সাজেদুল-সাঞ্জামুলের পাল্টা লড়াই

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:১৮
সাজেদুল ইসলাম ও সাঞ্জামুলের নবম উইকেটে তোলা ১২৭ রানে প্রথমদিন শেষে স্বস্তি ফিরে পেল বিসিবি উত্তরাঞ্চল। দিনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেশনে এই দুই ব্যাটসম্যান বাঁচিয়েছেন উত্তরাঞ্চলকে। এদের লড়াইয়ের আগ পর্যন্ত কাল মিরপুরে ছিল কেবলই জিয়াউর রহমানের বোলিং দাপট। দুরন্ত বোলিং করে ৫২ রানে উত্তরাঞ্চলের ৫ উইকেট ফেলে দিয়েছিলেন জিয়া। শেষ পর্যন্ত সাজেদুল-সাঞ্জামুলের নৈপুণ্যে প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলের বিরুদ্ধে ২৯১ রানের লড়াকু সংগ্রহ গড়লো উত্তরাঞ্চল। দিনের শেষ তিন ওভার ব্যাট চালিয়ে দক্ষিণাঞ্চল কোন উইকেট না হারিয়ে পাঁচ রান করে। গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) তৃতীয় ও শেষ রাউন্ডের প্রথমদিন শেষে উত্তরাঞ্চলের স্কোরবোর্ড উজ্জ্বল দেখালেও দিনের শুরুতে জিয়াউর রহমানের এক স্পেলে ধসে পড়েছিল তাদের ব্যাটিং অর্ডার। দক্ষিণাঞ্চলের জিয়া এক স্পেলে টানা ১১ ওভার বল করে উত্তরাঞ্চলের টপ চার ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দেন। লাঞ্চের আগেই উত্তরাঞ্চল স্কোরবোর্ডে ৫২ রান তুলতে হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। নিজের দ্বিতীয়, তৃতীয়, সপ্তম ও অষ্টম ওভারে চার উইকেট নিলে প্রথম স্পেলেই জিয়ার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ১১-৩-২৭-৪। এমন বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখেও দুই লোয়ার অর্ডার সাজেদুল ও সাঞ্জামুল লড়ে গেছেন। এই দুইজন নবম উইকেটে ১২৭ রান তুলে মান বাঁচিয়েছেন উত্তরাঞ্চলের। লাঞ্চের পর যখন সোহাগ গাজী ও আব্দুর রাজ্জাকের স্পিনে মিডল অর্ডারও ভেঙ্গে পড়ে তখন এই দুই ব্যাটসম্যান দলের হাল ধরেন। চা বিরতি পর্যন্ত এরা দলকে টেনে নিয়ে যান। দ্বিতীয় সেশনে এই দুইজনের ব্যাট থেকে আসে ১৪৪ রান। চা বিরতির পর অবশ্য সাজেদুল তাপস ঘোষের বল উইকেট ছেড়ে মারতে গেলে স্ট্যাম্প হন। তবে তার ৯৬ মিনিটে ৭৬ রানের ইনিংসের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। যেভাবে ব্যাট করছিলেন তাতে তিন অংকও ছুঁতে পারতেন। চারটি ছয় ও নয়টি চার মেরেছেন, বল খরচ করেছেন মাত্র ৭৫টি। তাকে সঙ্গ দেয়া সাঞ্জামুলও পেসার শাফাক আল জাবেরের বলে উইকেট কিপারের হাতে তালুবন্দি হয়েছেন। ১৬১ মিনিট উইকেটে থেকে করেছেন ৭৩ রান। উত্তরাঞ্চলের টপ-অর্ডারদের এমন ব্যর্থ ব্যাটিংয়ের জন্য হতাশ প্রকাশ করেছেন দলের ম্যানেজার দেবব্রত পাল, ‘টপ-অর্ডারদের আউটগুলো বাজে হয়েছে। দুটি এলবিডব্লিউ ছাড়া বাকি আউটগুলোর জন্য অবশ্য আফসোস লাগছে। আরো ভালো ব্যাটিং করতে পারতাম কিন্তু টপ-অর্ডাররা পারেননি’। বিসিবি উত্তরাঞ্চলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকেও এসেছে মাত্র ২৯ রান। নাসির হোসেন রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিয়েছেন জিয়ার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। নাঈম করেছেন মাত্র ৫ রান। টপ-অর্ডারদের ব্যাট থেকে এমন স্কোরের কারণে ১২৫ রানে পড়ে যায় ৮ উইকেট। দিনের শেষ তিন ওভার ব্যাট করে কোন উইকেট না হারিয়ে দক্ষিণাঞ্চল ৫ রান তুলেছে। সংক্ষিপ্ত স্কোর বিসিবি উত্তরাঞ্চল প্রথম ইনিংস- ৮৮ ওভারে ২৯১/১০ (সাজেদুল ৭৬, সাঞ্জামুল ৭৩, মুশফিক ৩৬, জহুরুল ২৯, ফরহাদ ১৮, তানভীর ১৭, সাকলাইন অপঃ ১৫, জিয়া ৪/৩২, সোহাগ ২/৯৪, রাজ্জাক ২/৯৬)। প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল প্রথম ইনিংস- ৩ ওভারে ৫/০ (কায়েস অপঃ ২, সৌম্য অপঃ ২)। প্রথম ইনিংসে দক্ষিণাঞ্চল ২৮৬ রানে পিছিয়ে।