বেদির বদৌলতে ‘সন্ত্রাসী’ রসুল ভারতীয় এ দলে

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:১৯
ক্রিকেট খেলতে গিয়ে সন্ত্রাসী হিসেবে গ্রেফতার হওয়া জম্মু-কাশ্মীরের পারভেজ রসুল এখন কড়া নাড়ছেন ভারতের জাতীয় দলের দরজায়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের আগে অনুশীলন ম্যাচে ভারতের ‘এ’ দলে ঠাঁই পাওয়া মেধাবী এ অলরাউন্ডার যারপরনাই খুশী। তিনি নিজের এ সাফল্যের জন্য সকল কৃতিত্বই দিলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক বিষেণ সিং বেদিকে। রসুল মনে করছেন বেদির সহায়তাতেই জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। ব্যাট হাতে ৫৯৪ এবং বল হাতে ৩৩ উইকেট শিকারী নিজ প্রদেশের সেরা পারফরমার রসুল মনে করেন, তার এতদূর আসার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে রাজ্য ক্রিকেটে প্রধান কোচ হিসেবে বেদির আগমন। উত্ফুল্ল রসুল টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘আমার সফলতায় মূল ভূমিকা রেখেছেন বেদি স্যার। প্রথমদিকে আমি ছিলাম একজন ব্যাটসম্যান। পার্টটাইম হিসেবে অফ ব্রেক বোলিং করতে পারতাম। কিন্তু তার (বেদি) উত্সাহে আমি আমার বোলিং দক্ষতা বাড়াতে অধিক মনোযোগ দিতে শুরু করি।’ রসুলের মতে, কিংবদন্তি এই বাঁহাতি স্পিনারের দেয়া টিপসের কারণেই সে নিজে একজন অফ স্পিনার হিসেবে উন্নতি করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘বিষেণ বেদির মত কেউ যখন আপনাকে বলবে, ‘তুমি রাজ্যের সেরা অফ স্পিনার।’ তখন তুমি বিশেষ কিছু মনে করতে পার। তিনি যে বিশ্বাস তোমার প্রতি রেখেছেন এরপর তার বিশ্বাসের প্রতিদান দিতে তোমাকে কঠোর পরিশ্রম শুরু করতে হয়েছে। ফ্লাইটে কিভাবে ভিন্নতা আনতে হয় সে বিষয়ে তিনি আমাকে টিপস দিয়েছেন। ব্যাটসম্যানের শক্তি অনুযায়ী কিভাবে ফিল্ড সাজাতে হয় সে ব্যাপারেও তিনি শিখিয়েছেন।’ গত মৌসুম থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের কোচের দায়িত্ব পালন করছেন বেদি। শুধু দলের দক্ষতা বৃদ্ধি নয়, খেলোয়াড়দের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের জন্যও সমস্ত প্রশংসা ও কৃতিত্ব তারই। দলের মানসিক পরিবর্তনে বেদি কতটা প্রভাব ফেলেছেন জিজ্ঞাসা করা হলে রসুল বলেন, ‘আমরা কেবল অংশগ্রহণের জন্য নয়, এখানে অংশ নিচ্ছি— তিনি আমাদের এটা অনুধাবন করাতে সক্ষম হয়েছেন। প্রথমদিকে জম্মু-কাশ্মীরের খেলোয়াড়রা কেবলমাত্র অংশগ্রহণ করতে হয় তাই করতো। কিন্তু এখন আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্মেছে। সেরা হওয়ার মেধা আমাদের মধ্যে রয়েছে এখন আমরা এটা বিশ্বাস করি।’ চলমান রনজি ট্রফিতে আট ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে বেশ ভাল অবস্থানে আছে জম্মু ও কাশ্মীর। যদিও তারা নক-আউট পর্বে উঠতে পারেনি। এরপরও রসুল মনে করেন ‘এ’ দলে তার নির্বাচিত হওয়াটা রাজ্যের অপর খেলোয়াড়দের জন্য দরজা খুলে দেবে। এ ব্যাপারে তার বক্তব্য, ‘এটা অনেক বড় জাগরণ, শুধু আমার নিজের জন্য নয়— দলের জন্যও। এ থেকে জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেটারদের মূল্য বেড়ে গেল। তাদেরকে এখন আইপিএল’র জন্য বিবেচনা করা হবে।’ দক্ষিণ কাশ্মিরের এ ক্রিকেটার বলেন, তার কাছে অবশ্যই ভারত আগে, তারপর আইপিএল। তিনি আরো বলেন, ‘অন্য ক্রিকেটারদের মত আমিও অবশ্যই দেশের হয়ে খেলতে চাই। ভারতের ‘এ’ দলে নির্বাচিত হওয়া মানে আইপিএল খেলার চেয়ে বড় কিছু। তবে হ্যাঁ সুযোগ পেলে অবশ্যই আমি এ টুর্নামেন্টের অংশ হবো।’ অতীতে ভারতের হয়ে খেলা শ্রীশান্থ ও মুরলি বিজয়ের সঙ্গে একদলে খেলার অর্থ জিজ্ঞাসা করা হলে রসুল বলেন, ‘এটা হবে অনেক বড় অভিজ্ঞতা। বড় বড় খেলোয়াড়দের দেখা, তাদের সঙ্গ পাওয়ার এটাই একটা মোক্ষম সময়। সামনের দিকে এগুতে এটা আমার জন্য অনেক সহায়ক হবে।’ সন্ত্রাস কবলিত একটি রাজ্য থেকে এ পর্যন্ত উঠে আসতে দীর্ঘ কঠিন সময় পাড়ি দিতে হয়েছে মেধাবী এ ক্রিকেটারকে। ২০০৯ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুর্নামেন্টে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ভিক্টোরিয়া ও কেপ কোরবার মধ্যে ম্যাচে বিস্ফোরক দ্রব্য বহনের জন্য সন্দেহজনকভাবে ব্যাঙ্গালোরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল। কিছুদিন পর অবশ্য অভিযোগ থেকে রেহাই পান তিনি। পুলিশ তাকে গ্রেফতারের সময় সিকে নাইডু অনূর্ধ্ব-২২ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে জম্মু-কাশ্মীর দলের সঙ্গে এসময় ব্যাঙ্গালোরে ছিলেন রসুল। সে ঘটনা পিছনে ফেলে পুরো নজর ক্রিকেটে দিয়েছেন বলে জানান তিনি। ক্রিকেটারটি বলেন, ‘ঐ ঘটনাটা আমি একটি দুঃস্বপ্ন হিসেবে নিয়েছি..... ক্রিকেট আমাকে ঐ দুর্ঘটনা ভুলে যেতে সাহায্য করেছে।’ বাসস