৬ মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৭ শতাংশ

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫৩
চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) রপ্তানি আয় পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সমর্থ হয় নি। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৭ শতাংশ। গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে রফতানি হয়েছে ১ হাজার ২৬০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৭৭ কোটি ডলার। আর গত ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৩০৫ কোটি ডলার। সেই হিসেবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রা থেকে রপ্তানি পিছিয়ে রয়েছে ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। ইপিবি’র প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে একক মাস হিসেবে গত ডিসেম্বর মাসে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ শতাংশের বেশি। আলোচ্য সময়ে ২৪০ কোটি ডলারের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২৪৭ কোটি ডলার। গত ২০১১-১২ অর্থবছরের ডিসেম্বর মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২০৬ কোটি ডলার। ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে সাড়ে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে অর্থবছরের বাকী অর্ধেকে ১ হাজার ৫৪০ কোটি ডলারের রপ্তানি করতে হবে। ইপিবি মনে করছে বছর শেষ নাগাদ চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। ইপিবি’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাকী ছয় মাসে রাজনৈতিক ও শ্রম অসন্তোষ না থাকলে এই লক্ষ্য অর্জন করা যাবে। তবে ক্রমাগত গ্যাস ও বিদ্যুত্ আর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে রপ্তানিকারকরা এখন ত্যক্ত-বিরক্ত। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে কি না তা নিয়ে তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। যদিও রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী মনে করেন বছরের বাকী ছয় মাসে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। তবে এ জন্য তেল-গ্যাস আর বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল থাকা এবং শ্রম অসন্তোষ না থাকা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকতে হবে। তিনি গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, এর আগে আমরা রপ্তানিতে ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করেছিলাম। এবার প্রবৃদ্ধির টার্গেট মাত্র ১৫ শতাংশ। তবুও গত ছয় মাসে আমরা তা অর্জন করতে পারিনি। রপ্তানির বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকায় মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করায় তাদের চাহিদা কমে যাচ্ছে। ফলে তারা ক্রমাগত দাম কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে দেশে গত একবছরে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে (শিল্পের জন্য) ২৫০ শতাংশ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে দফায় দফায়। ব্যাংক ঋণের সুদের হার পৃথিবীর যে কোন দেশের তুলনায় বেশি। অবকাঠামা সমস্যা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ফলে দিন দিন আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সম্ভাবনা থাকলেও আমরা তা ধরতে পারছি না। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, রপ্তানি আয়ে নেতৃত্বদানকারী তৈরি পোশাক খাতের নিটওয়্যার ও ওভেন খাতে রপ্তানি আয় বেড়েছে। তবে এই সময়ে নিটওয়্যার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সমর্থ হলেও ওভেন খাত কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। আলোচ্য সময়ে ৪৯৪ কোটি ৩৯ লাখ ডলারের নিট পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৪৯৭ কোটি ৫৯ লাখ ডলারের। একই সময়ে ৫০৯ কোটি ১৩ লাখ ডলারের ওভেন পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ঠিক করা হলেও রপ্তানি হয়েছে ৪৯৭ কোটি ডলারের। নিট ও ওভেন খাতে রপ্তানি আয় বেড়েছে যথাক্রমে প্রায় ৪ শতাংশ ১২ শতাংশ হারে। তবে রপ্তানি আয় পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেশিরভাগ রপ্তানি পণ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সমর্থ হয় নি। তবে গত ৬ মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে এমন পণ্যের তালিকায় অন্যান্য পণ্য হচ্ছে পাদুকা ১০ শতাংশ, চামড়াজাত পণ্য ১০৭ শতাংশ, কৃষিজাত পণ্য ২৪ শতাংশ, পেপার এন্ড পেপার প্রোডাক্ট ১৮ শতাংশ, রাবার ২৭ শতাংশ, হস্তশিল্পজাত পণ্য ৩২ শতাংশ, টুপি ১৩ শতাংশ, কটন ও কটন পণ্য ১৯ শতাংশ, প্রকৌশল দ্রব্য ১৪ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্য ৫ শতাংশ, সিরামিক পণ্য ২ শতাংশ, চামড়া ৭ শতাংশ। এছাড়া গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে এমন তালিকায় রয়েছে, বাইসাইকেল ২১ শতাংশ, সমদ্রগামী জাহাজ ৯৬ শতাংশ, হিমায়িত খাদ্য ২০ শতাংশ, রাসায়নিক পণ্য ২৬ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্য ৩ শতাংশ, বিশেষায়িত টেক্সটাইল ১১ শতাংশ, চা ২৫ শতাংশ, হোম টেক্সটাইল ও সিমেন্ট।