বন্ধু তোকে কতদিন পর দেখছি! তুই তো দেখছি অনেক পাল্টে গেছিস। ভাল আছিস তো! এ যেন এক বৃহত্ মিলনমেলা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সুবর্ণ জয়ন্তী ও অ্যালামনাই পুনর্মিলনী উত্সব উপলক্ষে অনেক বছর পর দেখা হওয়ায় ক্যাম্পাসে আগত গ্র্যাজুয়েটরা এভাবেই একে অপরের কাছে তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে। গত ৩ ও ৪ জানুয়ারি বাকৃবিতে অনুষ্ঠিত হলো দেশের এ যাবতকালের কৃষিবিদদের বৃহত্ মিলনমেলা। অনুষ্ঠানকে ঘিরে ক্যাম্পাসকে বর্ণিল সাজ আর দৃষ্টিনন্দন আলোকচ্ছটায় সাজিয়ে তোলা হয়। এখান থেকে পাসকৃত গ্র্যাজুয়েটদের বরণ করে নিতে প্রকৃতিকন্যা খ্যাত ক্যাম্পাস যেন রূপের পশরা সাজিয়ে বসেছিল। আগত কৃষিবিদরা তাদের ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য যেন নতুন করে উপভোগ করেছে। আর এ মিলনমেলায় আসতে পেরে সবাই যেন আবেগাপ্লুত।
গত ৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্যাম্পাসে এসে সুবর্ণ জয়ন্তী ও অ্যালামনাই পুনর্মিলনী উত্সবের উদ্বোধন করেন। তিনি সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর পূর্বে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন সমাবর্তন মাঠে নবনির্মিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি চত্বরের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাকৃবি উপাচার্য ড. মো. রফিকুল হকের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নজিবুর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতিমূলক বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. শামসুল আলম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাসকৃত সকল কৃষিবিদদের এ মিলনমেলায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ আহবানে সাড়া দিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে এখান থেকে পাসকৃত প্রায় ১০ হাজার কৃষিবিদ রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে তাদের পরিবার নিয়ে অংশগ্রহণ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩ জানুয়ারি অ্যালামনাই পুনর্মিলনী উত্সবের উদ্বোধন ঘোষণা করার পর শুরু হয় অ্যালামনাই অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা। চলে ৪ জানুয়ারি রাতভর পর্যন্ত। অনেকদিন পর দেখা হওয়া বন্ধু-বান্ধবদের সাথে কুশল বিনিময়, আলাপচারিতা, ক্যাম্পাস ও হল জীবনের স্মৃতিচারণা, আড্ডা দেয়া, ঘোরাঘুরি করেই সবাই সময় কাটান। কেউ এসেছেন পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে; আবার নিজের মতো ঘোরার জন্য কেউবা একাই এসেছেন। আবার কারো এখনো বিয়ে করা হয়ে উঠেনি।
সবাই বন্ধুদের সাথে নিজেদের অনুষদ, বিভাগে গিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। মিলিত হন বিভাগ কিংবা অনুষদভিত্তিক অ্যালামনাই পুনর্মিলনীতে। আবার ক্যাম্পাস জীবনে যারা কোন রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন, তারা ওইসব সংগঠনের কার্যালয়ে গিয়ে একটু সময় কাটান এবং বর্তমানে দায়িত্বপালনরত ছোট ভাই-বোনদের খোঁজ নিতে ভুল করেননি। কেউবা আবার ব্যস্ত ফটোসেশনে। নিজের প্রিয় ক্যাম্পাসে এসে ছবি উঠানো হবে না, তা কি হয় ! আনন্দঘন মুহূর্তগুলো আরো জীবন্ত করে রাখতে সবাই ছিল ব্যতিব্যস্ত।
