রায়পুরায় আইন শৃঙ্খলার অবনতি সড়কগুলো ছিনতাইকারীদের দখলে

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৪
নতুন বছরের শুরুতেই ধর্ষণ, ছিনতাই, ডাকাতি, অগ্নিসংযোগ ও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ রায়পুরাবাসী। নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস উপজেলার প্রায় ৬ লাখ মানুষের। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। বছরের শুরু থেকে ৫ জানুয়ারি শনিবার পর্যন্ত ৫ দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১টি ধর্ষণ, ৫টি ছিনতাই, ১টি ডাকাতি, ৫ ঘরে অগ্নিসংযোগ ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩ জনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখমের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ছোট-খাট অসংখ্য চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার প্রধান সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর বেশ কয়েকটি স্পট ছিনতাইকারীদের দখলে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার পর পরই শুরু হয় ছিনতাইকারীদের পদচারণা। সিএনজি, টেম্পো, অটোরিকশা, রিকশাসহ বিভিন্ন যান থামিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটে নিচ্ছে সর্বস্ব। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পথচারী, স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ এনজিও কর্মীরা তাদের কবলে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে রায়পুরা-বারৈচা হাইওয়ে রোডের মধ্যে আমতলী, লোচনপুর, জাহাঙ্গীরনগর, বোয়ালমারা ও রায়পুরা-রাধাগঞ্জ সড়কের খাকচক কালভার্ট, সাচিয়ামারা, গোবিন্দপুর এবং রায়পুরা-মরজাল সড়কের কাঙ্গালীমারা সংযোগস্থল নামকস্থানে প্রতিনিয়তই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। তবে সবচেয়ে বেশি ঘটছে বোয়ালমারা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায়। প্রকাশ, ৩ জানুয়ারি স্থানীয় মসজিদের ইমাম কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে চান্দেরকান্দী ইউনিয়নের ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রী। এ ঘটনায় মসজিদের ইমাম আল আমিন মাকসুদ ও ফয়সাল নামে ২ জনকে আটক করেছে রায়পুরা থানার পুলিশ। ১লা জানুয়ারি উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের বরতুলী এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বাবু নামে এক ডাকাতকে আটক করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় এলাকাবাসী। পরে লোকজন একটি বিদেশি পিস্তলসহ আহত ডাকাতকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। এভাবে অপরাধ কর্মকান্ডের তালিকা দীর্ঘ করা যায়। অন্যদিকে, প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পুলিশের নাকের ডগার উপর দিয়েই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবাধে কেনা-বেচা হচ্ছে মদ, গাঁজা, ফেন্সিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকজাতীয় দ্রব্যাদি। আর এসব মাদকদ্রব্যের অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতাগণের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলো মোবাইল। তবে সবচেয়ে বেশি রমরমা ব্যবসা চলছে রায়পুরা পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানগুলোতে। ফলে এসব মাদকদ্রব্য হাতের নাগালে পেয়ে আসক্ত হচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও উঠতি বয়সের যুবকরা। এ ব্যাপারে কথা হয় রায়পুরা থানার ওসি মোঃ মাহমুদুল ইসলামের সাথে। তিনি উপজেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করে বলেন, উপজেলার কোথাও আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটেনি। যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলো পূর্ব শত্রুতার জের। ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় ইতিমধ্যে আমরা ২ জনকে গ্রেফতার করেছি। এছাড়া মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।