টেলিফোনে পাঠকের মতামত

দুই নেত্রীর অবস্থান

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:১৩
দুই নেত্রীকে একত্রে বসানো এবং আলোচনার টেবিলে আনা দেশ ও জনগণের কল্যাণের জন্য জরুরি। তা না হলে আন্দোলনের নামে হরতাল, অবরোধ, পিকেটিং হতেই থাকবে। আর নিরপরাধ কিছু মানুষ এই পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে, যা আমরা চাই না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে দুই নেত্রীকে একত্রে এবং এক টেবিলে কিভাবে বসানো যায়। দুইটি বড় দলের প্রগতিশীল জ্যেষ্ঠ নেতারা দুই নেত্রীকে একত্রে বসানোর কাজটি করতে পারেন। রাজনীতিতে সমাধান হবে না এমন কোন কঠিন অবস্থা কোনদিন ছিল না। তাই দুই নেত্রীকে একত্রে বসানো সম্ভব বলে মনে করি। এজন্য অভিনব একটি প্রস্তাব দিতে চাই। দেশের প্রতিষ্ঠিত এবং নামকরা দশটি বালিকা স্কুল থেকে দশজন বালিকা যাদের বয়স দশের ওপরে নয় এবং দশটি বালক বিদ্যালয় থেকে দশটি বালক যাদের বয়স দশের ওপরে নয় তারা এক সাথে দুই নেত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে একত্রে বসার জন্য তাঁদের আহ্বান জানাবে। এই দৃশ্যটি জাতীয় প্রচার মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করার ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। কারণ আমরা বড়রা যখন কোন সমাধানে আসতে পারি না তখন নিরুপায় হয়ে ছোটদের কাছেই যেতে চাই। সত্য কথা বলতে কী, ছোটদের আহ্বান কেউ ফেলতে পারে না এবং আমরা জানি উভয় নেত্রী ছোটদের অত্যন্ত ভালোবাসেন। এই প্রক্রিয়াটি করার জন্য অবশ্যই শুভ বুদ্ধির এবং সচেতন মানুষের ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়া দরকার। আমরা আছি সেদিনের শুভক্ষণের অপেক্ষায় যেদিন দুই নেত্রী একত্রে বসবেন, দেশের কল্যাণে কথা বলবেন এবং নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক নাকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হবে তার একটা সুরাহা অবশ্যই বের করবেন। ওয়াহিদ মুরাদ, নেসারাবাদ, পিরোজপুর আমরা চাই দুই নেত্রীর সমঝোতা। এক টেবিলে বসে বিদ্যমান রাজনৈতিক সকল সমস্যা, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে খোলা মনে মুক্ত আলোচনা। এ নিয়ে যেন রাজপথে কোন আন্দোলন, সংগ্রাম বা হরতালের মতো কঠোর কোন কর্মসূচি না দেয়া হয়। দেশের শন্তি-শৃঙ্খলা স্থিতিশীল থাকলে অভ্যন্তরীণ উত্পাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। এতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। অযথা রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নির্বাচনী ইশতেহারে মিথ্যা আশ্বাস দিতে হবে না যে, ক্ষমতায় গেলে আমরা ঘরে ঘরে চাকরি দেব। ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবো। মিরাজুল ইসলাম মাহির, রামগোপালপুর, মিরকাদিম, মুন্সীগঞ্জ দুই নেত্রী নিজেদের স্বার্থের জন্য নিজ নিজ অবস্থান থেকে আগামী নির্বাচনের পরিবর্তন করতে পারেন। কিন্তু দেশের স্বার্থের জন্য অথবা জনগণের স্বার্থের জন্য নয়। সৈয়দ হায়দার আলী, মহাখালী, ঢাকা আগামী নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে দুই নেত্রীর নিজ নিজ অবস্থান পরিবর্তনের অবশ্যই সুযোগ আছে। তাদের মতভেদ, ত্রুটি-বিচ্যুতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় একটি সুন্দর দেশ। এখানে অনেক কিছু করা সম্ভব। শুধু দেশনেত্রীত্ব ও দেশপ্রেমিক লোকের অভাব রয়েছে। বাইরের দেশগুলোর দিকে তাকাতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রতি নজর দিতে হবে। যেমন আমেরিকাতে ১৭৮৬ সালে মাত্র ৭৫ হাজার শব্দের ছোট একটি সংবিধান নিয়ে যে যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর বুকে পথ চলা শুরু করে সে দেশ আজ সারা পৃথিবীর ওপর নিজেদের শৌর্য ও বীর্য দেখাবার ক্ষমতা রাখে। সুতরাং আমাদের দেশে বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে সঠিক সিদ্ধান্তে এগিয়ে যেতে হবে। সবকিছু ভুলে গিয়ে দেশ উন্নয়নে আত্মত্যাগ করতে হবে। সৈয়দা নাসরিন সুলতানা, স্যানিসাইড, নিউইয়র্ক, আমেরিকা একটি সফল সংলাপের আয়োজন করতে হবে বর্তমান সরকারকে। সরকারদলীয় নেত্রী এবং প্রধানবিরোধী দলীয় নেত্রীকে এক টেবিলে বসিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করতে হবে; এবং প্রধান বিরোধী দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। যে কোন পন্থায় দুই নেত্রীকে এক টেবিলে বসিয়ে দেশের কথা, জনগণের কথা, আগামী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। বিগত দিনে বিএনপি সরকারের আমলে আমরা সাধারণ মানুষ ভাল থাকতে পারিনি; তারাও ক্ষমতায় এসে বহুবার জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুত্, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, হজ কেলংকারীসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান সরকারেরও একই অবস্থা তারা ক্ষমতায় এসে কয়েক দফা বিদ্যুতের, জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশ ছোঁয়া। প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। কোন অবস্থাতেই এই লাগাম টেনে ধরে রাখা যাচ্ছে না। বর্তমান সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা। বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়েও তারা শেয়ারবাজার চাঙ্গা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। দেশের কথা, জনগণের কথা কোন সরকারই ভাবনা-চিন্তাতেও আনে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে; সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেশবাসী আশা করে। তাই দুই নেত্রীকে এক টেবিলে বসিয়ে সংলাপ সফল করতে হবে। মো. লিটন গাজী দক্ষিণ টেংরা, সারুলিয়া, ডেমরা, ঢাকা-১২০৫ দুই নেত্রী কখনো তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবেন না। এটা অনেকটা নিশ্চিত। হাবিবুর রহমান, পুরান থানা, কিশোরগঞ্জ আগামী নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে নিজ নিজ অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ আছে অবশ্যই। বাংলাদেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চাচ্ছে। অমৃত বণিক, উন্নয়ন কর্মী, কিশোরগঞ্জ আমরা চাই দুই নেত্রীকে এক সংগে বসে আলাপ- আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অবাধ নির্বাচনের বিষয় নিয়ে কথা বলার বৈঠক। সাধারণ মানুষ আর চায় না অরাজকতা, তারা চায় শান্তি শৃঙ্খলাময় একটি দেশ। নীলুফা আক্তার, টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার একমাত্র পথ হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন রাজি হচ্ছেন না। কেননা উনারই এটি শ্লোগান ছিল। এ ব্যাপারে উনার একটা সুস্পষ্ট মতামত জানতে চাই। আবুল কালাম আজাদ, মিরপুর-১২, ঢাকা আমি মনে করি বর্তমানে সরকারের প্রশাসনিক যে অবস্থা —বিদ্যুত্, গ্যাস, সংকট, বাড়িওয়ালাদের বাড়ি ভাড়া ঊর্ধ্বগতিতে বেড়ে যাবার কারণে সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। আমার মনে হয় আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত এইভাবে গ্যাস, বিদ্যুত্ সংকটে মানুষ বাস্তুহারায় পরিণত হবে। অতএব আমি মনে করি বর্তমানে বাংলাদেশের দুই নেত্রীর কোন প্রয়োজন নেই, আমাদের প্রয়োজন নতুন প্রজন্মের। ফওজিয়া মুন্নী, পল্লবী, মিরপুর-১১, ঢাকা নির্বাচনকালীন বিষয়ে দুই নেত্রীর একত্রে বসার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে আশার আলো বলতে যখন সাধারণ মানুষের ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হবে এবং লগি-বৈঠা নিয়ে যখন রাজপথে নামবে তখন সমঝোতার সম্ভাবনা থাকবে। নুরুল হক, পশ্চিম আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, ঢাকা গণতন্ত্রের প্রধান শর্ত পারস্পরিক আলোচনা। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া এবং প্রতিপক্ষকে আস্থায় নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। দুই নেত্রী যদি জনগণের মনের ভাষা বোঝেন তবে তাদের অবশ্যই আলোচনার মাধ্যমে আগামী নির্বাচনের পথ তৈরি করতে হবে। অন্যথায় ইতিহাস শিক্ষা দেয় গতস্য শোচনা নাস্তি। মো. ফখরুল ইসলাম (টিপু), সেনবাগ, নোয়াখালী দুই নেত্রীর অবস্থান যদি পরিবর্তন না হয় তাহলে তো হবে না সমাধান। এটা তাঁদের জানা উচিত। যদি পরিবর্তন না করে তাহলে কী যে হবে তা পরে তাঁরা বুঝবেন। জহিরুল হক ভুইয়া, ৪৯৭/২, উত্তর ইব্রাহীমপুর, ঢাকা তাদের দুই জনের অবস্থান পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা নেই। বাতেন, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা বর্তমান সরকারের মুখে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা থাকলেও কাজে-কর্মে হয়নি তা। হলমার্ক কেলেঙ্কারি এবং ব্যাংক জালিয়াতিসহ অন্যান্য ঘটনার কলঙ্ক সরকারের গায়ে এখন লেগে আছে। একজন গরিব অসহায় মানুষ বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডের কলঙ্কও সহজে মোছা যাবে না। অন্যান্য হত্যাকাণ্ড, গুম ইত্যাদিকে এড়ানো যাবে না। গত মঙ্গলবার নোয়াখালীতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রথম এক বিশাল জনসভায় তিনি বলেছেন, ‘আমি কথা দিয়ে গেলাম আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। তিনি আরো বলেছেন, যাকে পছন্দ তাকে ভোট দেবেন। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হবে”। এ কথাগুলো জনগণ কতটুকু বিশ্বাস করবে? দেশের মানুষ চায় নিরপেক্ষ সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন। সরকারি দল চাচ্ছে তাদের দলে ভোট আর বিরোধীদল চাচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক দল ও সুষ্ঠু নির্বাচন। জনগণ বর্তমান সরকারের প্রতি কতটুকু আস্থা আছে সেটা ভাববার বিষয়। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি। তা যদি না হয় তাহলে দেশ আবারও ১/১১ থেকেও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই এখনই দুই দলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী, নোয়াখালী দুই নেত্রী যদি নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন না করেন তাহলে তো দেশ এক মহাবিপর্যয়ের দিকে যাবে। মো. আলমগীর ভালুকা বাজার, ভালুকা, ময়মনসিংহ দ্রব্যমূল্য, দুর্নীতি, ব্যাংক জালিয়াতি, বিশ্বজিত্ হত্যা ও টেন্ডারবাজিসহ সাধারণভাবে সুশাসনের অভাবে মানুষ এখন অসহায়। রাজপথ দিন দিন উত্তপ্ত হচ্ছে। মানুষ জানে বর্তমান বছরটি যাবে রাজনৈতিক সংঘাত, হানাহানি ও তীব্র অস্থিতিশীলতায়। সুতরাং দুই নেত্রীকে এখনই নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে পরিবর্তন আনতে হবে। মোহাম্মদ মোজাহারুল ইসলাম, সাভার, ঢাকা দুই নেত্রীকে একত্রে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চীনের মাও সেতুং বিশ শতকের মধ্যভাগে নতুন চীন গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে থাকেন। সেই দরিদ্র চীন আজ বিশ্বে প্রথম শ্রেণির ধনী। শিল্পে, খাদ্যে সাধারণ মানুষের সেবায় প্রথম শ্রেণির দেশ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দেশে দুই বড় দলকে এগিয়ে আসতে হবে সংলাপে, সমঝোতায়; তাহলে সুষ্ঠ,ু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। কাউছার আকন্দ, মতিঝিল, ঢাকা দুই নেত্রীকে বলবো আপনারা সব ভুলে গিয়ে একজন অন্যজনকে ভক্তি করুন, আন্তরিক হোন। সংসদ ছাড়াও যে কোন একটি স্থানে দুইজন বসুন। সেদিন অর্থাত্ অর্ধশতাব্দী আগে শ্রীলংকা বিলেতীদের হাত থেকে স্বাধীন হলো। সেখানে আজ শিক্ষার হার শতকরা সাতানব্বই। অথচ আমরাও আজ স্বাধীন কিন্তু আমরা স্বাধীনতার পর ’৪১ বছরে কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি! এখানে অভাব দেশ পরিচালনায় একজন আদর্শ মানুষের। দেশের মানুষ একজন আদর্শবান নেতৃত্ব চায়। নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হোক জাতীয় সংসদ। সংসদ হোক রাষ্ট্রের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু, এই আমাদের প্রত্যাশা। এম.কে. মোহাম্মদ রমিজ উদ্দিন জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয় দুই প্রধান দল দুই মেরুতে চলছে। একজন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অন্যজন বলছে তাদের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন। কিন্তু আমরাও বলছি তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সুতরাং দুইজনকে দুই প্লাটফর্ম থেকে ফিরে আসতে হবে। মোস্তানসিরুন করিম, ধানমন্ডি, ঢাকা আগামী নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে দুই নেত্রীর অবস্থান পরিবর্তন অবশ্যই দরকার। এইভাবে থাকলে দেশ আরো বিশৃঙ্খলার দিকে যাবে। আমরা চাই একটা সমঝোতার মাধ্যমে দুই নেত্রী এগিয়ে আসবে। ফারুক আলম, মালিবাগ, ঢাকা আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যদি জনগণ যাকে ভোট দেবে তবে নিরপেক্ষতার মাধ্যমে ভোট দিতে সমস্যা কোথায় প্রধানমন্ত্রীর। আর বর্তমানে যে এতো গুম, খুন হচ্ছে এটার কি কোন বিচার হবে না? মোতাহারুল ইসলাম, শান্তিনগর বাজার, ঢাকা বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল, যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের মত এমন অনেক বিষয় নিয়ে দেশ ও রাজনীতির মাঠকে উত্তপ্ত করে। বিরোধী দল বিষয়গুলোকে ইস্যু করে হরতাল, অবরোধ, সমাবেশ ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করে আসছে। এতে করে বিরোধী দল লড়তে লড়তে কাবু হয়ে পড়েছে। ৫ বছরের ১ম বছর যেতেই বলেছিল, সরকার বদল ও সরকারের পরিবর্তন চাই। কাজের কাজ কিছুই হলো না। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল তাদের দাপটে পুরো দেশকে ও প্রশাসনকে নিজেদের দখলে নিয়ে যায়। বর্তমানে দু’নেত্রীর কাছে তেমন কোন ছক্কা-পাঞ্জা নেই। সরকারি দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা দিতে বাধ্য হবে। সবকিছু এখন জনগণের দখলে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভালো করেই জানেন, সবাইকে নিয়ে নির্বাচনে গেলে হারবেন একা গেলেও হারবেন। সবচেয়ে ভালো হয় দু’নেত্রীর বিপক্ষে গিয়ে তৃতীয় কোন পক্ষ আসলে। রহিমা আক্তার, তেজগাঁও, ঢাকা অবশ্যই দুই নেত্রীর অবস্থান পরিবর্তনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। অবস্থা পরিবর্তনের প্রধান টনিক হচ্ছে দুই নেত্রীর সদিচ্ছা। বিচার মানি কিন্তু তালগাছটা আমার —গ্রাম্য এই নোংরা প্রথা থেকে বর্তমানের রাজনীতিকে বেড় করে আনতে হবে। আর এটা সম্ভব দুই নেত্রীর পক্ষেই। দুই নেত্রীর কাছে অনুরোধ, জেদাজেদি করে রাজনীতিকে কলংকময় করবেন না। রাজনীতি দেশের মঙ্গলের জন্য এই ধ্রুব সত্য কথাটি বাস্তবে পরিণত করুন আপনাদের মেধা ও রাজনৈতিক কৌশল দিয়ে। দুই নেত্রীকে যুগ যুগ ধরে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে রাজনৈতিক কৌশলী হিসাবে। মন্জু খন্দকার, চুয়াডাঙ্গা আগামী নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে দুই নেত্রীর নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদার মনোভাব নিয়ে অবশ্যই এগিয়ে আসা উচিত। বিরোধী দল সরকারের একটি অংশ, এটা মানতেই হবে শাসকদলকে। দুই নেত্রী নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকলে গণতন্ত্র মুখ থুবরে পড়বে। উভয় নেত্রী রাষ্ট্র ও গণমুখি না হলে রাজনীতিক হিংসা, প্রতিহিংসা বাড়বে দেশে খুন, খারাপি, সন্ত্রাস জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাবে। দেশ এমনিতেই অস্থিতিশীল হয়ে আছে রাজনৈতিক কারণে, তাই এখনও সুযোগ রয়েছে দুই নেত্রীর সামনে আগাবার। দুই নেত্রী নিজ নিজ অবস্থান থেকে উঠে এসে আন্তরিকতা ও উদারতা নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে একমত পোষণ করার সুযোগটি এখনি গ্রহণ করতে পারেন। শাহ্ মো. হেলালউদ্দিন হিরু, কালিহাতী, টাঙ্গাইল নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে দুই নেত্রীর নিজ নিজ অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ অবশ্যই আছে। যেহেতু তাঁরা দেশের উচ্চ অবস্থানে আছেন এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে তাঁদের ইচ্ছার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই তাই আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে, আমরা তাদের কাছ থেকে সুন্দর একটা সমাধান উপহার পাবো। যেহেতু আমরা ১/১১ দেখেছি। জনগণ আর এটা চায় না। তাই আলোচনাই হলো পরিবর্তনের সুন্দর মাধ্যম। ওরায়দুল ইসলাম, মংলা, বাগেরহাট নেত্রীদের অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলে জনগণ ভাবছে। কারণ তাঁরা দু’জন যেভাবে দুমেরুতে অবস্থান করছেন তা পরিবর্তন করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ তাঁদের দ্বন্দ্ব হলো আদর্শের দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বের কখনো অবসান হবে বলে মনে হয় না। ফারুক আহমেদ, রাজশাহী আগামী নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে দুই নেত্রীর জেদাজেদির অবস্থান জনস্বার্থে বিসর্জন দিতে হবে। সময়ের বিবর্তনে এবং দেশসেবার প্রয়োজনে আমাদের জনপ্রতিনিধিত্বকারী সাংসদদের যে কোন আইন-কানুন পরিবর্তনের ক্ষমতা অবশ্যই আছে। তবে আমাদের কথা হচ্ছে যে, মা হাওয়া নিজের কুমন্ত্রণায় লোভের বশবর্তী হয়ে মহান আল্লাহতায়ালা কর্তৃক নিষিদ্ধ গন্ধম বৃক্ষের ফল ভক্ষণের কারণে বাবা আদমসহ নিজে যেমন বেহেস্ত থেকে এ ধরাতে নিক্ষেপিত হয়েছিলেন তেমনি আমাদের দুই প্রধান নেত্রীও তাদের আশপাশে থাকা ইবলিশ কুমন্ত্রণাদাতাদের বেড়াজাল থেকে বের হয়ে এসে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন পদ্ধতি খুঁজে পেতে ব্যর্থ হলে আমরা সেই ঘৃণিত ১/১১ তে আবার নিক্ষেপিত হবো না তো? প্রার্থনা করি, দুই নেত্রীর এইগুলোর আর পুনরাবৃত্তি হবে না। মো. লুত্ফর রহমান, এলিফেন্ট রোড, ঢাকা আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে করতে হলে দুই নেত্রীকে সহনীয় ভূমিকায় আসতে হবে। তবে বিরোধী দলীয় নেত্রী যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করছেন এটা শুধু তার ব্যক্তিগত দাবি নয়। এই দাবি দেশের অধিকাংশ মানুষের। এদেশে দলীয় সরকারের অধীনে প্রহসনবিহীন নির্বাচন এখন পর্যন্ত হয়নি। তাই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেশের মানুষ মেনে নেবে না। সেই অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হাসিনার উচিত নীতিবান ও দায়িত্বশীল হওয়া। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনেক অসত্ ব্যক্তিরা ঘুরাঘুরি করে। সেই ব্যক্তিরা তাকে নিয়মিত কুপরামর্শ নিয়ে থাকে এবং প্রধানমন্ত্রী যার কারণে সবসময় চরমভাবাপন্নভাবে কথা বলছেন। এরকম চলতে থাকলে দেশে অশান্তির দাবানল ধেয়ে আসবে। সাইফুল ইসলাম তানভীর, মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট দেশের দু’নেত্রীর অবস্থান দুই মেরুতে। আগামী নির্বাচনের আগে দু’নেত্রীর এক মেরুতে অবস্থান করা উচিত। নিজ নিজ কঠিন অবস্থান থেকে সরে এসে দুই নেত্রী নির্বাচনে সহযোগিতা করলে নিশ্চয়ই সঠিকভাবে নির্বাচন হতে পারবে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করে থাকে তবে অবশ্যই দু’নেত্রীর একত্রে বসে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনের জন্য সঠিক গণমুখি ফরমুলা বের করা উচিত। আশা এলিজাবেত গোমেজ, লক্ষ্মী বাজার, ঢাকা-১১০০ আমরা অনেক দঃখভারাক্রান্ত মনে মতামত প্রকাশ করছি যে, দেশের শীর্ষ দুইনেত্রী এমন অবস্থানের পৌঁছাছে যে কোন সতীন অন্য সতীনের সাথেও এমন আচরণ করেন না। দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা তো দূরের কথা ২১ শে নভেম্বর সেনাকুঞ্জের একই ছাউনির নীচে বসে কেউ কারোর সাথে কুশল বিনিময় তো দূরের কথা মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত করেননি। ভাবতে অবাক লাগে দেশটি কি তাদের স্বামী বা পৌতৃক ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত? তা না হলে গণতান্ত্রিক দেশে তাদের এমন আচরণ কিসের ইঙ্গিত বহন করে। তাই তাদের দ্বারা আগামী নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি কোন সমস্যার সমাধান হবে না। এজন্য দরকার গণভোট। মোবাইলের মাধ্যমেও তা সম্পন্ন করা যায়। মাহিরু ইসলাম জেসিকা, রিকাবী বাজার, মুন্সিগঞ্জ অবশ্যই দুইনেত্রীর অবস্থানের পরিবর্তনের যথেষ্ট সুযোগ আছে। যদি তাঁরা মনে করেন দেশ ও জনগণের জন্য রাজনীতি করবেন আর তাঁরা যদি মনে করেন তাঁদের কর্মকাণ্ডের কারণে ১/১১-র পূর্বাবস্থা তৈরি করবে তাও পারবেন। বর্তমানে দুইনেত্রী আগামী নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে মুখোমুখি অবস্থানে আছেন যে ভাষায় একে অপরকে আক্রমণ করছেন এতে সাধারণ জনগণ মানুষ হতভম্ব। তাই ইদানীং ১৮ দলীয় নেত্রী সংলাপের বিষয়ে তলে তলে সংলাপ এই বাক্যটি ব্যবহার করছেন জোরেসোরে কিন্তু কেন তা জনগণের বোধগম্য নয়। আইনের প্রতি যদি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা থাকে তাহলে নির্বাচন বিষয়ে সংসদে যে সংশোধনী আনা হয়েছে এবং উচ্চ আদালত থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা মেনে নিয়ে দেশ ও জনগণের কথা চিন্তা করে নির্বাচন করাই ভালো তা না করে যদি রাজনীতিকে শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার বা ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার মনে করা হয় তাহলে দু’দলই ভুল করবেন। অন্যদিকে এর খেসারত দিতে হবে জনগণকে। নির্বাচন কমিশনকে দিয়েই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব। এজন্য রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত করা মোটেই উচিত নয়। জহির আব্বাস, তেজগাঁও, ঢাকা বিগত নির্বাচনে আমরা দেখেছি ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বলছে এবং পরাজিত দল স্থুল/ সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে আমাদের নিশ্চিত বিজয়কে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। আবার মহাজোটের নেত্রী সেনাশাসিত ঐ তিন উদ্দিনের অধীনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সকল কর্মকাণ্ডকে ক্ষমতায় গিয়ে বৈধতা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে এখন বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছিল অবৈধ। সেজন্য সংবিধান থেকে তা বিলুপ্ত করেছে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে। এক্ষেত্রে আমার মনে হয় উভয় জোটের নেতারাই জানেন যে নির্দলীয় তত্ত্ববধায়ক সরকারকে কিভাবে ম্যানেজ করে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে। তা-না হলে বিরোধী জোটের নেত্রী এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য মরিয়া হলেও একদিন তিনিই বলেছিলেন— পাগল ও শিশু ছাড়া কেউ নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ নয়। অথচ বর্তমানে তাদের অবস্থানে নিজেরা অনড় কেউ কাউকেই ছাড় দিতে নারাজ। নিজেদের ভাগে যদি তালগাছটা না পড়ে তবে কেউ তা মানবে না। সে জন্য দেশকে অরাজকতা ও সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে উভয় জোটের ৫ জন করে ১০ জন, অন্যান্য দলের ৫ জন, নির্বাচন কমিশনার (অব) ৫ জন, বিচার বিভাগের (অব) ৫ জন, সিভিল সোসাইটির ৫ জন, সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে অপরাজিত নিকটতম প্রার্থী ৫ জন, ৩ পৌরসভার পরাজিত মেয়র প্রার্থী ৫ জন— এই ৫০ জনের সমন্বয়ে গোলটেবিল বৈঠকে মুক্ত আলোচনাটি একযোগে সকল মিডিয়ায় বাধ্যতামূলক সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে দেশের সকল নাগরিককে সচেতন করে একটি গণভোটের আয়োজন করা যেতে পারে। এতে জনগণ তাদের মত নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি বাছাইয়ের সুযোগ পাবে তেমনি বর্তমান নির্বাচন কমিশন কতটুকু স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ এবং তাদের ওপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগে কতটুকু পটু তা প্রমাণিত হবে। অন্যথায় দেশের প্রচলিত প্রায় ৯ কোটি মোবাইলের অপশন ৪টি নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি যেমন ক) নির্বাচিত দলীয় সরকার খ) সর্বদলীয় সরকার গ) অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘ) নির্দলীয় ও তত্ত্ববধায়ক সরকার— যেখানে প্রত্যেকটি মোবাইলের মাধ্যমে সাংবিধানিক মতে রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণই নির্ধারণ করবে আগামী জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতির প্রকৃত রূপরেখা। অযথা দুইনেত্রীর ঝগড়া ফেসাদের ঘৃণিত দৃশ্য আমরা আর দেখতে চাই না। কামরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, রিকাবীবাজার, মুন্সিগঞ্জ আগামী নির্বাচন সরকার প্রশ্নে দুই নেত্রীকে একসঙ্গে বসে কথা বলতে হবে। দুই নেত্রী বসে সিদ্ধান্ত নেবেন কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। রোকসার আন্নুর ১ম বর্ষ, বাইয়োকেমিস্ট্রি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি বর্তমান সরকার এবং সরকার প্রধান নিজেদের দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার জন্য দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী দল ও বিরোধীদলীয় নেত্রী নিজেদের অধীনে নির্বাচন না চেয়ে নির্দলীয় নির্বাচনের জন্য অবস্থান নিয়েছেন। এখানে দু’নেত্রীর বা দু’পক্ষের অবস্থানের পরিবর্তনের সুযোগ দেখছি না। দেশের স্বার্থে ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে অবশ্যই সরকার ও সরকার প্রধানের অবস্থান পরিবর্তন হওয়া দরকার। দেশের সিংহভাগ মানুষ কোনভাবেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চান না। শাহ্ ই আলম, সরল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম আগামী নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে দুই নেত্রীর সহাবস্থান অপরিহার্য । এক্ষেত্রে দুই নেত্রীর সদিচ্ছাই যথেষ্ট কিন্তু বাদ সেধেছে দুই নেত্রীর একগুঁয়েমি এবং একে অপরের ওপর নগ্ন আক্রমণ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জনসভায় মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রীকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে যেভাবে আক্রমণ করছেন তাতে দেশের জনগণ হিসাবে আমরা বিব্রতবোধ করছি। এক্ষেত্রে বিরোধীদলীয় নেত্রীর মানসিকতা কী হতে পারে তা আমরা অনুমান করতে পারি। তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রীর মুক্তিযুদ্ধকালীন অবস্থানের কথা বলছেন, তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন। এগুলো তো নতুন করে বলার কিছু নেই। দেশের মানুষ সবই জানে— জেনেই দুই দুই বার প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেত্রী কিছু কিছুু বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করছেন তাতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দলীয় আক্রমণ করছেন যা ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। যাহোক দুই পক্ষের কোন প্রকার আক্রমণই কাম্য নয়। এক্ষেত্রে দুই দলের রাজনীতিবিদদেরও ভূমিকা আছে। তাদের বাঁশে তেল মাখানো আগে বন্ধ করতে হবে তাহলে দেশ আরামসে উপরে উঠে যাবে। দুই পক্ষই যদি দেশের মানুষকে ভালবাসেন, দেশের উন্নয়ন চান তাহলে তাদের সহাবস্থান অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে রাজনীতির নষ্ট সময় অতিবাহিত হচ্ছে। যেখানে কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। অবশ্য বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কোন কারণও নেই। যেখানে সরকারি দল মুখে বলছে এক রকম, কাজ করছে আরেক রকম। বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেই আমরা লক্ষ করছি যেমন বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ড। এক্ষেত্রে বিভিন্ন নাটকীয়তার মাধ্যমে খুনিদের ধরা হলো। কিন্তু অযৌক্তিক ময়নাতদন্ত রিপোর্ট তৈরী করে খুনিদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাছাড়া আমরা লিমন, সাগর-রুনিসহ অসংখ্য ঘটনা সম্পর্কেও জানি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা এমনটি লক্ষ করছি। অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা তো আছেই। এমন একটা অবস্থায় দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে দেশের মানুষ কিভাবে আস্থা রাখবে? এ অবস্থায় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার অত্যন্ত জরুরী আর এজন্য দুই নেত্রীর সহাবস্থান দরকার। এ সহাবস্থানের জন্য আগে দুই নেত্রীর মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। যেহেতু অবিশ্বাসের রাজনীতি চলছে তাই নিজেদের মধ্যকার হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে দুই নেত্রী অন্তত সহাবস্থানে আসবেন। মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, সারিয়াকান্দী, বগুড়া রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। কাজেই বর্তমান দুই নেত্রীর অনড় অবস্থানের পরিবর্তন দেশ, জাতি সর্বোপরি তাদের নিজেদেরই স্বার্থে ঘটবে বলে আমরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি। তাছাড়া বাংলাদেশের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বিরোধী দলের দাবিই শেষ পর্যন্ত গণদাবিতে পরিণত হয়। সেই গণদাবিকে পরোক্ষ কিংবা প্রত্যক্ষভাবে উপেক্ষা করে ক্ষমতাসীন সরকার ও দল বরং নিজেদের প্রতি গণঅসন্তোষকে উসকে দেয় মাত্র। আখেরে গণদাবিই প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তার ভুরি ভুরি নজির দুই নেত্রীর ঝুলিতেও মজুত আছে। লক্ষণীয়, এ পর্যন্ত সংবিধান বিশেষজ্ঞগণ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও রাজনীতি বিশেষজ্ঞগণ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ, আঠার দলীয় বিরোধী ঐক্যজোট নেতৃবৃন্দ, দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থাগুলো, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাগণ, প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনের সদস্যবৃন্দ এমনকি মহামান্য আদালত পর্যন্ত নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে। কাজেই বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার সর্বজনগ্রাহ্য সকল মত ও পক্ষের বিরুদ্ধাচরণ করে নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যাপারে কোন আত্মঘাতী পদক্ষেপ নেবে না বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। অন্যদিকে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের অন্যতম রূপকার বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ও তার দল। কাজেই আমাদের বিশ্বাসের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার জন্য বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ও দলকে সত্বর এগিয়ে আসার আকুল আহ্বান জানাচ্ছি। ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী বড় দুইটি রাজনৈতিক দলের দুই নেত্রীর মধ্যে সমঝোতার কোন লক্ষ্য নেই বরং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটের মধ্যে দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। বাড়ছে অবিশ্বাস ও সন্দেহ ;ফলে জনগণের মনে হতাশা দেখা দিয়েছে সরকারের চার বছরের অর্জন ও ব্যর্থতার মিশ্র চিত্র সামনে আসে। নির্বাচনী ইশতেহারে অগ্রাধিকার ভিত্তিক বিষয়গুলোর অধিকাংশ অপূরণীয় রয়ে গেছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মূল্যস্ফীতি লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়লেও তার জন্য গ্রাহকদের অতিরিক্ত মূল্য দিতে হচ্ছে। মজুতদার, মুনাফাখোর, চাঁদাবাজ, সিন্ডিকেট ভাঙ্গা সম্ভব হয়নি। দারিদ্র্যবিমোচনে অগ্রগতিও যত্সামান্য। সবচেয়ে বড় সমস্যা দুর্নীতি বন্ধ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পূরণে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি বিরোধী দল হিসেবে যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে ১৮ দলীয় জোট। ফলে দেশের ১৬ কোটি মানুষের কাঁধে চাপছে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এক বিশাল বোঝা। হয়নি আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি। স্বাধীন দেশের ভেতরে আজও মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই। না থাকার কারণ হলো রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা। জনগণ তাদের আশা পূরণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো ভোট দেয়। তারা ক্ষমতায় গিয়ে নিজেদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যস্ত থাকে। দেশ আজ মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের শিকার। সাধারণ মানুষেরা মনে করছেন দেশের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠানের কোন বিকল্প নেই। বর্তমানে দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে তা এক কথায় আশংকাজনক। যখন তখন গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, এমনকি হত্যার মত ঘটনা ঘটছে। এমন অবস্থায় মহাজোট সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রশ্নে ঐকমত্য খুবই জরুরি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিএনপি নাকি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে আন্দোলন করছে। দেশবাসী ও আমাদের কথা হলো, বিএনপি নির্দলীয় সরকারের পরও যদি দলটি আন্দোলন অব্যাহত রাখে সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের অভিযোগটি সত্য প্রমাণিত হবে। অন্তত সে কারণে দুই নেত্রীর মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠানের একটা সূচনা করা উচিত সরকারের। এ ব্যাপারে আন্তরিক হয়ে উঠবে দুই রাজনৈতিক দল এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। দেলোয়ার হোসেন দেলু, নিউ খানপুর, নারায়ণগঞ্জ আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে পোশাকশিল্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া শতাধিক তাজাপ্রাণ, যারা জীবন জীবিকার জন্য নিশ্চিন্তপুরে এসেছিল, নিশ্চিন্ত হতে। শেষাবধি নাম পরিচয়হীন হয়ে, শেষ ঠিকানা হলো জুরাইনের কবরস্থানে। তাজরীন ফ্যাশনের এই ঘটনা আশুলিয়া ট্রাজেডি হয়ে থাকবে স্বজন হরানোদের কাছে, থাকবে দেশ ও জাতির ইতিহাসে। অথচ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরে যে শোক ও মাতম সৃষ্টি হয়েছে তখন রাজনৈতিক বক্তব্য বিবৃতি শুনলে মনে হয় অগ্নিকাণ্ডে অঙ্গার হয়ে যাওয়া লাশের প্রতি মশকরা করছি। অতীতেও একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক জানমালের ক্ষতি হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এধরনের ঘটনা না ঘটে, তার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে, প্রশাসনিক দুর্বলতা, অব্যবস্থাপনা, দুর্বল অবকাঠামো দূর করতে হবে। নিম্নমানের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার পরিহার করতে হবে। নিরাপত্তার সব ধরনের সতর্কমূলক পদক্ষেপ নিয়ে বহির্গমন পথগুলো উন্মুক্ত রেখে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চৌকস উদ্ধার কর্মী গঠন করতে হবে। বাংলাদেশে ঘরশত্রু বিভীষণের অভাব নেই, তাই নাশকতাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিশ্ববাজারের বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট ইতিমধ্যে চুক্তি বাতিল করছে, নাশকতা সৃষ্টিকারীদের লক্ষ্য যদি এভাবে পূরণ হয়, তাহলে বলতে হবে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই নাশকতার পথ আরো দীর্ঘ হয়ে কৃষি ও পোশাকশিল্প ব্যবস্থা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে প্রাণসঞ্চার করেছে, তা ব্যাহত হয়ে দেশকে অন্ধকার বিবরে টেনে নেবে। রাজনীতির সকল বিতর্ক ভুলে, সকলকে জাতীয় এই সমস্যাকে দূর করতে হবে দেশপ্রেমের অগ্নিমন্ত্রে। মুরাদ হোসেন, মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর