ধলপুর সিটি বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় অর্ধশত ঘর পুড়ে গেছে। গতকাল সকাল পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রচণ্ড শীতে বস্তির প্রায় একশ’ পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বস্তির একটি ঘরের পাশে ছাই থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রচণ্ড শীত নিবারণ করতে বস্তির কয়েকজন ছেলে কাগজ ও পুরানো কাপড় দিয়ে আগুন জ্বালায়। পরে ঐ আগুনের ছাই থেকে সকাল পৌনে ১০ টার দিকে আগুন পাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬ টি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভানো শুরু করে। অগ্নিকাণ্ডে অনেকে বিভিন্ন ঘরে আটকা পড়েন। আশেপাশের লোকজন আটকে পড়া কয়েকজনকে উদ্ধার করে। এসময় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা তিনজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে। সকাল সোয়া ১১ টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এসময়ের মধ্যে বস্তির প্রায় অর্ধশত ঘর ছাই হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে খিচুড়ি বিতরণ করা হয়।
এদিকে, রাজধানীর পূর্ব রামপুরা এলাকায় গ্যাসের চুলার আগুনে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। এরা হলেন পিংকন বনিক (৪০), গীতা রানী (৫৫), পিংকনের স্ত্রী পিংকি (৩০) এবং তার দুই সন্তান পিকু বনিক (৪) ও পিনন বনিক (২)। এদের মধ্যে গীতা রানীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে, ধলপুর সিটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশত ঘর পুড়ে গেছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্ব রামপুরার হাইস্কুল গলির ৮৪/৯ নম্বর বাড়ির ছয়তলার ফ্ল্যাটে প্রচণ্ড শব্দে আগুন ধরে যায়। অগ্নিকাণ্ডের পর আশেপাশের লোকজন গিয়ে তা নেভানোর চেষ্টা করে। এর আগে অগ্নিকাণ্ডে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিদগ্ধ গৃহকর্তা পিংকন আমেরিকান দূতাবাসের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা। তার বাড়ি চট্টগ্রামের মীরেরসরাই উপজেলায়। পিংকনের স্ত্রী পিংকির ভাই তপন জানান, দুই দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল ওই এলাকায়। এর মধ্যে চুলার সুইচ অন ছিল। এতে পুরো ঘর গ্যাসে ভর্তি হয়ে যায়। ভোরে চুলা জ্বালাতে গেলে ঘর জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তারা দগ্ধ হন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটের চিকিত্সক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, গীতা রানীর শরীরের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি আরো জানান, পিংকনের শরীরের ৮২ শতাংশ, পিংকির ১৫ শতাংশ, পিকুর ১১ শতাংশ ও পিননের শরীরের ৯ শতাংশ পুড়ে গেছে।
