অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য দল বাছাইকে প্রাধান্য দিয়ে ১৪ জানুয়ারি থেকে ১০টি দল নিয়ে শুরু হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। সারাদেশের পাঁচটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে তিনদিনভিত্তিক এই প্রতিযোগিতার খেলাগুলো।
প্রায় ৬৭ লাখ টাকা বাজেটের এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৩ ফেব্রুয়ারি। বগুড়া ও রাজশাহী ছাড়াও বাকি তিনটি ভেন্যু হচ্ছে রংপুর ক্রিকেট গার্ডেন, দিনাজপুরের জেলা স্টেডিয়াম ও বড় ময়দান গ্রাউন্ড।
উদ্বোধনী দিনে রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে ঢাকা বিভাগ, উত্তর ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ঢাকা মেট্রো ও খুলনা বিভাগের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টটি শুরু হবে। ঢাকা বিভাগকে এবারই তিনটি আলাদা দলে ভাগ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টটির আয়োজক গেম ডেভেলপম্যান্ট কমিটি এসব তথ্য জানান।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নির্বাচকরা আগামী এক বছর দল তৈরির ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের পর্যবেক্ষণ করবেন। সে লক্ষ্যে বয়স ভিত্তিক এই টুর্নামেন্টকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বেশ গুরুত্বের সাথেই নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) খেলা চলাকালীন বিসিবি সংশ্লিষ্টরা এ কাজে কতটা কি করতে পারবেন সে প্রশ্নও উঠেছে।
বিসিবি’র গেম ডেভেলপম্যান্ট কমিটির চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন লিপু জানান, মাসব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় তারা খেলোয়াড়দের পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করবেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ভেন্যুতে আমরা বিসিবির সাথে চুক্তিবদ্ধ প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের রাখার ব্যবস্থা করছি। তারা ম্যাচ দেখে তাদের মতামত আমাদের জানাবেন। খেলোয়াড়দের খেলা দেখে দিনশেষে তাদের ভুল ভ্রান্তিগুলোও ধরিয়ে দিবে’।
বিসিবিতে চাকরিরত জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের কোচদের এসব টুর্নামেন্টে দায়িত্ব দেয়া হলেও তারা সঠিকভাবে খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য পর্যবেক্ষণের কাজ করেন না বলে অভিযোগ আছে। গেম ডেভেলপম্যান্ট কমিটির চেয়ারম্যান এই অভিযোগের কথা স্বীকার করলেও তিনি একই সাথে নিজেদের সীমাবদ্ধের কথাও জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা সবকিছুতেই নজর দেয়ার চেষ্টা করছি। আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, গেম ডেভেলপম্যান্ট এর সাথে সংশ্লিষ্টদের বলেছি সব বিষয়ে যেন আমাকে অবহিত করা হয়’।
লিপু প্রসঙ্গক্রমে জানান, এই প্রতিযোগিতা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য দল তৈরি করতেও বিসিবির কাজ সহজ করে দেবে। অভিযোগ আছে এই টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়ে তরুণ ক্রিকেটারদের অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে। কিন্তু বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘প্রতিটি বিভাগ ৩৫জন খেলোয়াড়ের তালিকা জমা দেয়। ডাক্তারের মাধ্যমে তাদের বয়স নির্ণয় করে ফের জেলা পর্যায়ে থেকে সেটা যাচাই করা হয়। এরপর ১৭টি ভেন্যুতে ৫০ ওভারের ম্যাচে নক আউট খেলা হয়। প্রতিটি বিভাগ থেকে বাছাই করে ২৫-৪০ জন খেলোয়াড় বাছাই করা হয়। তাদেরকে বিভাগীয় ও জেলার কোচদের দ্বারা চারদিনের ক্যাম্প করানো হয়। এরপর বিভাগীয় পর্যায়ে ১৮ জন খেলোয়াড় বাছাই করা হয়’।
এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করলেও ক্রিকেট বোর্ড এখনো প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তবে গেম ডেভেলপম্যান্টের সদস্য জালাল আহমেদ চৌধুরী আশাবাদী, তরুণ ক্রিকেটাররা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন। কারণ ইতোমধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটে এসব তরুণরা খেলছে।
অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতার দলগুলো
গ্রুপ- এ গ্রুপ- বি
ঢাকা দক্ষিণ ঢাকা উত্তর
খুলনা রাজশাহী
রংপুর সিলেট
ঢাকা মেট্রো বরিশাল
চট্টগ্রাম বিকেএসপি
