বাংলাদেশ ফুটবল দলের জন্য নেদারল্যান্ডের দুই কোচ লডেইউক ডি ক্রুয়েফ এবং রেনে কেস্তার আজ সোমবার বিকালে ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাথে চুক্তি হলে ৪৩ বছর বয়সের লডেইউক ডি ক্রুয়েফ জাতীয় ফুটবল দলের এবং তার থেকে ১০ বছরের ছোট রেনে কেস্তার ফুটবল একাডেমির দায়িত্ব নেবেন বলে জানানো হয়েছে। ডি ক্রুয়েফও একাডেমির জন্য সহায়তা করবেন বলে জানা গেছে। রেনে কেস্তার একাডেমিতে অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দল গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন। বাফুফের বেতনভুক্ত ২০ কোচকেও একাডেমির কোচ এবং জাতীয় দলের কোচের সাথে সংযুক্ত করা হবে যাতে করে এদের মধ্য থেকে পছন্দের কোচকে তুলে নিতে পারেন তারা। সব কিছুই চূড়ান্ত হবে চুক্তির পর।
কোচ দু’জন চারদিনের জন্য ঢাকায় এসে ব্যস্ত সময় কাটাবেন। তাদের জন্য পাঁচ তারকা হোটেল নির্ধারণ করা হয়েছে। জানা গেছে ডাচ কোচরা ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডস হাই কমিশনারের সাথেও সাক্ষাত্ করবেন।
এই সফরে তারা বাংলাদেশের ফুটবলের অবকাঠামোগত সুবিধা দেখবেন এবং জানবেন। তারা সিলেটে বাফুফের ফুটবল একাডেমি দেখতে যাবেন কিনা তা গতকাল পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে ফুটবলারদের জন্য সতর্ক সংকেত হচ্ছে এই দুই কোচ আগামীকাল টিম বিজেএমসি ও আবাহনী এবং ১১ জানুয়ারি শেখ রাসেল এবং শেখ জামালের খেলা দেখবেন। চার ক্লাবের কাছে ম্যাচ দুটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি খেলোয়াড়রা নিজেদের পারফরম্যান্সটা ডাচ কোচের কাছে মেলে ধরার পরীক্ষা দেবেন।
দুই বছরের জন্য কোচদের সাথে চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে শর্ত থাকবে। কারণ বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন আভাস দিয়েছেন ডাচ কোচরা যদি বাংলাদেশের চাওয়া পূরণ করতে না পারে তাহলে তাদের রাখবেন না। ডাচ কোচদের প্রথম পরীক্ষা নেয়া হবে আগামী সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশীপ দিয়ে। নেপালে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য হচ্ছে ফাইনালে উঠা। বাংলাদেশ যদি ভালো খেলে ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয় তাহলে এক চিন্তা। আর যদি খারাপ খেলার কারণে ফাইনালে উঠতে না পারে তাহলে কোচ নিয়ে বিকল্প কিছু ভাববে বাফুফে। সেই ভাবনার পথ খোলা রেখে চুক্তি করা হবে। বাফুফে সভাপতি ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রয়োজনে কোচদ্বয়কে বিদায় করে দেবেন। তিনি বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বের এটাই নিয়ম কোচ আসবে কোচ যাবে।’
সাফ চ্যাম্পিয়নশীপের আগে দুই মাস অনুশীলনের সময় পাবেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। তবে মার্চে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলের জন্য খুব বেশি সময় না পেলেও এ প্রতিযোগিতার সুবাদে বাংলাদেশের ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সক্ষমতা যাচাই করার সুযোগ পাবেন ডাচ কোচরা। এরপর তারা ঠিক করবেন জাতীয় ফুটবল গঠনে কাদের ডাকা হবে। ডাচ কোচদের পেছনে এক বছরের জন্য ব্যয় হবে প্রায় সাত থেকে আট কোটি টাকা।
