যারা বলে রক মিউজিক ভালো না তারা আসলে মিউজিকটাই বুঝে না

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:০৩
৬৪টি ব্যান্ডের সমন্বয়ে ‘হাতিয়ার’ অ্যালবামটির পটভূমি শুনতে চাই। এই অ্যালবামটি আসলে কয়েক বছরের পরিকল্পনা আমার। সর্বোতভাবে সহযোগিতা করেছেন জি-সিরিজের খালিদ ভাই। কারণ তরুণ ব্যান্ডদল নিয়ে কাজ করাটা আসলেই অনেক কঠিন। তবে আমি এদিক দিয়ে খুব লাকি যে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় এই অ্যালবামটি শেষ পর্যন্ত করতে পেরেছি। অ্যালবামে কি শুধু সংখ্যা বিচারেই ব্যান্ডদল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, নাকি গানের মানও যাচাই করা হয়েছে? অবশ্যই গানের মান যাচাই করা হয়েছে। কারণ যদি সংখ্যার মানে অ্যালবামটি তৈরি করতে চাইতাম তাহলে তিনশ’র ওপরে ব্যান্ডদল রাখতে পারতাম। কারণ আমি ৩৬০টি ব্যান্ডদল থেকে বাছাই করে এই অ্যালবামে ৬৪টি ব্যান্ড রেখেছি। যা বাংলাদেশের রেকর্ড। এটা আমি অহংকার করার জন্য নয়। যে কারও পক্ষে এই কাজটি সম্ভব না। অন্যদিকে যদি বলি অ্যালবাম অ্যারেঞ্জমেন্টের কারণে আপনার নিজের কম্পোজিশন বা স্টুডিও সেশন একেবারে কমে গেছে... এই অভিযোগটা নিয়ে আসলে আমার কিছু বলার নেই। কারণ প্রায় ২ যুগ তো আমি সাউন্ড গার্ডেন স্টুডিওতে কাজ করেছি। হাজার রকম সাউন্ড নিয়ে কাজ করেছি। আমার গুরু ইমরান আহমেদ চৌধুরী মবিন ভাইয়ের কাছ থেকে একটু একটু করে কাজ শেখা। মবিন ভাই মারা যাওয়ার পর কেন জানি এক ধরনের আক্ষেপ আর মর্মবেদনা থেকেই আলাদা হয়ে যাই। কিছুই করতে ইচ্ছে হয়নি তখন। একবার দেশ ছেড়ে চলেও যেতে চেয়েছিলাম। পরে একুশে টিভির চেয়ারম্যান সালাম ভাই আমাকে এক মহা দায়িত্ব দিয়ে অন্য এক নেশায় ডুবিয়ে দিলেন। সেটা কী রকম? ইএমএল অর্থাত্ একুশে মিউজিক ল্যাব নামের গানের নতুন ধারার একটি প্লাটফর্ম তৈরি করার সুযোগ দিলেন। এটা আমার জন্য অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এবং আল্লাহর রহমতে মাত্র দুই বছরে ইএমএল ব্যান্ডপ্রেমীদের অন্যতম প্লাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন ইএমএলকে পূর্ণাঙ্গ মিউজিক চ্যানেল হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলছে। এখনকার আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ডদলগুলো এক পর্যায়ে আর গানে থাকে না। এই ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী? এটা প্রত্যেক ক্ষেত্রেই হয়। তবে আমি মনে করি এখনকার ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি পারদর্শী এ ব্যাপারে। আমরা এখন আন্তর্জাতিকমানের রক করছি। এটা নিঃসন্দেহে বলতে পারি। কিন্তু জনপ্রিয়তার তালিকা থেকে তো রক মিউজিক ধীরে ধীরে সরে আসছে... এটা সাময়িক। যারা মিউজিক পারে না, দুই তিনটা সফটওয়্যার জোগার করে ল্যাপটপ নিয়ে বসেছে তাদের একই রিদমের তামিল মিউজিক বেশিদিন শ্রোতারা গ্রহণ করবে না। রক মিউজিক সব সময় শীর্ষে ছিল এবং আছে। যারা বলে রক মিউজিক ভালো না তারা আসলে মিউজিকটাই বুঝে না। কণ্ঠশিল্পী দূরেকেও ইদানীং পাওয়া যায় না। এর কারণ কি টিভিতে ব্যস্ততা? হয়তো। আমার সর্বশেষ সলো অ্যালবাম বের হয় ২০০৩ সালে ‘মেঘবালিকা’। এরপর গত বিশ্বকাপে একটি গান করেছিলাম। তবে দীর্ঘদিন পর এ বছর আবার সলো অ্যালবামের কাজ শুরু করব বলে ভাবছি।