বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি ও আইসিসির সহ-সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল এমপি বাংলাদেশ দলের সফরের ব্যাপারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) কোন প্রতিশ্রুতি দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। যদিও অভিযোগ আছে বিসিবি সভাপতি থাকাকালীন পিসিবি’র সাথে একাধিক আলোচনায় তিনি বাংলাদেশ দলের সফরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এমনকি আইসিসির সহ-সভাপতি হওয়ার লক্ষ্যেও তিনি পিসিবিকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। খোদ বর্তমান বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমন অভিযোগ তুলেছেন। বলাবলি হচ্ছে আইসিসির সভার কার্যবিধিতেও সেই প্রতিশ্রুতির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। গতকাল বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) খেলা দেখতে এসে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলেন।
প্রশ্ন: নিঃশর্তভাবে পাকিস্তান যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। এমন কথাও হয়েছে যে, আইসিসির সহ-সভাপতি হওয়ার জন্য আপনি সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
কামাল : আমি জানি না এই আইডিয়াটা কোত্থেকে আসল? আপনারা জানেন আইসিসিতে সহ-সভাপতি বা সভাপতি হতে হলে কাউকে নিরঙ্কুশ ভোট পেতে হয়। পূর্ণ সদস্য ১০টা দেশের মধ্যে সাতটার ভোট পেতে হয়। তো পাকিস্তানের এক ভোট দিয়ে আপনি কিভাবে সহ-সভাপতি বা সভাপতি হবেন? এটা হতে পারে না। আমি প্রমাণ করেছি এটা সম্পূর্ণ অসত্য। কারণ আমার কিন্তু ভোটাভুটি লাগেনি। আমি ঐকমত্যের ভিত্তিতে সহ-সভাপতি হয়েছি।
প্রশ্ন: তাহলে আপনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে?
কামাল: এটা অস্বাভাবিক ঘটনা। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য, বাংলাদেশের পতাকাকে উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমার যতো জায়গায় যাওয়ার প্রয়োজন হয়েছে, আমি গিয়েছি। যতটা ছোট হওয়ার দরকার আমি হয়েছি। যাঁকে যা বলার আমি বলেছি। আমার কাজটি আমি করেছি। সেখানে আমি সফল। তাইবলে দেশের স্বার্থ পরিপন্থী কোন চুক্তি আমি কোথাও করিনি। আপনারা কোথাও এটা পাবেন না। পাকিস্তানের সঙ্গেই হোক বা অন্য কারো সঙ্গে। এটা মিডিয়ার আবিষ্কার। আপনারা বোঝাতে চাইছেন আমি এমন কোন একটা সই হয়ত করে ফেলেছি, যেটা না করলে আমি আইসিসির সহ-সভাপতি হব না। লাহোরে পাকিস্তানের মিডিয়াও আমাকে একই প্রশ্ন করেছে। কিন্তু আমি যে উদ্যোগটা নিয়েছিলাম, সেটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্বার্থেই। এর দীর্ঘমেয়াদী সুফল আপনারা দেখতে পাবেন।
প্রশ্নঃ বিসিবি সভাপতি থাকাকালীন বার বার এটাও বলেছিলেন যে, স্ট্যান্ডার্ড সিরিজ না হলে বাংলাদেশ যাবে না। তখন সবাই এটাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরে শোনা গেল নিঃশর্তভাবে যাবে। আইসিসি ম্যাচ অফিসিয়াল না পাঠালেও যেতে হবে।
কামাল : কোথায় পেলেন এটা। আমি এটা অস্বীকার করি। আইসিসিতে এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে অনেক। সেগুলো কার্যবিধিতেও উল্লেখ আছে। প্রত্যেকবার বলা হয়েছে বাংলাদেশ দল যদি যায়, তাহলে সেখানে আইসিসিও সম্পৃক্ত হবে। সম্পৃক্ত হওয়ার কিছু নিয়ম-কানুন আছে। আইসিসি তাদের নিরাপত্তা দল পাঠাবে। নিরাপত্তা খতিয়ে দেখে তারা ম্যাচ অফিসিয়াল পাঠাবে। আমি, বাংলাদেশ বা বিসিবি, কোথাও আমরা এমন কোন মন্তব্য করিনি যে, আইসিসিকে পাশ কাটিয়ে আমরা যাব। এটা করা যাবে না। কেন যাবে না? কারণ এটা করলে অন্য দেশের সামনে একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
প্রশ্ন: কিন্তু বিসিবি বর্তমান সভাপতি পাপন সাহেব তো পরিষ্কার বলেছেন, বাংলাদেশকে যেতেই হবে। সেটা আইসিসি ম্যাচ অফিসিয়াল না পাঠালেও এবং এটা আইসিসির কার্যবিধিতে উল্লেখ আছে। আমরা তাহলে কার বক্তব্য বিশ্বাস করব?
কামাল : উনি কী বলেছেন আমি জানি না। তবে উনি এখন পর্যন্ত আইসিসির একটা সভায়ও যাননি। সভায় গেলে হয়ত উনি এটা বলতেন না। উনি হয়ত কার্যবিধি পড়েননি, বা কার্যবিধি হয়ত ওনার কাছে আসেনি। উনি যেটা বলতে চেয়েছেন বাংলাদেশের পাকিস্তানে যাওয়ার দরকার। এটা হল বাস্তবতা। এটা হল ওনার মনের ইচ্ছা। এটা আমারও মনের ইচ্ছা ছিল। আমি তো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি তো কখনো এটা প্রত্যাহার করে নেইনি। এটা ছেড়ে দেব বিসিবির ওপর। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রশ্ন: সাবেক বোর্ড সভাপতি (সাবের হোসেন চৌধুরি) আর বর্তমান সভাপতির (নাজমুল হাসান) মধ্যে গঠনতন্ত্র নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি। আপনিও সাবেক সভাপতি। কিভাবে সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন?
কামাল : আমি মনে করি এগুলো বসে সমাধান করা দরকার। সবাই আমরা ক্রিকেটের মানুষ। সাবের সাহেবও আমাদেরই মানুষ। পাপন সাহেবও ক্রিকেটের মানুষ। কেউ বিচ্ছিন্নভাবে এখানে আসেননি। বিদ্যমান যে গঠনতন্ত্র, সেটি অনেক ভুল-ভ্রান্তিতে ভরা। অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে। এটা স্বীকার করতে হবে। এই গঠনতন্ত্র রেখে আপনি কখনো পেশাদারীভাবে ক্রিকেট বোর্ড চালাতে পারবেন না। এখানে পরিচালকরা বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যান। তারা কাজ করেন। তারা যদি কাজ করেন তাহলে সিইও কী কাজটি করবেন? নির্বাহী তো কেউ থাকল না। তবে একটি সমাধান হয়েছে। সাবেক ক্রিকেটাররা বোর্ডের সঙ্গে কিভাবে থাকবেন তা নিয়ে যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছিল সেটি এখন আর নেই। এটি ভালো একটি উদ্যোগ।
