মেধাবী মুখ

সেরাদের সেরা সহিদুল হক

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫১
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে বিবিএতে ৩.৯৬ পেয়েছে সহিদুল হক। পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকও। তবে সহিদুল হকের জীবনটা নানা উত্থান-পতনে ভরা। এসএসসিতে খুব ভালো না করতে পারায় মন খারাপ ছিল সহিদুল হকের। কারণ চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আশরাফপুর আহসানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় স্কুলে সে কখনো প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হননি। প্রত্যাশা তাই ছিল একটু বেশি। জীবনের প্রথম এবং সবচে বড় পরীক্ষায় তাই ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় কলেজে ভর্তি হলেও মন ছিল না পড়ার টেবিলে। তাই খেলাধুলা ও আড্ডা দিয়েই সময় পার করতে থাকেন সহিদ। ক্রিকেট সবচে পছন্দের খেলা হলেও ফুটবলসহ অন্য খেলাতেও পারদর্শী চাঁদপুরের এ ছেলেটি। তবে সহিদুলের মা হাল ছাড়েননি। ছেলেকে সব সময় বোঝাতেন তিনি। মা ও বন্ধুদের অনুরোধ রাখতেই ঢাকা কমার্স কলেজে ভর্তি হন সহিদুল। পেয়ে যান জিপিএ-৫। পরে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে নতুন পরিবেশে এসে সবার সঙ্গে মিশে যান তিনি। হতাশা কাটিয়ে পড়াশোনা শুরু করে দেন। তখনো ভাবেননি, তিনি হবেন সেরাদের সেরা। সহিদুল হকের শিক্ষকরা জানান, তার ভালো ফলের পেছনে ছিল একান্ত প্রচেষ্টা এবং শিক্ষকদের সহযোগিতা। ক্লাসে তাকে সব সময় নিয়মিত এবং আগ্রহী দেখেছি। ভালো ফল কীভাবে সম্ভব? সহিদুল হক বলেন, ‘শিক্ষকদের লেকচার অনুসরণ করা আর নিজে নোট করার অভ্যাস গড়ে তোলা। ভালো রেজাল্ট করতে সারা দিন পড়ার দরকার হয় না। নিয়মিত এক-দুই ঘণ্টা বইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেই যথেষ্ট। তবে অবশ্যই বুঝে পড়া দরকার। তিনি আরো জানান, ক্লাসে মনোযোগী থাকায় শিক্ষকরাও সব ধরনের সাহায্য করতেন। সবাই উত্সাহ দিতেন। কোন প্রশ্নের উত্তর কীভাবে করতে হবে, বুঝিয়ে দিতেন। স্বপ্ন দেখি নিজেও শিক্ষক হয়ে অর্জিত জ্ঞান বিলিয়ে দেয়ার।