্ছেন না মিচু

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৩৯
চলতি মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম বিস্ময় হয়ে ওঠা স্ট্রাইকার মিচু তার বর্তমান ক্লাব সোয়ানসি সিটিতেই থাকছেন। এ তথ্য জানান ক্লাবটির ম্যানেজার মাইকেল লড্রাপ। যদিও তাকে নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে কয়েকটি ক্লাব। মিচু গত গ্রীষ্মে বিশ লাখ পাউন্ডে স্প্যানিশ ক্লাব রায়ো ভালকানো থেকে সোয়ানসি সিটিতে যোগ দেন। প্রিমিয়ার লিগে নিজের প্রথম মৌসুমেই গোল পোস্টের সামনে হয়ে উঠেছেন দারুণ ফলপ্রসূ। সোয়ানসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে এখনো পর্যন্ত ২২ খেলায় মাঠে নেমে এই স্পানিয়ার্ড ১৩ গোল করেছেন। রবিন ফন পার্সি এবং লুইস সুয়ারেজের পেছনে এসে দাঁড়ানো মিচু এখন প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। স্বাভাবিকভাবেই তার দিকে চোখ পড়েছে প্রিমিয়ার লিগের বেশকিছু ক্লাবের। তাকে দলে টানতে আগ্রহী রাশিয়ান লিগের শীর্ষ দলগুলোও। এর মধ্যে আছে জেনিথ সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং দল বদলের বাজারে কাড়ি কাড়ি অর্থ নিয়ে মাঠে নামা আনঝি মাখাচকালা। তবে মিচুর পেছনে ছোটা বন্ধ করতে ক্লাবগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে ম্যানেজার লড্রাপ। কারণ কোনক্রমেই এই মৌসুমে দল ছাড়ছেন না স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। লড্রাপ আইটিভি স্পোর্টসকে এক সাক্ষাত্কারে বলেন, “কোনভাবেই সে দল ছাড়ছে না। এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ নেই। কারণ এই মুহূর্তে তার বিকল্প খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন হবে। আর দ্বিতীয় ব্যাপারটি হচ্ছে সে এখানে সুখেই আছে এবং দল ছাড়তে চায় না।” চেলসিতে যোগ দেয়া দেমবা বার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন,“নিউক্যাসল মৌসুমের মাঝপথে তাদের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে হারিয়েছে। অবশ্যই এটা (তাদের জন্য) খুব হতাশাজনক। বিশেষ করে এই মুহূর্তে এমন এক বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে যার কিনা তার (দেমবা বা) মতো গোল দেয়ার ক্ষমতা আছে।” স্পেনের ওভেইডোতে জন্ম নেয়া ২৬ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের খেলার প্রতি নিবেদনের প্রশংসা করে সোয়ানসি কোচ বলেন সে এবং ওয়েলস অধিনায়ক অ্যাশলি উইলিয়ামস সব সময়ই চেষ্টা করে দলের জন্য একটা ভাল সূচনা এনে দিতে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে তারা সব সময়ই দলের হয়ে মাঠে নামতে চায়। একাদশ নির্বাচনের ব্যাপারে লড্রাপ বলেন ,“দলে কে খেলবে কে খেলবে না সে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা একান্তই আমার। আমাকেই দেখতে হয় তারা(খেলোয়াড়) ক্লান্ত কিনা। তারা বিশ্রাম পাবে কিনা অথবা খেলবে কিনা। আপনি সবসময়ই চাইবেন আপনার সর্বোচ্চ গোলদাতাকে প্রতিটি ম্যাচে মাঠে নামাতে। তাই অ্যাশলি ইয়াং এবং সে(মিচু) এ মৌসুমে দলের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে মাঠে নেমেছে।” মিচুর প্রশংসায় মুখর কোচ আরও বলেন,“সে আমাদের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং এটা তার সতীর্থদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ যে সে সেখানে (মাঠে) আছে। এটা প্রতিপক্ষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ কারণ তারা জানে সে যতক্ষণ সেখানে আছে ততক্ষণই তারা বিপদে আছে। তাই সে যদি ম্যাচ খেলার মত ফিট থাকে তাহলে অবশ্যই খেলবে।” প্রিমিয়ার লিগের সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে সম্প্রতি মিচু ডাক পেয়েছেন স্পেন জাতীয় দলেও। আগামী ছয় ফেব্রুয়ারি উরুগুয়ের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচের জন্য তাকে দলে ডেকেছেন স্পেন কোচ ভিসেন্তে ডেল বস্ক সকারয়ে।