বিসিএল ফাইনালে মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৯
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ফাইনালে উঠেছে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল ও বিসিবি উত্তরাঞ্চল। মিরপুরে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল শুক্রবার শেষ দিনে ব্যাটসম্যানদের বাজে ব্যাটিংয়ের খেসারত দিয়ে প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল ১৭০ রানে হেরে গেলে উত্তরাঞ্চল উঠে আসে ফাইনালে। ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের বিরুদ্ধে মধ্যাঞ্চলের খেলাটি বগুড়ায় ড্রয়ে শেষ হলেও দলটি আগে থেকেই পয়েন্ট টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কারণে শিরোপা লড়াইয়ে যোগ দেয়। উত্তরাঞ্চল কাল খেলা শুরুর পর মাত্র আড়াই ঘণ্টার ভিতরে দক্ষিণাঞ্চলের আট উইকেট ফেলে দিয়ে ম্যাচ জয়ের সুবাদে পুরো ছয় পয়েন্ট তুলে নেয়। তিন ম্যাচে দলটি এক জয়, দুই ড্রয়ের সুবাদে পেয়েছে ১২ পয়েন্ট। এর মধ্যে আছে দুটি বোনাস পয়েন্টও। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চল বিসিএলের শেষ রাউন্ডের খেলাটিতে কোন পয়েন্টই পায়নি। তিন ম্যাচে তাদের সংগ্রহ কেবল সাত পয়েন্ট। মধ্যাঞ্চল বগুড়ায় ড্র করলেও এই ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট পেয়েছে। সব মিলিয়ে লিগ পর্বে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে তারাই থাকে শীর্ষে। ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের সংগ্রহ ৭। তাদের অবস্থান সবার নিচে। অফ স্পিনার সাকলাইন সজীব মিরপুরে ম্যাচ সেরা হলেও দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাটসম্যানরাও কম দায়ী নন। আগের দিনের দুই উইকেট হারানো দক্ষিণাঞ্চল কাল লাঞ্চের আগে আরো পাঁচ উইকেট খোয়ালে ম্যাচটি হাত ফসকে যায়। মাঝে কিছু সময় সোহাগ গাজীর ঝড়ো ব্যাটিং (৮৫) এবং সৌম্য সরকারের অর্ধশতক কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছিলো দক্ষিণাঞ্চল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি তারা। লাঞ্চের পর আধাঘণ্টার মধ্যে বাকি তিন উইকেট খুঁইয়ে ফেলে তারা। দক্ষিণাঞ্চলের অধিনায়ক আব্দুর রাজ্জাকও এই হারে দুষলেন ব্যাটসম্যানদের, ‘আমরা পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলেছি। কিন্তু আজ (কাল) ব্যাটসম্যানরা বাজে শট খেলেছে। তাদের শট দেখে আমি নিজেও হতাশ’। আট নম্বরে নেমে সাময়িক ঝড় তোলা সোহাগ সতর্ক থাকলে দলের পরাজয়ের মধ্যেও সেঞ্চুরি পেতে পারতেন। কিন্তু ৫০ বলে ৮৫ রান করে তাকে ফিরে যেতে হয়েছে নাসির হোসেনের বলে। উত্তরাঞ্চলের নাসির মাত্র তিন বলে শেষ দুই উইকেট নিলে অলআউট হয়ে যায় রাজ্জাকের দল। টপ অর্ডাররা যখন আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে বসে পরাজয়ের ক্ষণ গুনছেন, সোহাগের প্রয়াসে হারের ব্যবধান কমেছে। খেলা শেষে তিনি নিজেও স্বীকার করেন তা, ‘আমি চেষ্টা করেছি যতটা সম্ভব পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর। ম্যাচ তো সকালেই হেরে গেছি। ইচ্ছা ছিল যতক্ষণ ব্যাট করা যায়’। মাত্র ৩৩ বলে ফিফটি পাওয়া সোহাগের পরের ৩৫ এসেছে ১৭ বলে! চারটি ছয় ও ১৩টি চার মেরেছেন তিনি। তার মত অন্য ব্যাটসম্যানরাও রান পেলে দিনটি দক্ষিণাঞ্চলের হতে পারতো। ম্যাচ শেষে আফসোস ঝরেছে কোচ ও ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের কণ্ঠেও, ‘আমরা অবশ্যই আজ সারাদিন টিকে থাকতে পারতাম। কিন্তু সকালের দিকে ব্যাটসম্যানরা এমন কিছু শট খেলে আউট হয়েছে। যা শেষ পর্যন্ত আমাদের টিকতে দেয়নি’। ম্যাচ হারার জন্য দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাটসম্যানরাই শুধু দায়ী তা নয়। অবদান আছে উত্তরাঞ্চলের সাকলাইনেরও। প্রথম ইনিংসের ছয় উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও চার উইকেট তার। ২০ উইকেটের মধ্যে ১০টি নিয়েছেন এই বাঁ-হাতি স্পিনার। ম্যাচ সেরাও হয়েছেন, তবে আরো ভালো বল করার ইচ্ছা ছিল তার। কাল ম্যাচ শেষে সাকলাইন বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল আরো ভালো বল করার। এই ম্যাচে যেটা পারেনি, ফাইনালে সেটা করার চেষ্টা করবো’। সকালে ঘন কুয়াশার কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরে খেলা শুরু হয়েছে। নির্ধারিত ৯০ ওভারের পরিবর্তে খেলাটি নামিয়ে আনা হয় ৭৫ ওভারে। তারপরও পারেনি দক্ষিণাঞ্চল। ফাইনালে উঠা উত্তরাঞ্চলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম অবশ্য এই ম্যাচের ব্যাপারে কিছু বলতে চাননি। চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজের অনুভূতির কথা সবাইকে জানাবেন। এ তথ্য জানিয়েছেন ম্যানেজার দেবব্রত পাল। বিসিএলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে বিপিএলের পর। যদিও দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। সংক্ষিপ্ত স্কোর: প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল ২০৫ ও ২৭৮/১০ (সোহাগ ৮৫, সৌম্য ৬১, জিয়া ৩৫, রাব্বি ৩০, তুষার ২৩, সাকলাইন ৪/৯০, নাসির ২/০)। বিসিবি উত্তরাঞ্চল- ২৯১ ও ৩৬২/৭ ডিক্লেয়ার- (মুশফিক ৮৯, নাসির ৮৮, ফরহাদ অপ: ৭৫, রাজ্জাক ৩/১২৯)। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাকলাইন সজিব (বিসিবি উত্তরাঞ্চল)। ফল: বিসিবি উত্তরাঞ্চল জয়ী ১৭০ রানে।