অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মেলবোর্নে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নতুন করে ফিরে আসতে চায় তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়া শ্রীলংকা। অভিজ্ঞ পেসার লাসিথ মালিঙ্গা দলে ফিরে আসায় কিছুটা হলেও লংকান দলে বাড়তি আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
টেস্ট ক্রিকেট নয় বরং ছোট ঘরানার ক্রিকেটেই নিজেকে বেশি জড়িত করার প্রয়াসে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলেননি মালিঙ্গা। কিন্তু অন্য পেসারদের তুলনায় ভিন্নধর্মী অ্যাকশনের কারণে ইতোমধ্যেই বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানদের সমীহ আদায় করা মালিঙ্গাকে মোকাবিলা করা অজি ব্যাটসম্যানদের জন্যও যে খুব একটা সহজ হবে না তা তারা ভালই উপলব্ধি করতে পারছে। টেস্ট না খেললেও অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি বিগ ব্যাশ লিগে মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে ঠিকই তিনি মাঠ মাতিয়েছেন।
ওয়ানডে সিরিজে বেশ কিছু পুরনো মুখকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করে শ্রীলংকা নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপন করতে চাইছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আকিলা ধনঞ্জয়, উপুল থারাঙ্গা, অজন্তা মেন্ডিস এবং বিগ ব্যাশে খেলা জীবন মেন্ডিস এবং থিসারা পেরেইরা। এ সম্পর্কে অল রাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস বলেছেন, ‘বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ওয়ানডে দলে যোগ দেয়ায় আমি মনে করি এটা আমাদের জন্য একটি নতুন শুরু। টেস্ট ম্যাচে আমরা যেভাবে খেলেছি সেটা খুবই হতাশাজনক। কিন্তু আমাদের এখন সবকিছু পিছনে ফেলে ওয়ানডে সিরিজের প্রতি মনোযোগ দেয়া উচিত। আমাদের সাথে যোগ দিয়েছেন লাসিথ মালিঙ্গা। আর তাই আমাদের বোলিং বিভাগ আরো বেশি শক্তিশালী হয়েছে। আমি মনে করি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মালিঙ্গাই এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা বোলার।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওয়ানডে ম্যাচের অতীত রেকর্ড থেকে শ্রীলংকা অনুপ্রেরণা পেতেই পারে। গত বছর সাত ম্যাচে লংকানদের জয় ছিল চারটিতে। এ ছাড়াও ২০১০ সালে শ্রীলংকান ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করেছিল তারা। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এর আগে খেলা তিনটি ওয়ানডে ম্যাচেই লংকানরা জয়ী হয়েছিল। আর তাই টেস্ট সিরিজে মাইকেল ক্লার্কের দলের কাছে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত হবার পরে ওয়ানডে সিরিজের আগে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে লংকানরা আত্মবিশ্বাসী হতেই পারে।
এদিকে স্বাগতিক নির্বাচকরা টেস্ট দলের থেকে ক্লার্ক, ম্যাথিউ ওয়েড এবং ডেভিড ওয়ার্নারকে প্রথম দুই ম্যাচে বিশ্রামে রেখেছেন। সাথে সাথে টপ অর্ডারে তিনজন ব্যাটসম্যানকে ডাকা হয়েছে যারা এখনও জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাননি। এদের মধ্যে ফিল হিউজেস এবং উসমান খাজার টেস্ট অভিষেক হলেও অ্যারন ফিঞ্চ এখনও জাতীয় দলে খেলেননি।
তবে নতুন এই অসি দল সম্পর্কে মোটেই বিচলিত নন শ্রীলংকান কোচ গ্র্যাহ্যাম ফোর্ড। তিনি বলেছেন, আমরা আমাদের ক্রিকেটের ওপর মনোনিবেশ করবো, তারা কোন দল নামাবে এটা সম্পূর্ণ তাদের ব্যাপার। তবে তাদের দলে এমন কয়েকজন খেলোয়াড় আছেন যারা সত্যিকার অর্থেই ম্যাচ জয়ে ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে সে রকম কয়েকজন খেলোয়াড় দলে না থাকায় সেটা সত্যিই স্বস্তিদায়ক। আমাদের দলেও বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ওয়ানডে খেলোয়াড় আছেন।
ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সাথে পঞ্চম স্থানে থাকা শ্রীলংকার পয়েন্টের ব্যবধান মাত্র তিন। স্বাগতিক দল মূলত ২০১৫ সালের ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলে এ ধরনের পরিবর্তন এনেছে বলেই সংশ্লিষ্টদের দাবি।
ক্লার্কের অবর্তমানে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক জর্জ বেইলি দলকে নেতৃত্ব দিবেন। আর ওয়েডের স্থানে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন ব্র্যাড হ্যাডিন। তবে গত সপ্তাহে সিডনিতে ক্যারিয়ারের ৭৯তম টেস্ট খেলে অবসরে যাওয়া সিনিয়র ব্যাটসম্যান মাইক হাসির জায়গা হয়নি ওয়ানডে দলে। -বাসস
অস্ট্রেলিয়ার দল
জর্জ বেইলি (অধিনায়ক), অ্যারন ফিঞ্চ, ফিল হিউজেস, উসমান খাজা, ডেভিড হাসি, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ব্র্যাড হ্যাডিন, ক্লিন্ট ম্যাককে, মিশেল জনসন, মিশেল স্টার্ক, জাভিয়ার ডোহার্টি, স্টিভ স্মিথ (দ্বাদশ ব্যক্তি)।
শ্রীলংকা
মাহেলা জয়াবর্ধনে (অধিনায়ক), অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, তিলকরত্নে দিলশান, উপুল থারাঙ্গা, লাহিরু থিরিমান্নে, দিনেশ চান্দিমাল, লাসিথ মালিঙ্গা, নুয়ান কুলাসেকারা, থিসারা পেরেইরা, আকিলা ধনঞ্জয়, অজন্তা মেন্ডিস, জীবন মেন্ডিস, সুরাঙ্গা লাকমাল, রাঙ্গানা হেরাথ, কুশাল পেরেইরা, সামিন্দা এরাঙ্গা।
