ভারতের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪৪
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হেরে ভারত হতাশায় ডুবেছে। সময়টা ভালো যাচ্ছে না মহেন্দ্র সিং ধোনি বাহিনীর। এমন পরিস্থিতিতে আজ শুক্রবার রাজকোটে দিনরাত্রির ম্যাচটিতে সফরকারী ইংল্যান্ডের অনভিজ্ঞ আক্রমণভাগের সামনে আশার আলো দেখছে স্বাগতিকরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে হতাশা ছেড়ে বেরিয়ে স্বরূপে ফিরতে চাইবে স্বাগতিক ভারত। ভারত নিজের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে ১-২ ব্যবধানে। ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডার পুরোপুরি ব্যর্থ ছিল সফরকারীদের বিপক্ষে। ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্য চরম মূল্য দিতে হয়েছে মারকুটে ওপেনার বিরেন্দর শেবাগকে। ভারতীয় নির্বাচকরা তাকে দলের বাইরে রেখে দারুণ ফর্মে থাকা চেতেশ্বর পুজারাকে নিয়েছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম তিন ওয়ানডের জন্য। সৌরাষ্ট্রের হয়ে রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে কর্ণাটকের বিপক্ষে ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকান পুজারা। তিনি একাদশে খেলার জন্য মুখিয়ে আছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে দিল্লিতে নাটকীয়ভাবে শেষ ওয়ানডে জয় করে ভারত দশ রানে। মান বাঁচানো জয়। কম রান ওঠা ম্যাচও ছিল এটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো করতে হলে শতভাগ দিতে হবে ধোনির দলকে। কারণ ইংল্যান্ড এর আগে ভারতের মাটিতে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। বড়দিনের ছুটির প্রাক্কালে উভয় দেশের মধ্যকার দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হয়েছে ১-১ ব্যবধানে। টেস্ট সিরিজে জেতা অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকই ইংল্যান্ডের ওয়ানডে দলটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু তাদের বোলিং আক্রমণ অনভিজ্ঞ। টেস্টের কার্যকরী ও অভিজ্ঞ বোলাররা নেই। ভারতীয়দের জন্য এটা একটা সুযোগও। ধোনি পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরিসহ করেছেন ২০৩ রান। টপ অর্ডাররা ব্যর্থ ছিলেন। সুরেশ রায়না দ্বিতীয় সেরা ব্যাটসম্যান। তিন ম্যাচে ৯২ রান করেছিলেন রায়না এবং তার সেরা ইনিংস ৪৩ রানের। ওপেনার গৌতম গম্ভীর এবং দিল্লি সতীর্থ বিরাট কোহলি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাজে খেললেও বাদ পড়েননি। যুবরাজ সিং স্বরূপে ছিলেন না। পাকিস্তানের পেস আক্রমণ সুবিধা করতে দেয়নি এই তিনজনকে। ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণভাগ অনভিজ্ঞই বলা চলে। টিম ব্রেসনান ও স্টিভেন ফিন নেতৃত্ব দেবেন আক্রমণের। রাজকোটে অবস্থিত এ স্টেডিয়ামের উইকেট ব্যাটিংবান্ধব। ফলে ব্যাটসম্যানদের জন্য খেলাটি হবে নিজেদের মেলে ধরার ভালো একটি সুযোগ। সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট এসোসিয়েশন (এসসিএ) স্টেডিয়াম সম্পর্কে এই এসোসিয়েশনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সেখানে তিনশ রান তো হতেই পারে। ছুটি কাটিয়ে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলার আগে দুইটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে ইংলিশরা। ইংল্যান্ডের এই আক্রমণভাগকে তুচ্ছ করে জিতেছে দিল্লি একাদশ ও ভারতীয় ‘এ’ দল। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন আপে কুক, ইয়ান বেল, কেভিন পিটারসেন এবং ইয়ন মরগ্যান রয়েছেন। এছাড়া দ্রুত রান তুলতে সমর্থ উইকেটরক্ষক ক্রেইগ কিসউইটার ও জোসেফ বাটলার দলকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেন। ভারতীয় পেস আক্রমণও তরুণনির্ভর। সামি আহমেদ ও ভুবেনেশ্বর কুমার পাকিস্তানের বিপক্ষে বোলিংবান্ধব উইকেটে ভালো করেছেন। তারপরও অভিজ্ঞ ইশান্থ শর্মাকে পথ দেখাতে হবে তরুণদের। স্পিনে ভারতের অস্ত্র রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবিন্দ্র জাদেজা এবং যুবরাজ সিং। দুপুরে ম্যাচ শুরু হবে। তাই দিনের শেষে শিশির প্রভাব ফেলবে ম্যাচে। এই সিরিজটি ভারতের সম্মানের লড়াইও বটে। ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল ইংল্যান্ড। শীর্ষস্থানে থাকাটা তাদের চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে ভারতের সুযোগ এক নম্বরে আসার। এই সিরিজটি ভারত ৫-০ তে জিতলে র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে উঠে আসতে পারে। ২০০৮ সালে ভারত সিরিজ জিতেছিল এমনভাবে। ইংল্যান্ড ভারতের মাটিতে প্রায় তিন দশক পর টেস্ট সিরিজ জিতেছিল। ওয়ানডেতেও তারা ভালো কিছু করতে চায়। ভারত-ইংল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ ফিকশ্চার ১১ জানু. প্রথম ওয়ানডে, রাজকোট দুপুর ১২:৩০ মিনিট ১৫ জানু. দ্বিতীয় ওয়ানডে, কোচি দুপুর ১২:৩০ মিনিট ১৯ জানু. তৃতীয় ওয়ানডে, রাঁচি দুপুর ১২:৩০ মিনিট ২৩ জানু. চতুর্থ ওয়ানডে, চন্ডিগড় দুপুর ১২:৩০ মিনিট ২৭ জানু., পঞ্চম ওয়ানডে, ধর্মশালা সকাল ৯:৩০ মিনিট