সামাজিক সচেতনামূলক কর্মকাণ্ডে বরাবরই এক ধাপ এগিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন সেই ছোটবেলা থেকেই, এখন বড়বেলায় এসে সেই কাজগুলোকেই একটু বড় পরিসরে করার চিন্তা থেকে যুক্ত হয়েছেন অভিনয়ের সঙ্গে। পেশায় একজন হোমিওপ্যাথি ডাক্তার, পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগে। কথা বলছিলাম এই প্রজন্মের নতুন প্রতিভা রিয়াজউদ্দীন রিয়াজ সম্পর্কে। মামা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর থেকেই নিজেকে সোচ্চার করেছেন সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের সঙ্গে। সেখানে পরিচয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে। তারই অনুপ্রেরণায় এবং পরিচালনায় টেলিফিল্ম ‘পুরস্কার’-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। একজন ড্রাইভারের জীবন গল্প নিয়ে গড়ে উঠা টেলিফিল্মটিতে আরও অভিনয় করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন, চম্পা, প্রিয়াংকাসহ আরও অনেকে। ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই’ এই স্লোগানকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে টেলিফিল্মটির গল্প এগিয়ে চলে।
একজন প্রতিভাবান কখনোই তার প্রতিভা নিজের মাঝে লুকিয়ে রাখতে পারে না, পৃথিবীকে তা জানান দিতেই হয়। তারই একটি বাস্তব উদাহরণ হচ্ছেন চাঁদপুরের মতলবে জন্ম নেওয়া রিয়াজ। ছয় ভাইয়ের মাঝে সবার ছোট রিয়াজ এর আগে অভিনয় করেছিলেন ‘মায়ের স্বপ্ন’ চলচ্চিত্রে একজন পুলিশ ইন্সপেক্টরের চরিত্রে। ঊর্ধ্ব কিংবা অধঃ দুই বৈশিষ্ট্যের কোনোটিতেই তিনি কখনো ছিলেন না। এই ভাবনার বাইরে থেকে শুধুই তিনি তার কাজ নিয়েই ব্যস্ত থেকেছেন। নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন নানান সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে। এ সময়ের নাটকের মাঝে যে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে এই প্রসঙ্গে রিয়াজ বলেন, ‘বর্তমানে স্ক্রিপ্টের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। এখন আর নির্দিষ্ট প্রেম-ভালোবাসার মধ্যে আমাদের নাটক আটকে নেই। দৈনন্দিনের নানা ধরনের ঘটনাগুলোই উঠে আসছে আমাদের নাটকগুলোয়। বলা যায় আমাদের এ সময়ের নাটকগুলোও অনেকবেশি জীবনঘনিষ্ঠ। তবে নাটক বরাবরই সমাজের আয়না হিসেবে বিবেচিত, নাটক সভ্যতার ক্রমবিকাশে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলছে। সেখানে যা ইচ্ছে তা করার কোনো অধিকার কারও নেই।’ নাটকের মাঝে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দেখানো প্রসঙ্গে তার মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে মূলত আমাদের খুব বেশি বলার কিছু নেই। কেননা বাস্তব অবস্থা মেনে নেওয়া সবচেয়ে বড় ব্যাপার। আমাদের এত পরিশ্রমের কাজটি দর্শকদের যদি না-ই দেখাতে পারলাম তাহলে এর কোনো অর্থই থাকে না, বিজ্ঞাপনের ভিড়ে নাটকটির কথাই যদি দর্শক ভুলে যায় তাহলে আর কাজে মূল্য কোথায় রইল। সুতরাং এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষেরও সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে।’
নাগরিক আনন্দ-বেদনা সম্পর্কে রিয়াজের অভিমত, ‘নাগরিক আনন্দ খুঁজে নিতে হয়, তবে নাগরিক বেদনা খুঁজে নেওয়া লাগে না, তা স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। দেশের নাগরিক হিসেবে অবশ্যই দেশের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা আছে। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আমাদের দেশ কিন্তু ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নতির দিকে। কারও জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরা নিজেদের দায়িত্ব যদি সত্ ও সঠিকভাবে পালন করি তাহলে সমাজে কোনো সমস্যাই থাকবে না। শীতের এই সময়ে আমাদের উচিত যার যতটুকু সামর্থ্য আছে তা নিয়ে শীর্তাত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কারণ সবকিছুর পরেও আমরা মানুষ, তাই মানুষের কাছে মানুষ হিসেবে আমাদের দায়বদ্ধতা অস্বীকার করতে পারব না।’
সাদামাটা জীবন যাপনেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা রিয়াজ মোটেই আত্মকেন্দ্রিক নন। বরাবরই আড্ডা দিতে আর হৈহুল্লোড় প্রিয় রিয়াজ পরিবারের সবার সাথেই সময় কাটাতে বেশি ভালোবাসেন। আর ভালো কিছু কাজ করেই সাজাতে চান জীবনের বাকি সময়গুলো। মানুষের মনে বেঁচে থাকতে চান সদাহাস্যোজ্জ্বল এই মেধাবী অভিনেতা।
