হরতালে ঢাবিতে পাঁচ ককটেল বিস্ফোরণ, ২টি উদ্ধার

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪২
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা হরতালে গতকাল রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে দুইটি ককটেল। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ক্যাম্পাসে এ বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। হরতালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। এছাড়া পূর্ব নির্ধারিত ১৩টি পরীক্ষার মধ্যে দুইটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। এদিকে হরতালের সমর্থনে ক্যাম্পাসে ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছাত্রদল কোনো মিছিল না করলেও হরতালের এবং ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে মিছিল-সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকাল আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন, আইবিএ ভবন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে পৃথক তিনটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিকাল সোয়া তিনটার দিকে মুহসিন হলের খেলার মাঠের উত্তর-পূর্ব কোণে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে কার্জন হল এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। আর দুপুর পৌনে একটার দিকে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ভিতর থেকে দুুইটি তাজা ককটেল উদ্ধার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। এদিকে গতকাল সকালে পিকেটার বা ককটেল বিস্ফোরণের সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে ধরে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। আটক জুলহাস উদ্দিন (২৪) বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে শরিফুল ইসলাম নামে তার ছোট ভাইয়ের কাছে বেড়াতে এসেছিলেন উল্লেখ করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহালুল হক চৌধুরী জানান, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে নয়টি এবং কার্জন হলে চারটি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে সকালে কলা ভবনে আইন বিভাগের একটি এবং কার্জন হলে পুষ্টি বিজ্ঞানের একটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। বাকি সকল পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে শতভাগ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বলেন, রবিবার সকালে তিনটি এবং বিকালে দুইটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। টিএসসি থেকে দুইটি ককটেল উদ্ধার করে শাহবাগ থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। টিএসসি থেকে দুইটি পরিত্যক্ত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন জুলহাসকে পুলিশের কাছে ছাত্রলীগের একটি অংশ সোপর্দ করলেও অপর অংশ আটক ব্যক্তি নির্দোষ বলে ছেড়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে। দুর্বৃত্তদের আটক করতে পুলিশ কাজ করছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) নূরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ দুঃখজনক। ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় খোঁজ-খবর নিয়ে মামলা দায়ের করা হবে। এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায়ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাস ভবনের সামনে একটি, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সামনে একটি, রোকেয়া হলের কাছে একটি এবং এস এম হলের কাছে দুইটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এদিকে হরতালের সর্মথনে ক্যাম্পাসে ও এর আশপাশে ছাত্রদল কোনো মিছিল সমাবেশ না করলেও হরতালের বিরুদ্ধে মিছিল-সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ। এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত, হাসানুজ্জামান তারেক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ প্রমুখ।