সাক্ষাত্কার

সঙ্কট কাটাতে সবার সহযোগিতা চাই

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫১
ইত্তেফাক: আমরা জানি একটি নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিগত প্রায় ৪ মাস বিশ্ববিদ্যালয় অচল ছিল। এমতাবস্থায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আপনার পরিকল্পনা কি? ভিসি: আমার পরিকল্পনা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ আছেন এবং প্রশাসনের অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন তাদের নিয়ে বসবো এবং আলোচনা সাপেক্ষে একটি সিদ্ধান্ত নেব। কেননা তারাই ক্যাম্পাস সম্পর্কে ভালো জানেন। আমি চাই শীগ্রই এ ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসুক এবং তা চলমান থাকুক। ইত্তেফাক:বিগত ক্ষতি কিভাবে পোষাবেন? ভিসি: আমার মতে শিক্ষার্থীদের বিগত ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য প্রয়োজনে অতিরিক্ত ক্লাস নেয়া এবং শুক্রবারেও পরীক্ষা গ্রহণ করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতার সাথে যার যার দায়িত্ব পালন করতে হবে। ইত্তেফাক:আগের ভিসির অনিয়ম সম্পর্কে আপনার মতামত কি? ভিসি:এ ব্যাপারে আমার বক্তব্য হচ্ছে আগের ভিসির নিয়ম-অনিয়মের সবটুকু বিষয় আমার আওতায় আসবে না। তবে আমি শুনেছি এ ব্যাপারে ইউজিসি (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) কর্তৃক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা এসে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে গেছেন। তথ্য-উপাত্ত অনুসারে সে গঠিত কমিটি যে সিদ্ধান্ত নিবে আমি তার অনুকূলে থাকব এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার দিক থেকে যতটুকু করার, সিন্ডিকেট মিটিং আছে এবং আরও যারা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আছেন তাদের সাথে মতবিনিময় করে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার আমি তা করব। ইত্তেফাক:লেজুড়ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি? ভিসি:আমার মতে, লেজুড়ভিত্তিক কথাটা ঠিক না, বলা যায় সহযোগী। আন্দোলনের মাধ্যমেই আমাদের এ দেশের অভ্যুদয় হয়েছিল। আর সেখানে ছত্রদের আন্দোলনই ছিল অগ্রগামী। তবে ১৯৫২ সালের ছাত্র রাজনীতি আর এখনকার ছাত্র রাজনীতির মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। আমার মতে, ছাত্র রাজনীতি যেমন আছে তেমনই থাকবে তবে প্রত্যেকটি পর্যায়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি এজেন্ডা ‘নির্বাচন’ থাকা জরুরি। ইত্তেফাক:বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষ স্কুল-কলেজে কেমন প্রভাব ফেলবে? ভিসি:বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষ, স্কুল-কলেজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে তা আমি বলবো না। তবে বর্তমানে কোন ইতিবাচক প্রভাবও ফেলছে না। ক্যাম্পাসে বিরোধী মত থাকবে। তার মানে এই না সংঘর্ষ করতে হবে। আমার কথা হল ছাত্র রাজনীতি যদি প্রকৃত অর্থে ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করে তাহলে স্কুল-কলেজে তার একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইত্তেফাক: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পার্টটাইম চাকরিতে বেশি ঝুঁকে পড়ছেন। আপনি এটাকে কিভাবে দেখছেন? ভিসি:বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্বাধীন এবং তারা যে পরিমাণ বেতন পান তা অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নয়। এমতাবস্থায় তারা ইচ্ছা করলে নিয়মানুযায়ী পার্টটাইম চাকরি করতে পারেন। তবে সেটা করতে গিয়ে যেন মূল চাকরিটা গৌন না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ইত্তেফাক:বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা ও আপনার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা কি? ভিসি:বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা আমাদের সকলেরই জানা। বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম অনেকটা ব্যাহত হলেও কিছু উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলছে। আমার পরিকল্পনা হচ্ছে সেগুলো আরও বেগবান করা এবং আরও কিছু নতুন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হাতে নেয়া। ইত্তেফাক:পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায়ই যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে। এটা কিভাবে রোধ করা যায়? ভিসি: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ন্যক্কারজনক ভাবে এটা বেড়েই চলেছে। তাছাড়া বর্তমানে সাড়া বিশ্বব্যাপী এটা একটা ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এটা রোধ করার জন্য প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়েই যে আইন রয়েছে তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং স্ব স্ব অবস্থান অনুযায়ী আরও নতুন আইন করা যেতে পারে। তাছাড়া সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ইত্তেফাক:সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাসহ শিক্ষা কার্যক্রম এক ও অভিন্ন হলে কেমন হবে? ভিসি:বর্তমানে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি প্রায় একই রকম হয়ে গেছে। শিক্ষা কার্যক্রম এক ও অভিন্ন করা সম্ভব নয়। তবে স্ব স্ব অবস্থান থেকে শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। ইত্তেফাক:নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়িত হলে এর ফল কেমন হবে? ভিসি:নতুন শিক্ষানীতির কিছু ইতিবাচক দিক আমরা ইতোমধ্যে লক্ষ্য করেছি। তার মধ্যে জেএসসি (জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট) ও জেডিসি (জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট) পরীক্ষার মাধ্যমে জুনিয়র শিক্ষার্থীরা আজ অনেক বেশি উজ্জীবিত হয়েছে। তবে উচ্চতর লেভেলে তা এখনো চোখে পড়েনি। আমার মতে সংশ্লিষ্টদের সেদিকে আরও বেশি নজর দেওয়া উচিত। ইত্তেফাক:জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হলেও এখনো এখানে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি? ভিসি:একটি অনাকঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে সময়মত এখানে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। আশা করি, অচীরেই আমরা ভর্তি পরীক্ষা নিতে পরবো। সবার পরে হওয়ায় প্রতিযোগিতা একটু কম হলেও অযোগ্যরা চান্স পাবে না, যোগ্যরাই এখানে চান্স পাবে।